রোহিঙ্গা মুসলমানরা রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের শিকার : হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

August 1, 2012 7:44 pmViews:

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বা এইচআরডাব্লিউ মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর গণহত্যা ও নির্যাতনের জন্য সেদেশের সরকারকে দায়ী করেছে। আজ (বুধবার) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি বলেছে, “মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর গণহারে হত্যা ও যৌন নির্যাতন চালিয়েছে। তারা উগ্র বৌদ্ধদের হাত থেকে মুসলমানদের রক্ষার পরিবর্তে তাদের ওপর নির্যাতনে অংশ নিয়েছে।”

এইচআরডাব্লিউ’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত জুন মাসে রোহিঙ্গা মুসলিম বিরোধী ভয়াবহ দাঙ্গার সময় সরকার মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে দুর্গত এলাকায় যেতে দেয়নি। এ দাঙ্গার ফলে অন্ততঃ এক লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ঘর-বাড়ি হারিয়ে পথে বসেছেন। তাদের বেশিরভাগের বসত-ভিটা লুটের পর জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। এসব অসহায় মানুষের এখন জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য, আশ্রয় ও চিকিতসা প্রয়োজন।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর চালানো এ সহিংসতা প্রমাণ করে, মিয়ানমার সরকার জাতিগত বৈষম্য করছে না বলে দাবি করলেও রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় মুসলিম নিধন ও তাদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ চলছে।  ৫৬ পৃষ্ঠার এ প্রতিবদেনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, “সরকারি সেনারা রোহিঙ্গাদের লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালিয়েছে।”

একজন প্রত্যক্ষদর্শী এইচআরডাব্লিউ’কে বলেছেন, “উগ্র বৌদ্ধরা আমাদের ঘর-বাড়িতে আগুন লাগানোর পর আমরা যখন ঘর থেকে বেরিয়ে আসি তখনই নাসাকা বাহিনী আমাদের ওপর গুলি চালায়। তারা সাধারণ মানুষকে ধরে ধরে বেদম পেটায়। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিভাগের পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস বলেছেন, রোহিঙ্গা মুসলমানরা যখন সংঘবদ্ধ সহিংসতার শিকার হয়, তখন মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী তাদেরকে রক্ষা করতে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দেয়।  নিউইয়র্কভিত্তিক এ মানবাধিকার সংস্থাটি মিয়ানমারের মুসলমানদের ওপর পরিকল্পিত দমন অভিযানের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সমাজের নীরবতারও নিন্দা জানিয়েছে। প্রতিবেদনে রোহিঙ্গা বিরোধী দাঙ্গায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি দুর্গত এলাকায় মানবিক সাহায্য পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করার জন্য মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহবান জানানো হয়েছে। সৌজন্যে: রে.তে.

Rank