৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা আত্মসাত: ভিসারেভের মূলহোতা গ্রেফতার
গোলাম ফারুক দুলাল,চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রতারণার মাধ্যমে ৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চট্টগ্রামে এমএলএম কোম্পানি ভিসারেভের মূলহোতা রবিঊল হোসেন রবিসহ ৩ জনকে বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালতের গ্রেফতারী পরোয়ানা জারীর কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে পাচলাইশ থানা পুলিশ কোম্পানি ভিসারেভের মূলহোতা রবিঊল হোসেন রবি গ্রেফতার করেছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে ভিসারেভ বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মানস চৌধুরী সংগ্রাম বাদী হয়ে চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুর রহমানের আদালতে মামলাটি দায়েরে পর আদালত তা আমলে নিয়ে অভিযুক্ত রবি ও অপর দুই আসামি নগরীর পাঁচলাইশ সুগন্ধা এলাকার সিডিপিএল’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইফতেখার হোসেন সুমন ও ফটিকছড়ির উজ্জ্বল বড়ুয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করেছেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, রবিউল হোসেন রবি, ইফতেখার হোসেন সুমন ও উজ্জ্বল বড়–য়া ২০১০ সালে চট্টগ্রামে এমএলএম’র ব্যবসার নামে হায়হায় কোম্পানি ভিসারেভ’র কার্যক্রম শুরু করে। বিনিয়োগকৃত টাকা ১০ মাসে দ্বিগুণ দেওয়ার বিভিন্ন লোভনীয় অফার দিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানের চট্টগ্রাম মূল অ্যাজেন্ট এবং প্রধান হোতা রবিউল হোসেন রবি প্রথমে নগরীর জিইসি মোড়ে সেন্টাল শপিং কমপ্লেক্সে ও মুরাদপুর এন এম ম্যানসনে অ্যাকুমপ্লেসমেন্ট অ্যাসোসিয়েটস নামে একটি অফিসে ভিসারেভের কার্যক্রম চালু করে। পরবর্তীতে ইফতেখার হোসেন সুমন ও উজ্জ্বল বড়ুয়া অ্যাজেন্টও রবিউল হোসেন রবির সঙ্গে যুক্ত হয়ে এর কার্যক্রম আরো জোরদার করে। চট্টগ্রামের প্রায় ৮ হাজার গ্রাহকের ২শ কোটি টাকা আত্মসাত করে গ্রাহকদের বিনিয়োগের টাকা আত্মসাত করে রবিউল হোসেন রবি এবং ইফতেখার হোসেন সুমন মিলেই চালু করেছে এরই মধ্যে নগরীতে চিটাগাং ড্রিম প্রপার্টিজ লিমিটেড (সিডিপিএল) নামের একটি ডেভেলপার কোম্পানি। রবিউল হোসেন রবি ওই প্রতিষ্ঠানের ভাইস চেয়ারম্যান এবং ইফতেখার হোসেন সুমন ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে ওই প্রতিষ্ঠানে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। এছাড়াও রবিউল হোসেন রবি অ্যাকুমপ্লেসমেন্ট অ্যাসোসিয়েটের চেয়ারম্যানসহ কুয়াকাটায় সাউথ ওয়েভ রিয়েল এস্টেট লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে ৪০ কাটা জায়গা ক্রয়, প্রান্তিক প্রপাটিজের নির্মাণাধীন একটি ফ্ল্যাট ক্রয়, মুরাদপুর ফুলকলি মিষ্টি বিতানের বিপরীতে নির্মাণাধীন বহুতল ভবনের ফ্ল্যাট এবং মুরাদপুর ডাচ বাংলা ব্যাংক সংলগ্ন মার্কেটে একটি বিশালকার দোকানের মালিক বনে যায়।
বাদির পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন-বিএইমআরএফ চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট এ এম জিয়া হাবিব আহসান, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন, অ্যাডভোকেট এ এইচ এম জসিম উদ্দিন, অ্যাডভোকেট দেওয়ান ফিরোজ।
এ বিষয়ে ভিসারেভ বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি সালাউদ্দিন মাহমুদ পিন্টু জানান, ভিসারেভ চট্টগ্রাম নগরীসহ জেলার প্রায় ৮ হাজার গ্রাহকের কমপক্ষে ২শ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এসব গ্রাহকরা সবনিম্ন ৩৫ হাজার এবং সর্বোচ্চ কোটি টাকাও বিনিয়োগ করেছেন। এর মধ্যে ওই প্রতিষ্ঠানের চট্টগ্রাম মলহোতা রবিউল হোসেন রবি কমপক্ষে ৩০ কোটি এবং অপর হোতা ইফতেখার হোসেন সুমন ও উজ্জ্বল বড়ুয়া কমপক্ষে ৮-১০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে এরই মধ্যে লাপাত্তা হয়ে গেছে।




