রোহিঙ্গাদের নিয়ে জামায়াতে আরাকান গঠনের পরিকল্পনা ছিল – জঙ্গি নেতা কাফিরের স্বীকারোক্তি
আহসান সুমন,
জেলা প্রতিনিধি,
বিডি ২৪ লাইভ ডটকম:
প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারের নির্যাতিত মুসলমানদের সংগঠিত করে “জামায়াতে আরাকান” নামে নতুন জঙ্গি সংগঠনের উথ্যান ঘটানোর পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছিল জঙ্গিরা। সে ক্ষেত্রে জাতিগত দাঙ্গায় তাদের উপর অমানুষিক নির্যাতনের দুর্বলতার সুযোগকেই খুব বেশী কাজে লাগানো এবং রোহিঙ্গা মুসলমানদের সশস্ত্র প্রশিক্ষন প্রদানের মাধ্যমে জঙ্গিরা দক্ষিন চট্টগ্রামকে আরও একটি আরাকান রাজ্য ঘোষনা করার প্রচেষ্টা ছিল বেশ ভাবনার মত। সেই পরিকল্পনার জন্য কৌশল পত্র নির্ধারণ, মানচিত্র পতাকা তৈরী সহ সংবিধানও রয়েছে তাদের। বাংলাদেশে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবি, হিযবুত তাহরির, হিযবুত তাওহিদ এবং পাকিস্তান ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই তৈয়বা, হরকাতুল জিহাদ, জয়েশ-ই মোহাম্মদ, মিয়ানমারের বিদ্রোহী জঙ্গি রাহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও), আরাকান মুভমেন্ট, আরাকান পিপলস ফ্রিডম পার্টি, আরাকান রোহিঙ্গা ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন (এআরএনও), আরকান রোহিঙ্গা ইউনিয়ন নামের বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠণের কর্মী এক সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে। এদের সাথে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আল কায়দা জড়িত রয়েছে। কক্সবাজারে পুলিশের হাতে আটক ৪ জঙ্গির মধ্যে জঙ্গি নেতা আবদুল্লাহ ফেল কাফির দেয়া স্বীকারোক্তিতে এসব তথ্য বের হয়ে আসে। ১৭ সেপ্টেম্বর সকালে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোঃ তৌহিদুল ইসলামের নিকট জবানবন্দি প্রদান করেন এই জঙ্গি নেতা।
এসময় সে আরও জানায়, কক্সবাজার এসেই তারা প্রথমে অর্থ সংকটে পড়ে। তাই নিজেদের পকেটের টাকায় সবার সমন্ময়ে একটা ফান্ড তৈরী করা হয়। আর সেখানে কাফি নিজেই ২২ হাজার টাকা দেয়। বাকিদের মধ্যে ফারুক ৫০ হাজার, খালিদ আরাফাত ৩৮ হাজার, মেগদাদ ৫০ হাজার ও হযরত আলী ৬ হাজার টাকা জমা দেয়। সেই ফান্ডের টাকাগুলো দিয়ে তারা বান্দরবানের গহীণ অরণ্যে জঙ্গি ঘাঁটি পরিচালনা এবং জামায়াতে আরাকানের নতুন সদস্যদের জন্য কল্যাণ তহবিল করা।
জেএমবির শুরা সদস্য ও “জামায়াতে আরাকান” গঠনের অন্যতম উদ্যোক্তা জঙ্গি নেতা কাফি আদালতে আরও জানায়, ২০১১ সালের ডিসেম্বর মাসে বান্দরবানের গহীণ অরণ্যে তারা আস্তানা গড়ে। সেখানে আস্তানা গড়ার মুল লক্ষ্য অনুযায়ি নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ছিল মিয়ানমার সীমান্তবর্তী কক্সবাজার ও বান্দরবানের পাহাড়ি এলাকা। পাশাপাশি এখানে অবস্থানরত কিছু প্রভাবশালী রোহিঙ্গা নেতার ছত্র-ছায়ায় থেকে তাদের আর্থিক এবং সার্বিক সহযোগিতায় কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের দু’টি শরণার্থী ক্যাম্পের বাছাই করা উৎসাহী রোহিঙ্গাদের সংগঠিত করে তাদের জঙ্গি কর্মকান্ড শুরু করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করে। সে জন্য প্রাথমিক ভাবে ইউনুছ ও বেলাল নামে দু’জন রোহিঙ্গা জঙ্গি নেতা কাফি-ফারুকদের নগদ ৩ লাখ টাকা প্রদান করেন। এর আগে থেকে তাদের দলের নেতৃত্বে ছিল তারেক সালমান ওরফে রুহুল আমিন নামে শীর্ষ এক জেএমবি নেতা। তার সহযোগীতায় রোহিঙ্গা বেলালের দেয়া সেই টাকা দিয়ে জঙ্গিরা পাহাড়ে কৃষি খামারের মাধ্যমে ছাগল পালনের প্রস্তুতি আর নানা ধরনের চাষাবাদ করার পরিকল্পনাও গ্রহন করে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কক্সবাজার আদালত পাড়ার কয়েকজন প্রত্যক্ষ্যদর্শী ও বিশ্বস্থ কিছু সুত্রের মাধ্যমে এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা গেছে। অপরদিকে এ প্রসঙ্গে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ বাবুল আক্তার এক প্রশ্নের জবাবে আদালতে জঙ্গি নেতা আবদুল্লাহ ফেল কাফির ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দেয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেন। সেই সাথে কাফির কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের সুত্র ধরে তারা আগামীতে আরও চাঞ্চ্যল্যকর জঙ্গি তৎপরতা খুঁজে বের করা ও তাদের রাষ্ট্র বিরোধি কর্মকান্ডের সন্ধান মেলানো সম্ভব হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন জঙ্গি আটক অভিযানে নেতৃত্বদানকারী এই পুলিশ কর্মকর্তা।
উল্লেখ্য, গত ২ সেপ্টেম্বর চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল মুরগিডাঙ্গা গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে মোঃ আব্দুল্লাহ ফেল কাফি ওরফে জঙ্গি কাফি (২৬) সহ আরও ৪ যুবককে আটক করে পুলিশ। সে সময় তাদের কাছ থেকে জিহাদী বই, সাংগঠনিক কাগজপত্র, ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী, পুস্তিকা, মুখপত্র হিসেবে আত-তাহরীদ নামে একটি মাসিক পত্রিকা ও ডায়েরি উদ্ধার করা হয়।




