ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে লুট ও ডাকাতির ঘটনা বেড়ে চলেছে
ইলিয়াছ রিপন,
মীরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি;
বিডি২৪লাইভ ডট কম:
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পণ্যবাহি ট্রাক লুটের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে গেছে। ছিনতাইকারীরা বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান ও বড় ব্যবসায়ীদের দামী পন্যবাহি ট্রাকগুলো টার্গেট করে প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকার মালামাল লুট করে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হলেও ছিনতাই প্রতিরোধে প্রশাসন কিছুই করতে পারছে না। এতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম আতংক বিরাজ করছে।
সংস্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মীরসরাই-সীতাকুন্ড এলাকা সহ ফেনী কুমিল্লার কিছু স্থানে ছিনতাইকারীদের দৌরাতœ ভয়াবহ হারে বেড়ে গেছে। ছিনতাইকারীরা তাদের সোর্স মারফত দেশের বিভিন্ন স্থানের শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে পন্য পরিবহনের খবর সংগ্রহ করে মহাসড়কের সুবিধামত স্থানে লক্ষিত গাড়িটি ছিনতাই করে মালামাল লুট করছে। বেশ কয়েক বছর ধরেই মহাসড়কে এ অবস্থা চললেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ছিনতাইকৃত মালামাল উদ্ধার কিংবা ছিনতাইকারীদের গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হয়েছে পুলিশ। ফলে পণ্য ছিনতাইয়ের ঘটনা দিন দিন বাড়ছে।
গত ২ এপ্রিল গভীর রাতে মহাসড়কের মীরসরাই উপজেলার নয়দুয়ারিয়ায় গাছ কেটে ফেলে ব্যারিকেড দিয়ে একটি মাইক্রোবাসের যাত্রীদের সর্বস্ব লুট করে নিয়েছে। সংঘবদ্ধ উক্ত অস্ত্রধারী ডাকাত দল মহাসড়কে যানবাহন লুটপাটের উদ্দেশ্যে রাস্তায় গাছ কেটে ফেলে চট্টগ্রাম গামী একটি মাইক্রোবাসের গতিরোধ করে অস্ত্রের মুখে মাইক্রোবাসের যাত্রীদেরকে জিম্মী করে নগদ ২৭ হাজার টাকা ও ২টি মোবাইল লুট করে নিয়ে যায়। জানা গেছে মাইক্রোবাসটিতে ব্রাহ্মনবাড়িয়া থানার ওসি রেজাউল করিমের পিতা ছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ডাকাতদের দেয়া ব্যারিকেড সরিয়ে নেয়। উল্লেখ্য যে নয়দুয়ারিয়া এলাকায় প্রায়শই যাত্রী বাহী কোচ ও অন্যান্য যানবাহনে অব্যাহত ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। এই রকম ডাকাতির ঘটনা মহাসড়কে প্রায়ই ঘটছে। কেউ থানায় অভিযোগ দায়ের করতে আসছে না বিধায় সকল অভিযোগ লিপিবদ্ধ হচ্ছে না বা হিসেবের আওতায় আসছে না।
এছাড়া গত ৬ মাসে চট্টগ্রামের বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে অন্তত কোটি টাকার পণ্য লুট হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। গত ৬ এপ্রিল গভীর রাতে সীতাকুন্ডের ভাটিয়ারী বানুর বাজারস্থ সীমা অটো রি-রোলিং মিলসের ৯লাখ টাকা মূল্যের রড ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এই কারখানার পরিচালক মোঃ নাজিম উদ্দিন জানান, গত ৫এপ্রিল সন্ধ্যায় তাদের কারখানা থেকে ৯লাখ টাকা মূল্যের ১৩ টন রড নিয়ে চট্টগ্রাম কদমতলীর এপেক্স ট্রেডিং এন্ড পরিবহন সংস্থার একটি ট্রাক (নং ঢাকা মেট্টো ট ১৪-৯৪০১) ঢাকা সাভারের মেসার্স সিঙ্গার ষ্টীলের উদ্দ্যেশ্যে রওনা হলে ভোর রাতে মহাসড়কের সাভার আমিন বাজার এলাকায় থানার কয়েক’শ গজের মধ্যে ট্রাকটি ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে। একদল ছিনতাইকারী অস্ত্রের মুখে ট্রাকের চালক মোঃ ফারুক আহমদ ও হেল্পারকে অন্ত্রের মুখে জিম্মি করে ট্রাক উল্টো ঘুরিয়ে মুগরা পাড়া সোনারগাঁ পেট্টোল পাস্প এলাকায় নিয়ে গিয়ে চালক হেল্পারকে বেঁধে মারধর করে ফেলে গাড়ি নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে চলে যায়।
এদিকে কারখানা থেকে রওনা দেবার পর গভীর রাত থেকে গাড়ির কোন খোঁজ না পেয়ে ৬ এপ্রিল এসএআরএম এর ম্যানেজার আনোয়ারুল আফসার বাদী হয়ে সীতাকুন্ড থানায় একটি জি.ডি দায়ের করেন। অন্যদিকে একই দিন ট্রাক চালক ফারুক বাদী হয়ে সাভার থানায় একটি মামলা (নং ১৭) দায়ের করলে পুলিশ কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকা থেকে খালি ট্রাকটি উদ্ধার করে। তবে তার আগেই ট্রাকে থাকা ১৩ টন রড লুট হয়ে যায়। এসএআরএম এর পরিচালক মোঃ নাজিম উদ্দিন আরো জানান, সম্প্রতি বেশিরভাগ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে সাভার থানা এলাকায়। গত ৬ মাসে তাদের ৪/৫টি ট্রাক লুট হয়েছে। শুধু তাদের নয়, মহাসড়ক থেকে ছিনতাইকারীরা বিএসআরএম, কেএসআরএম, বায়েজিদ ষ্টিল, এস.এম এন্টার প্রাইজ. মুকুল এন্ড ব্রাদার্সসহ বিভিন্ন কারখানার কোটি কোটি টাকার পণ্য লুট করেছে। এসব ঘটনা নিয়ে প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে বৈঠকও হয়েছে। বৈঠকে ছিনতাই প্রতিরোধের বিষয়ে ব্যবসায়ীদের আশ্বাস দেওয়া হলেও তা কার্যকর হচ্ছে না। পুলিশ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ছিনতাইকৃত মালামাল উদ্ধার কিংবা ছিনতাইকারীদের গ্রেফতার করতে পারছে না। ফলে কোটি কোটি টাকার মাল হারিয়ে লোকসান দিচ্ছে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো।
এই বিষয়ে মীরসরাই থানার ওসি ইফতেখার হাসান বিডি২৪লাইভ ডট কমকে বলেন ইতিমধ্যে আমরা মহাসড়কের কয়েকটি আন্তঃজেলা ছিনতাইকারী চক্র আটক করেছি। সামনে আরো অভিযানের চেষ্টা চলছে।
এ বিষয়ে সীতাকুন্ড থানার ওসি নুর মোহাম্মদ বিডি২৪লাইভ ডট কমকে বলেন, দু-তিন মাস পূর্বে তিনি একদল ছিনতাইকারীকে ছিনতাইকৃত মালামালসহ গ্রেফতার করেন।




Leave a Reply