চলনবিলে সাবমারজিবল রাস্তা নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে
এম এস আলম বাবলু, চাটমোহর (পাবনা) সংবাদদাতা ঃ বর্ষা মৌসুমে চলবে নৌকা এবং শুষ্ক মৌসুমে চলবে যানবাহনÑ বৃহত্তম চলনবিলের উল্লাপাড়ায় এ পদ্ধতির সাবমারজিবল সড়কের নির্মাণ কাজ বর্তমানে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম ও জাতীয় সংসদ সদস্য গাজী শফিকুল ইসলামের প্রচেষ্টায় গত অর্থ বছরে ৯টি প্রকল্পের মাধ্যমে এ রাস্তার নির্মাণ কাজ হাতে নেয় সিরাজগঞ্জ এলজিইডি। ইতোমধ্যে প্রকল্পগুলোর প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বাকী কাজ আগামী বছরের প্রথম দিকেই শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। সাবমারজিবল রাস্তার নির্মাণ কাজ শেষ হলে উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের কয়েক লাখ মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিল এলাকার প্রত্যন্ত গ্রামগুলোর সঙ্গে সিরাজগঞ্জ জেলা সদর ও উল্লাপাড়া উপজেলা সদরের যোগাযোগ সহজতর করতে সিরাজগঞ্জ এলজিইডি গত অর্থ বছরে ৯টি প্রকল্পের মাধ্যমে সাবমারজিবল রাস্তা নির্মাণ কাজ শুরু করে। মোহনপুর ইউপি অফিস থেকে কালিয়াকৈর হাট রোড এবং গয়হাট্রা জিসি থেকে নওগাঁ জিসি হয়ে বিনায়েকপুর রোড পর্যন্ত ১৪.৬০ কিলোমিটার সাবমারজেল রাস্তা ও ২৫.৫০ মিটার ব্রিজ কালভার্ট নির্মাণ করা হচ্ছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে এলজিইডির ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১৪ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। ৯টি প্রকল্পের মধ্যে বেশ কয়েকটি প্রকল্পের রাস্তার নির্মাণ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। ব্রিজ-কালভার্টসহ অন্য সব প্রকল্পের কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। পুরো প্রকল্পের কাজের গড় অগ্রগতি ৮০ শতাংশ বলে দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে। সাবমারজিবল রাস্তার নির্মাণ কাজ শেষ হলে উল্লাপাড়া উপজেলার লাহিড়ী মোহনপুর, বাঙ্গালা, গয়হাট্রা, কুচিয়ামারা ও কালিয়াকৈর ইউনিয়নের কয়েক লাখ মানুষ উপকৃত হবে। এমনকি পাবনা জেলার ফরিদপুরের সঙ্গে সিরাজগঞ্জের দূরত্ব কমে যাবে বলেও এলজিইডি অফিস সূত্র জানায়।
এলাকাবাসী জানান, বর্ষা মৌসুমে ৫টি ইউনিয়নের শতাধিক গ্রামের কয়েক লাখ মানুষ নৌকাযোগে চলাচল করলেও শুষ্ক মৌসুমে এসব প্রত্যন্ত গ্রামগুলো প্রায় যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে একদিকে উপজেলা সদর থেকে প্রত্যন্ত গ্রামগুলোর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে প্রশাসনকে হিমশিম খেতে হয়। অন্যদিকে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে গ্রামগুলোর উৎপাদিত পণ্যসামগ্রী সঠিক সময়ে হাটবাজারে পৌঁছাতে না পারায় কৃষক উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হয়। স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীদের কয়েক কিলোমিটার পায়ে হেঁটে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে হয়। এমনকি অসুস্থ ব্যক্তিদের জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতাল বা ক্লিনিকে নিতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। সাবমারজিবল রাস্তার নির্মাণ কাজ শেষ হলে এ অঞ্চলের মানুষের নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধির পাশাপাশি অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি সাধিত হবে।
উল্লাপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ জাহেদুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা এইচ টি ইমামকে উপজেলার আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নের স্বার্থে প্রত্যন্ত গ্রামগুলোর সঙ্গে সহজতর যোগযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা জানালে তিনি স্থানীয় সরকার সচিবকে নির্দেশ দেন। সেই অনুযায়ী বিল এলাকায় সাবমারজিবল রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, উল্লাপাড়ার সার্বিক উন্নয়নে এইচ টি ইমাম আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ভবিষ্যতেও তার মাধ্যমে উল্লাপাড়ার ব্যাপক উন্নয়ন হবে বলে তিনি আশা করেন।
সিরাজগঞ্জ এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ গোলাম মোস্তফা বলেন, আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হলো গ্রামীণ অবকাঠামোগত উন্নয়ন। চলনবিল এলাকার প্রত্যন্ত গ্রামগুলোর সঙ্গে জেলা ও উপজেলা সদরের সহজতর যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) এ অঞ্চলে সাবমারজিবল রাস্তা নির্মাণ করছে। এতে যোগাযোগের ক্ষেত্রে সুবিধা বৃদ্ধির পাশাপাশি এলাকার কৃষকেরা স্বল্প সময়ে তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতে পারবেন। এর ফলে বিল এলাকার মানুষেরা অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হবেন।




