যৌতুকের বলি নওগাঁর সুবর্নাঃ হত্যাকারীদের শাস্তির দাবীতে কলেজ শিক্ষার্থীদের মানব বন্ধন

June 27, 2012 5:30 pmViews:

হারুন-অর-রশিদ চৌধুরী, নওগাঁ প্রতিনিধিঃ নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার তেজাপাড়া গ্রামে স্বামীর যৌতুকের দাবীতে পাশবিক নির্যাতনে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের মেধাবী ছাত্রী সুবর্না নিহতের ঘটনায় মানব বন্ধন পালন করেছে বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা।

বুধবার শহরের মুক্তির মোড় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে প্রধান সড়কে বেলা ১২টা থেকে ১ টা পর্যন্ত ঘন্টাকাল ব্যাপী এ মানবন্ধন কর্মসূচি পালন করে।

মানব বন্ধন চলাকালে অন্যান্যের মধ্যে ছাত্রনেতা মতিউর রহমান মিঠু, জয়ন্ত প্রামানিক, অপু প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। বক্তারা সুবর্নার হত্যাকারীদের সকলকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করেন তারা। পরে শিক্ষার্থীরা খুনীদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবীতে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন তারা।

উল্লেখ্য নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার তেজাপাড়া গ্রামে সোমবার পাষন্ড স্বামী কর্তৃক ৭ মাসের অন্তঃসত্তা স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। পুলিশ ঘাতক স্বামী সুকেন্দ্রনাথকে গ্রেফতার করেছে। এদিকে সুবর্নার সহপাঠিরা নওগাঁ বিশ্ব বিদ্যালয় কলেজে ঘাতক স্বামীর দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবীতে মানব বন্ধন পালন করেছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসীদের সুত্রে জানা গেছে, জেলার বদলগাছী উপজেলার তেজাপাড়া গ্রামে সন্তোষ মন্ডলের ছেলে সুকেন্দ্রনাথ মন্ডল (৩৫) এর সঙ্গে বগুড়া জেলার নন্দিগ্রাম উপজেলার নাগরকান্দী গ্রামের নিতাই চন্দ্র প্রামানিকের মেয়ে সুর্বনা (২২) এর সাথে ১ বছর পূর্বে বিয়ে হয়। বিয়ের সময় সুর্বনার পিতা নিতাই চন্দ্র যৌতুক হিসাবে জামাই সুকেন্দ্রনাথকে ৬ লক্ষ টাকা ও ৬ ভড়ি স্বর্ণ প্রদান করেন। বিয়ের ছয় মাস পরেই সুর্বনার যৌতুক লোভী স্বামী সুকেন্দ্রনাথ আরও যৌতুকের টাকা দাবি করে। কিন্তু সুর্বনার পিতা যৌতুকের টাকা দিতে ব্যর্থ হলে সুকেন্দ্রনাথ তার স্ত্রী সুর্বনাকে তার পিতা মাতা ও আত্মীয় স্বজনদের সঙ্গে সকল প্রকার আত্মীয়তা ছিন্ন করে দেয়। যৌতুকের টাকা না পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে সুকেন্দ্রনাথ সহ তার পরিবারের সকলেই কারণে অকারণে সুর্বনাকে মানসিক ও শারীরিক ভাবে নির্যাতন করত।।

সুকেন্দ্রনাথ জেলার মহাদেবপুর উপজেলার মাতাজিহাট অগ্রণী ব্যাংক শাখায় চাকুরীরত আছে এবং সুর্বনা নওগাঁ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের (অনার্স) ৩য় বর্ষের বাংলা বিভাগের ছাত্রী। গত সোমবার সকাল ৮টার মধ্যে সুর্বনাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে প্রতিদিনের ন্যায় সুকেন্দ্রনাথ তার চাকুরী স্থলে চলে যায়। অফিস থেকে এসে বিষয়টি ধামা চাপা দিয়ে রেখে সুর্বনার পিতা মাতাকে কোন সংবাদ না দিয়ে সু-কৌশলে বদলগাছী থানায় একটি ইউ,ডি মামলা করে।

এলাকায় অপ্রচার চালায় তার স্ত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলে সুর্বনাকে মাটিতে শয়ন অবস্থায় দেখতে পায়। সুরুত হাল রির্পোটে সুর্বনার শরীরে মারপিটের চিহ্ন দেখা যায় ও আত্মহত্যার কোন প্রকার আলামত তার শরীরে পাওয়া যায়নি।

পরে নওগাঁ সদর সার্কেলের এ এস পি মাহফুজার রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে, ওসিকে নারী নির্যাতন আইনে মামলা নেওয়ার নির্দেশ দেন। ঐ দিন বিকালে সুর্বনার পিতা অন্যের মারফত সংবাদ পেয়ে মেয়ের বাড়িতে আসে এবং নিহতের বাবা নিতাই চন্দ্র বাদী হয়ে বদলগাছী থানায় ৭ জনকে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ ঘাতক  স্বামী সুকেন্দ্রনাথকে গ্রেফতার করেছে। মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে জেলা হাজতে প্রেরণ করেন। সুর্বনার লাশ ময়না তদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতাল মর্গে  আনা হলে সহপাঠী ও শিক্ষকরা এক নজর দেখার জন্য সেখানে ছুটে আসেন। তারা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

Rank