সমুদ্রে দাফন না করে লাদেনকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়!

March 8, 2012 3:20 pmViews:

ওসামা বিন লাদেনকে সমুদ্রে দাফন করা হয়নি। তার মৃতদেহ যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। সেখানে গোপন কোন একটি স্থানে তার মৃতদেহের বিশ্লেষণ করা হয়। তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করতে এ কাজ করা হয়। দুনিয়া কাঁপানো ওয়েবসাইট উইকিলিকস এবার এ তথ্য ফাঁস করেছে। তাতে দেখা গেছে, এক ই-মেইল বার্তায় এসব কথা বলেছেন গোয়েন্দা বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান স্ট্র্যাটফরের এক শীর্ষ স্থানীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তা। ওই ই-মেইল হ্যাক করেছে অ্যানোনিমাস নামের হ্যাকার গ্রুপ। সমপ্রতি তারা গোয়েন্দা বিশ্লেষণ গ্রুপ স্ট্রাটফর-এর প্রায় ৫০ লাখ গোপন ই-মেইল ফাঁস করে দেয়। পরে তা পৌঁছে তোলপাড় করে দেয়া ওয়েবসাইট উইকিলিকসের কাছে। তবে স্ট্র্যাটফর বলছে, হ্যাকাররা আসলে চোর। তারা যেসব ই-মেইল প্রকাশ করছে তা হতে পারে বানোয়াট।

ওসামা বিন লাদেনকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর ওই তথ্য এমন এক সময়ে প্রকাশ হলো যখন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই হ্যাকার গ্রুপ অ্যানোনিমাসের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান লুলজসেক-এর কয়েকজন মূল ব্যক্তিকে আটক করেছে। এসব খবর দিয়েছে অনলাইন ডেইলি মেইল। এতে আরও বলা হয়, ওসামা বিন লাদেনকে ২০১১ সালের ১লা মে রাতে পাকিস্তানের গোপন আস্তানা অ্যাবাটোবাদের বাড়িতে যুক্তরাষ্ট্রের নেভি সিল-এর সদস্যরা গুলি করে হত্যা হরে। তারপর থেকে তার পরিণতি অর্থাৎ তার মৃতদেহ কি করা হয়েছে তা নিয়ে কৌতূহল রয়েই গেছে। তবে ফাঁস হওয়া ওই ই-মেইল বার্তায় স্ট্রাটফরের ভাইস প্রেসিডেন্ট ফ্রেড বার্টন সেই কৌতূহল সংকুচিত করেছেন। ফাঁস হওয়া বার্তায় দেখা যায়- তিনি লিখেছেন, ওসামার মৃতদেহ গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র একটি বিমানে করে অবশ্যই দেলাওয়ারের ডোভারে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। সেখান থেকে ওই মৃতদেহ নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল মেরিল্যান্ডের বেথেসডায় অবস্থিত আর্মড ফোর্সেস ইনস্টিটিউট অব প্যাথলজিতে। এখানে উল্লেখ্য, ওসামা বিন লাদেন নিহত হওয়ার ৪ মাস পরে ২০১১ সালের ১৫ই সেপ্টেম্বর আর্মড ফোর্সেস ইনস্টিটিউট অব প্যাথলজি বন্ধ করে দেয়া হয় বলে মন্তব্য করেন ফ্রেড বার্টন। আরেকটি ই-মেইলে ফ্রেড বার্টন সংশয় প্রকাশ করে বলেন, ওসামার মৃতদেহ সমুদ্রে দাফন করা হয়েছিল এতে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে। এক্ষেত্রে জার্মানির নাৎসী ঘাতক অ্যাডলফ ইচম্যানের মতো তার দেহভস্ম সাগরে ফেলে দেয়া হয়ে থাকতে পারে। আদালত একই কাজ করেছে নাৎসী ঘাতক ইচম্যানের দেহভস্ম নিয়ে। এখানে উল্লেখ্য, নাৎসী জার্মানির নরঘাতকদের মূলহোতা এই অ্যাডলফ ইচম্যান। তাকে আর্জেন্টিনা থেকে ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ গ্রেপ্তার করে। তার বিচার হয় ইসরাইলে। তাতে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে ১৯৬২ সালে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। তার দেহ পুড়িয়ে ফেলা হয় এবং দেহভস্ম ছড়িয়ে দেয়া হয় ভূমধ্যসাগরে। এক ই-মেইলে ফ্রেড বার্টন নাৎসী ইচম্যান সম্পর্কে বলেছেন, ইচম্যানকে তার বিচারের অনেক মাস আগেই জীবিত দেখা গেছে। তারপর তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে হত্যা করা হয়। তার নামে কোন সমাধি হোক তা দেখতে চায়নি কেউ। সে যে ইচম্যান ছিল না এমন দাবিও করেনি কেউ। কাউকে একনজর দেখার সুযোগ না দিয়ে সমুদ্রে হঠাৎ সমাহিত করার তুলনা করা যাবে না। ওই রকম সমাহিত করা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে। ফ্রেড বার্টন আরেক ই-মেইলে লিখেছেন, মার্কিন সরকারের প্রয়োজন সবগুলোর মৃতদেহের ছবি প্রচার করা। কিন্তু ওবামার মৃতদেহকে সন্ত্রাসী ঘটনার সঙ্গে যুক্ত। তাই আমার মনে হয় না এফবিআই তার ছবি প্রচার করতে দিবে।

গোলাম ফারুক দুলাল।

Rank