ঝিনাইগাতী গারো পাহাড় থেকে ঔষধি গাছ বিলুপ্তির পথে

May 5, 2012 2:54 pmViews: 5
Print Friendly and PDF

গোলাম রব্বানী টিটু ঃ ঝিনাইগাতী, এক সময় শেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলার পাহাড়ী এলাকায় পুরো বনাঞ্চলে প্রয়োজনীয় মূল্যবান ঔষধি গাছের বিপুল ভান্ডার লক্ষ্য করা যেত। কালের বিবর্তনে আজ তা বিলুপ্তির পথে। কৃত্রিম বন তৈরী, নির্বিচারে গাছ কর্তন সহ বিদেশী গাছ দিয়ে উডলট সামাজিক বনায়ন তৈরী করায় প্রায় অর্ধশত জাতের ঔষধি গাছ এবং লতা গুল্ম বিলুপ্তি হয়ে যাচ্ছে বলে অনেকের মতামত। তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ঝিনাইগাতী গারো পাহাড়ে আগের দিনে ৫০-৬০ জাতের ঔষধি গাছ এবং লতা গুল্ম পাওয়া যেত। বিলুপ্তির পথে গাছগুলির মধ্যে অন্যতম আমলকি, তেতুল, হর্তুকি, বহেরা, তেজপাতা, দারুচিনি, তুলসি, ধুতুরা, থানকুনি, ভুট বড়ই, খাড়াজুরা, আমড়া, কদবেল, ঢুল মানিক, পিতরাজ, তুকমা, সুষ্ঠী মধু, আগর, নিশীন্দা, চন্দন, বান্দর হুলা, বেল, জাম্বুরা, চালতা, শতমূলি, শিমূল, কাঠবাদাম, নিম, বট, এলাচ, অর্জুন, লজ্জাবতী, মেহেদী, জাম, জলপাই, বড় দূর্বা, তেলাকুচা, বক ফুল, পুদিনা, সর্প গন্ধা, রক্ত চন্দন, কালো জাম, রক্ত জবা, খুইড়ে কাটা, কামড়া, খাড়াজোড়া সহ আরও অনেক রকমের ঔষধি গাছ। আশির দশকের পরবর্তী সময় থেকেই শুরু হয় উপজেলার বনাঞ্চল ধ্বংস আর গাছ চুরির হিড়িক। রাংটিয়া রেঞ্জ কার্যালয়ের অধীনে বর্তমানে তিনটি বিট অফিসের কর্মকর্তারা কিছুটা তৎপর হওয়ায় কাঠ চোরেরা আগের মত আর সামাজিক বনায়নের গাছ কাটতে সাহস পাচ্ছে না। তৎকালীন সময় থেকে সরাসরি ভাবে উপকারভোগী নিয়োগ করে উডলট বাগানের নামে বিদেশী জাতের বিভিন্ন গাছ রোপন করে তৈরী করা হয় বাগান। ওই সময় বন পরিষ্কারের নামে বহু ধরণের বিপুল পরিমাণ ঔষধি গাছ ধ্বংস করা হয়। এমন কি বন বিভাগ বিদেশী গাছের বাগান করে যার ফলে প্রাকৃতিক পরিবেশ অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এসব গাছ মাটির রশ বেশি শোষনের পাশাপাশি পানির লেয়ার অনেক গভীরে নামিয়ে দেয়। এ ছাড়াও এসব গাছের নিচে কোন গাছ বা লতা গুল্ম জন্মায় না। শুধু তাই নয় এসব গাছে পাখি বাসা বাধা তো দূরের কথা, বসেও না। বিশাল বন এলাকায় জনবল সংকটে পরিচর্যা ও দেখা শুনাও ঠিক মত হয় না। হারিয়ে যাওয়া নানা গুণাবলির গাছ সম্পর্কে উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাদশা জানান, গত ১০/১২ বছর আগেও বন এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির ঔষধি গাছ গাছরা পাওয়া যেত। সারা দিন ঘুরে ১/২ হাজার টাকার ঔষধি গাছ সংগ্রহ করা যেত। কিন্তু এখন গারো পাহাড়ের কোথাও ঔষধি গাছ তেমন একটা পাওয়া যায় না। অন্য দিকে এ বিষয়ে ইমরান জানায়, এক সময় এই এলাকার কবিরাজরা ভেষজ চিকিৎসার মাধ্যমে রোগ নিরাময় করতো। এ ব্যাপারে জনৈক বিট কর্মকর্তা বলেন, সামাজিক বনায়ন করে অত্র এলাকার অনেকেই দারিদ্র বিমোচনে সক্ষম ও স্বাবলম্বি হয়েছে। আগামী দিনেও এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। আমরা সব সময় বন ও পাহাড় দেখাশুনা করে আসছি। অপর দিকে, রাংটিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা বলেন, সামাজিক বনায়ন বৃদ্ধি পেলে এমনিতেই প্রাকৃতিক ভাবে নানা ধরণের ঔষধি গাছ জন্মাবে। তবে এখনও কিছু কিছু ঔষধি গাছ লক্ষ্য করা যায়। সরকারী ভাবে উডলট বাগান করে এলাকার অনেক দরিদ্ররা অর্থনৈতিকভাবে সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে।

Leave a Reply

You must be logged in to post a comment.

Leave a Reply

Rank