বাড়িওয়ালারা আইনকে তোয়াক্কা করেন না
সাইফুল সাইফ,
অতিথি লেখক,
বিডি২৪লাইভ.কম:
এমন এক আজব দেশে আমাদের জন্ম যে দেশে ক্ষমতা আর অর্থের বলে যা খুশি তাই করা যায়। দেশটা যেন ক্রমেই বাড়িওয়ালাদের রাজত্ব হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ভাড়াটেরা মনে হয় বাড়িওয়ালাদের কাছে কোনো মানুষ বলে গণ্য হন না। ভাড়াটেদের স্বার্থ নিয়ে তেমন কেউ কথা বলেন না বা ভাড়াটেদের সংগঠনগুলো নিজেদের জন্য সেভাবে সোচ্চার হতে পারছেন না। আসলে এ দেশে আইনের শাসন বলতে যেমন কিছু নেই তেমন আইনের প্রতি বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধাবোধ, ভালোবাসা করণীয় কোনো কিছুই আছে বলে মনে হয় না। হয়তো অনেকেরই এ ব্যাপারটিকে এভাবে সরাসারি প্রকাশ করার কারণে মনোকষ্টের কারণ হতে পারে কিন্তু বাস্তবচিত্র কিন্তু এটাই। দেশটা যেন রাম রাজত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাড়িভাড়া বৃদ্ধির শেষ কোথায় তা কিন্তু কেউ জানেন না। বাড়িওয়ালারা চালাচ্ছে ভাড়াটেদের উপর চরম অমানসিক নির্যাতন। ফলে সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। কিন্তু দেশের এ পরিস্থিতিটি দেখভালের মতো কেউ নেই। সরকার-প্রশাসন-সংশ্লিষ্টরা কী মনিটোরিং করেন, আমরা দেশের সাধারণ মানুষ এখনো বুঝতে পারি না। গদিতে বসে বড় বড় কথা ব্যতীত কোনো কাজ বলতে যা বোঝায় কিছুই করে না। বাড়িওয়ালারা ভাড়াটিয়াদের উপরে চালাচ্ছেন জমিদারী স্টাইলে অত্যাচার, নির্যাতন সরকার-প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট সংস্থা এসব ব্যাপারে তদারকি করার বদলে আরো হোল্ডিং ট্যাক্স বৃদ্ধি করে বাড়িভাড়া বৃদ্ধির একটা ইস্যু প্রস্তুত করে দেয়ার সহজ পন্থায় মেতে রয়েছে।
একটি পত্রিকার বরাত দিয়ে সিটি করপোরেশনের ঘোষণায় বলা হয়েছে, কোনো ধরনের প্রচার-প্রচারণা ব্যতীত হোল্ডিং ট্যাক্স ১০% বৃদ্ধি করা হয়েছে (সিটি করপোরেশনের তথ্য মতে গত ১ জুলাই ২০১২ থেকে নাকি হোল্ডিং ট্যাক্স বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে)।
যেহেতু আগে থেকে অবগত করা হয়নি তাই এ নিয়ে ট্যাক্স দিতে আসা বাড়িওয়ালাদের সঙ্গে প্রতিদিন নানা প্রকারের কথা কাটাকাটির ঘটনা ঘটছে (১৮.০৯.১২ ইং দৈনিক কালের কণ্ঠ)।
মাত্র ১০% ট্যাক্স বৃদ্ধি করা হয়েছে সেখানে ধনী শ্রেণির বাড়িওয়ালাদের কতটা কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে অথচ কোনো কোনো সময় ৫০% বা ৬০% পর্যন্ত হঠাৎ করে বাড়িভাড়া বৃদ্ধি করে হতভাগা ভাড়াটেদের ঘাড়ের উপর চাপিয়ে দেয়া হয় সেক্ষেত্রে বাড়িওয়ালারা এতটুকু দয়া, মায়া বা নিয়ম কানুনের প্রতিন নজর রাখেন না। আমাদের কথা হচ্ছে, সরকারের তরফ থেকে যেমন পূর্ব থেকে বাড়িওয়ালাদের জানানো উচিত ছিল তেমন এ ট্যাক্স বৃদ্ধি যেন বাড়িভাড়া বৃদ্ধি করে প্রকারন্তে ভাড়াটিয়াদের থেকে আদায় করা না হয় সেব্যাপারেও সরকার-প্রশাসনের করা নজরদারির আবশ্যকতা রয়েছে। বাড়িভাড়া আইন এবং ভাড়াটেদের কষ্টের কথা বহুবার ইলেক্ট্রোনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ায় তুলে ধরা হয়েছে কিন্তু সরকার-প্রশাসনের বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এসব ব্যাপারে উক্ত কলাম হয়তো বা পড়ার সময় পান না বা তারা নিজেরাই বাড়িওয়ালা বলে ব্যাপারটি গুরুত্বসহকারে আমলে নেন না। ভুগে ভুগে মরছে সারা বাংলার অসংখ্য ভাড়াটে।
এখানে উল্লেখ্য যে, একজন খুবই বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি একদিন খুব আক্ষেপ করে বলেছিলেন, ‘বাড়িওয়ালারা হচ্ছেন স্রষ্টার খুব কাছাকাছির মানুষ তাই তারা মালিক’।
ভাড়াটেদের দুঃখ-কষ্ট, অসহায়ত্ব, জ্বালাযন্ত্রণা বাড়িওয়ালারা মনে হয় খুব আনন্দচিত্তে উপভোগ করে থাকেন। স্রষ্টা পৃথিবীতে মানুষকে বসবাসের সুযোগ দিয়েছেন আর বলেছেন, ঈবাদত বন্দেগি করতে, তাতেই তিনি ভীষণ খুশি। তিনি কখনো বসবাসের জন্য ভাড়া নেন না বা ভাড়া নির্ধারণ করে দেন না পক্ষান্তরে বাড়িওয়ালারা সালামও নিবেন সালামিও (ভাড়াও) নিবেন। যে কোনো ব্যাপারে তাঁদের অন্য রকমের এক চিত্র লক্ষ্য করা যায় মানে ভাড়াটেদের ভাড়া নিয়ে (অর্থ উপার্জন করেন) তাঁরা রাজার হালে চলছেন অথচ ভাড়াটেরা তাঁদের কাছে প্রকৃতপক্ষে মানুষ বলে পরিগণিত হন না।
প্রকৃতপক্ষে আমাদের দেশের প্রচলিত আইন, বিচার, দেশ, জাতি, সংবিধান, বিধাতা, রোজ কিয়ামত, বেহেস্ত-দোযখ, ন্যায়, নীতি, আদর্শ কোনোটাই বাড়িওয়ালাদেরকে টলাতে পারে না। দেখা যায় বাড়িওয়ালার থাকার বাসাটা সাধারণত দোতলায় নিজের মতো করে স্বর্গরাজ্য প্রস্তুত করা হয় যেখানে সর্বদা পানি সরবরাহ নিশ্চিত করে আলাদা পানির লাইন (গরম-ঠাণ্ডার ব্যবস্থা), কখনো কখনো আলাদা বিদ্যুৎ লাইন (বিদ্যুতের দু লাইন সংযোজন বা জেনারেটর বা আইপিএস বা সৌরবিদ্যুৎ) থাকে অথচ ভাড়াটিয়াদের পানির কোনো নিশ্চয়তা নেই। কাপড় খুলে গোসলের জন্য দাঁড়ানোর পর পানি নেই। কী করার? প্রস্রাব, পায়খানা করার পানি থাকে না। কখনো কখনো খাবার পানি পর্যন্ত তারা দেন না। তার মানে সমস্ত সুযোগ সুবিধা থেকে সর্বদা বঞ্চিত করেও হঠাৎ করে বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়। বর্তমান ঢাকা শহরের নাগরিক জীবনের সবথেকে বড় সমস্যা বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি। এ ব্যাপারে বাড়িওয়ালারা সরকার, প্রশাসন, বাড়ি ভাড়ার আইন (Rent Control Ordinance), মানবতা কোনো কিছুই তোয়াক্কা করেন না। যখন তখন ইচ্ছেমতো বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি করে থাকেন। এক জরিপে দেখা গেছে ঢাকা শহরের মোট জনসংখ্যার ৮৩ শতাংশ বাসিন্দা ভাড়া বাসায় বসবাস করে থাকেন। এ বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠীর পক্ষে সরকার-প্রশাসন কখনো সতন্ত্রভাবে অবস্থান করেন না। বাড়ির মালিকদের রোষাণল থেকে পরিত্রাণের জন্য প্রচলিত আইনের কোনো প্রয়োগ নেই। ফলে ভাড়াটেরা বাধ্য হয়ে জিম্মিদশাকে বরণ করে দিনের পর দিন বসবাস করে চলেছেন। তাদের দৈনন্দিন উপার্জনের সিংহভাগ ভাড়া দিতে ব্যয় করছেন।
আমাদের দেশে প্রচলিত বাড়িভাড়ার যে নিয়ম কানুন রয়েছে তা কোনো বাাড়িওয়ালা সাধারণত পালন করেন না। ভাড়াটেরা কিছু বলতে গেলে মালিক বলেন, থাকলে থাকো না পুষালে বাসা ছেড়ে দিয়ে চলে যাও। তোমরা ছেড়ে দিলে আরো দু তিন হাজার টাকা বেশি ভাড়ায় আমরা ভাড়া দিতে পারবো। আইনে থাকলেও ভাড়ার রশিস বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেয়া হয় না। বাড়িওয়ালারা ঠিকঠাকমতো সরকারকে ট্যাক্স দেন কিনা তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। কারণ রশিদ দিলে ভাড়াটিয়ার কাছে একটা প্রমাণ থাকে। এসব বিবেচনায় আগের দিনের জমিদারদের থেকেও এখনকার বাড়িওয়ালারা বেশি নির্যাতন করে থাকেন। ভাড়াটেরা যেন তাদের গলগ্রহ হয়ে থাকছেন। যে কোনো অজুহাতে বাড়িওয়ালা ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। আর নতুন ভাড়াটে আসলেতো কথায় নেই (আগে যে ভাড়াটে যে ভাড়ায় থাকতেন যদি তিনি বাসা না ছেড়ে দিতেন তাহলে হয়তো বৃদ্ধি করা হতো না কিন্তু বাসা ছেড়ে দেয়াতে বাাড়িওয়ালার পোয়া বারো)।
সরকার, প্রশাসন, সিটি কর্পোরেশন, বাসা ভাড়া নিয়ন্ত্রক এ ব্যাপারে তাদের দায়িত্ব কর্তব্যকে কোনো দিনই সঠিকভাবে বাড়িওয়ালাদের উপর প্রয়োগ করছে না। বাড়িওয়ালারা ধনী শ্রেণির মানুষ। তাই আইনতো সর্বদা ধনীদেরকেই লালন করে থাকে। গরিব-দুঃখী না খেয়ে মরলে তাদের কী এমন আসে যায়? সরকার যাঁরা পরিচালনা করেন তাঁরাওতো বাড়িওয়ালা (ধনী, মন্ত্রী, সাংসদ, ব্যবসায়ী-হয়তো ভাড়া দিয়ে থাকতে হয় না)।
কোনো কোনো বাড়ির মালিক বছরে দু তিন বারও বাড়িভাড়া বৃদ্ধি করে থাকেন (দেখভালের কেউ নেই)।
বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণের জন্য অধিকতর সুষ্ঠু সমাধানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার সর্বশেষ ১৯৯১ সালে বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন করেন যা ১৯৯১ সালের ৩নং আইন নামে পরিচিত। এ আইনের ৭ ধারায় বলা হয়েছে-‘এ আইনের বিধান সাপেক্ষে, কোনো বাড়ির ভাড়া মানসম্মত ভাড়ার অধিক বৃদ্ধি করা হলে উক্ত অধিক ভাড়া, কোনো চুক্তিতে ভিন্নরূপ কিছু থাকা সত্ত্বেও আদায়যোগ্য হবে না।’ এ ব্যাপারে বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রকের নিকট আবেদন করা যাবে। এসব আইন শুধু বই-পুস্তকে সীমাবদ্ধ। বাড়িওয়ালার সঙ্গে টেক্কা দিয়ে ভাড়াটিয়া কী টিকতে পারবেন? আইন না জানায় অনেক বাড়িওয়ালা মনে করেন ভাড়াটিয়াদের সঙ্গে বাড়ি ভাড়া চুক্তি না করলে খুব সহজে যে কোনো কারণ দেখিয়ে উচ্ছেদ করা যাবে কিন্তু এ ক্ষেত্রে হিতে বিপরীত হয়ে থাকে। প্রচলিত আইন অনুযায়ী ভাড়াটে এবং মালিক মিলে মানসম্মত ভাড়া নির্ধারণ করবেন (অসংগিতপূর্ণ ভাড়া গ্রহণযোগ্য নয়), বাড়িওয়ালা কর্তৃক প্রতি মাসে পাকা রশিদ দেয়ার বিধান রয়েছে, লিখিত চুক্তি থাকতে হবে যেখানে কখন ও কীভাবে ভাড়া বৃদ্ধি করা হবে তা বিস্তারিত উল্লেখ থাকতে হবে, যখন-তখন ভাড়াটে উচ্ছেদের নোটিশ গ্রহণযোগ্য নয়, দুমাসের বেশি অগ্রিম নেয়া যাবে না, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির বিলের কপি ভাড়াটেকে প্রতিমাসে সরবরাহ করতে হবে।
ভাড়াটেরা হয়তো বাড়তি ঝামেলার কারণে অভিযোগ আমলে নিচ্ছেন না তাই বাড়িওয়ালারা পার পেয়ে যাচ্ছেন। বাড়িওয়ালা ট্যাক্স ফাঁকি দিতে রশিদ দেন না এ ব্যাপারে ভাড়াটে বাড়িওয়ালার বিরুদ্ধে নালিশ করতে পারেন। বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন ’৯১ এর ১৫ ধারায় বলা হয়েছে, নিয়ন্ত্রক, বাড়ির মালিক বা ভাড়াটের আবেদনের ভিত্তিতে, কোনো বাড়ির মানসম্মত ভাড়া নির্ধারণ করবেন এবং এমনভাবে তা নির্ধারিত করবেন যেন তার বার্ষিক পরিমাণ বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে স্থিরকৃত উক্ত বাড়ির বাজার মূল্যের ১৫% এর সমান হয় (অবাস্তব আইন)।
আমাদের মনে হয় ১৫ ধারার এ বিধি অবিলম্বে পরিবর্তন করা উচিত। কারণ রাজধানী ঢাকা শহরের একটি ছোট ফ্ল্যাটের মূল্য এখন ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা। সেক্ষেত্রে বাজার মূল্যের ১৫% ভাড়া নিধারণ করা কীভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে? আর ভাড়া নির্ধারণ বাড়ির বাজার মূল্যে ১৫% অর্থের পরিমাণ অতি অস্বাভাবিক বলে প্রতীয়মান হতে বাধ্য। জনগুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়টি নিয়ে উচ্চমহলের আলাপ আলোচনার ভিত্তিতে বাড়িওয়ালা এবং ভাড়াটিয়াদের বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান করা অতি জরুরি।
সাধারণ নিয়ম হলো যে কোনো বাড়ি ভাড়া দেয়ার সময় অবশ্যই ২৫০ টাকার স্ট্যাম্পে একটা পরস্পরের (মালিক-ভাড়াটে) সই সম্বলিত চুক্তিপত্র হবে। এ চুক্তিপত্র কমপক্ষে তিন বছরের জন্য কার্যকর থাকবে (তিন বছর পর পর নবায়নযোগ্য)।
বাড়ি ছাড়তে হলে বাড়িওয়ালাকে গ্রহণযোগ্য উপযুক্ত কারণ দর্শায়ে ন্যূনতম দুই মাসের সময় দিতে হবে। বাড়িওয়ালা চুক্তি অনুযায়ী তিন বছর বা ন্যূনতম দুই বছর পর মূল ভাড়ার (প্রথম ভাড়া নেয়ার সময় সাব্যস্ত ভাড়া) সর্বোচ্চ দশভাগের বেশি বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি করতে পারবেন না। এখানে উল্লেখ্য যে, ভাড়াটিয়ার থেকে বাড়িওয়ালার দায়িত্ব কর্তব্য বেশি কারণ সরকার ইচ্ছে করলে (প্রচলিত নিয়মানুযায়ী) যে কোনো সময় বাড়ির ভাড়া এবং অগ্রিম গ্রহণ সম্পর্কে বা ভাড়ার রশিদ প্রদান সংক্রান্ত ব্যাপারে প্রশ্ন তুলতে পারেন। ভাড়াটিয়ার নিকট থেকে এক মাসের অধিক ভাড়ার টাকা অগ্রিম হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না। ভাড়াটে যদি বাড়ি ভাড়া প্রতি মাসে ঠিকঠাকমতো পরিশোধ করেন তাহলে তাকে বাড়িওয়ালা কোনো প্রকারের দায়ী করতে পারেন না। ভাড়াটে চুক্তি অনুযায়ী ভাড়া পরিশোধ করেন বা প্রতি মাসের ভাড়া তৎপরবর্তী মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে পরিশোধ করেন অথবা ঘরভাড়া নিয়ন্ত্রকের কাছে জমা করতে থাকেন সেক্ষেত্রে ভাড়াটিয়াকে উচ্ছেদ করা যাবে না।
এমনিতেই নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি পাগলা ঘোড়া কেউ থামাতে পারছে না। প্রতি বছর সরকার গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানির বিল বৃদ্ধি করছে সেখানে এত বাড়ি ভাড়া দিয়ে সাধারণ মানুষ বসবাস করবে কীভাবে? বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে সরকারের বা উচ্চ মহলের এ ব্যাপারে কোনো প্রকারের তদারকী নেই। যা উপার্জন করা হয সব বাড়ি ভাড়া পরিশোধেই ব্যয় হয়ে যায়। ফলে সংসার চালানো দায় হয়ে পড়ে। বিভিন্ন কারণে আমাদের দেশে বাড়িওয়ালা আর ভাড়াটিয়াদের মাঝে নানা প্রকারের বিরোধ লেগেই থাকে। এ বিরোধ যেন অন্তরের এ বিরোধ যেন বড় কষ্টের। স্বাধীনতার এত বছর পরেও সংখ্যা গরিষ্ঠ জনগণ ভাড়াটিয়া কেন নাগরিক স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত তা জানার অধিকার আমাদের রয়েছে। শান্তিপ্রিয় মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে চায়। তারা বসবাসের স্থানে কখনোই মনমালিন্য সৃষ্টি করতে চান না। বর্তমান বাড়িওয়ালারা যেভাবে সূকৌশলে বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি করে ভাড়াটিয়াদেরকে নির্যাতন করছেন তা আসলেই আমানবিক, প্রকারন্ত্রে বড় ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনও বটে। আমরা দেশের নাগরিক হিসেবে অবিলম্বে এর শান্তিপূর্ণ সমাধান কামনা করছি।
সরকার প্রশাসনের বার বার লিখেও কোনো কাজ হয় না। ভাড়াটেরা একটা বড় আন্দোলন গড়ে তুলবেন তাও সম্ভবপর হয় না। কারণ একজন ভাড়া না নিলে আর একজন নিয়ে নেন। ১৯৯১ সালের আইনের সংশোধন, পরিবর্ধন, পরিমার্জন যেমন দরকার তেমন এর বাস্তবায়ন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দিয়ে কঠোর হস্তে দরকার। এভাবে ঢিলেঢালাভাবে একটা দেশ চলতে পারে না। দীর্ঘ চার দশকের স্বাধীনতা যেন জনগণের গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনীতিবিদদের তেমন কোনো ভূমিকা লক্ষণীয় নয়।
দেখুন ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য যতটা আন্দোলন সংগ্রাম হয়েছে দেশের মানুষের কল্যাণে দ্রব্যমূল্য, বেকার সমস্যা, বাড়িভাড়া বৃদ্ধি, তেল, গ্যাস এসব নিয়ে রাজনীতিবিদদের কদিন হরতাল বা অবরোধ হয়েছে বলতে পারেন? সবই আমাদের দুর্ভাগ্য। সরকার যেন না দেখার ভান করে ভাড়াটেদের নির্যাতন ছায়াছবির মতো প্রত্যক্ষ করছে। আমরা সাধারণ জনগণ ভাড়াটেরা সত্যিকারে অন্তর থেকে বলছি সরকার-প্রশাসনের উপর আমাদের কোনোরূপ ন্যূনতম আস্থা পর্যন্ত বর্তমান নেই। কী হচ্ছে এ দেশটার মধ্যে? বাড়িভাড়া বাড়তে বাড়তে মনে হয় যেন শুধুমাত্র থাকার জন্যই সবটাকা দিয়ে দিতে হবে এমন উপক্রম হয়ে দাঁড়িয়েছে। কী লাভ এপ্রসঙ্গে লেখালেখি করে তাও আমরা বুঝতে পারি না। বাড়িভাড়া নিয়ে অনেক লিখেছি। কাজের কাজ কিছুই হয় না। ভাড়াটেরা যে একসঙ্গে বসে সরকারকে কিছু জানাবেন সেব্যাপারেও কোনো তৎপরতা লক্ষ্য করা যায় না। হয়তো বা বিচ্ছিন্নভাবে দুএকজন মানুষকে কখনো কখনো প্রেসক্লাবের সামনে সমবেত হতে দেখা যায় কিন্তু এ আন্দোলন কখনো কোনো রাজনৈতিক বড় দলের সমর্থনে হয় না। ফলে ফলাফল শূন্য। আর এ সংক্রান্ত সংশ্লিষ্টমহল যেন গন্ডারের চামড়ায় পরিণত হয়েছেন। তাদের অনুভূতিতে আমরা আঁচ কাটতে পারি না। ক্ষোভে, দুঃখে, কষ্টে এ প্রসঙ্গে আর লিখতেও ইচ্ছে করে না। একটা কথা শুধু গলাফাটা চিৎকারে উল্লেখ করতে চাই, আমরা সত্যিকার অর্থে এর অবসান চাই। ভাড়াটেদের স্বার্থ দেখে এলাকাভিত্তিক বাড়িভাড়া নির্ধারণ করে দেয়া উচিত। উক্ত ভাড়া যাতে চুক্তির মাধ্যমে এবং রশিদ প্রদান করে আদায় করা হয় সেব্যাপারে সরকারের কঠোরতা এখনই অতি জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।




Leave a Reply