দি ইকনোমিস্টের দু’টি প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার
মুরাদ মাহমুদঃ বাংলাদেশকে নিয়ে প্রকাশিত প্রভাবশালী ব্রিটিশ সাময়িকী দি ইকনোমিস্টের দু’টি প্রতিবেদনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
ইকোনমিস্টের ২৬ মের অনলাইন সংস্করণে “লিডারস ও এশিয়া” বিভাগে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে দু’টি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ‘পলিটিক্স ইন বাংলাদেশ: ব্যাংগড অ্যাবাউট’ প্রতিবেদনে বলা হয়, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে ‘বিপজ্জনক পথে’ নিয়ে যাচ্ছেন। সৌদি কূটনীতিককে গুলি করে হত্যা, ট্রেড ইউনিয়ন নেতাকে নির্যাতন করে হত্যা, দুর্নীতি নিয়ে অনুসন্ধান করায় সাংবাদিক দম্পত্তিকে নৃশংসভাবে হত্যা-গত কয়েক মাসে বাংলাদেশে রহস্যজনক বেশ কয়েকটি হত্যাকাণ্ড হয়েছে।”
“বাংলাদেশস টক্সিক পলিটিক্স: হ্যালো দিল্লি” প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে ধ্বংসের হাত থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ঠেকাতে ভারতকে পদক্ষেপ নিতে পরামর্শ দেওয়া হয়। দুটি প্রতিবেদনেই বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর ‘নিখোঁজ’ হওয়া, বিরোধী দলের শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো, গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সরকারের পদে পদে হেনস্তা করার চেষ্টার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।”
শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবাদ লিপিতে বলা হয়, “গত কয়েকবছর ধরে আপনার স্বনামধন্য সাময়িকীতে বিশেষ করে বাংলাদেশ সম্পর্কে প্রকাশিত প্রতিবেদনের মান দেখে আমরা গভীরভাবে মর্মাহত। আমরা আপনাদের প্রতিবেদকদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, পররাষ্ট্র মন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন এবং জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনকে উদ্ধৃত করে ওই প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, “সাম্প্রতি সময়ে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই প্রতিবাদ লিপিতে আরো বলা হয়, ওই দু’টি প্রতিবেদনে বর্তমানের বাংলাদেশ সম্পর্কে প্রতিবেদকের শুধু অতিমাত্রায় অজ্ঞতাই প্রতিফলিত হয়নি, বরং তা ভুল তথ্যে পরিপূর্ণ এবং প্রতিবেদন দু’টিতে অযথার্থ উপসংহার টানা হয়েছে।কোনো প্রমাণ ছাড়াই সাংবাদিক হত্যা এবং তাদের উপর হামলার জন্য সরকারকে দায়ী করা- ইকনোমিস্টের একটি বিদ্বেষপূর্ণ কাজ এবং সাত্যিকার অর্থেই দুর্বল সাংবাদিকতার উদাহরণ।এই দু’টি প্রতিবেদনে ইকনোমিস্ট বাংলাদেশের জনগণের প্রতি চরম অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করেছে এবং নগ্নভাবে বিদেশি হস্তক্ষেপকে উস্কে দিয়েছে। ভবিষ্যতে প্রতিবেদন লেখার আগে সাময়িকীটিকে বিষয় সম্পর্কে ভালভাবে জেনে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয় প্রতিবাদলিপিতে।




