রামুর পর উখিয়া: বৌদ্ধ মন্দিরে হামলা, ভাংচুর, পুলিশের গুলি, আহত ১০: ১৪৪ ধারা জারি

September 30, 2012 11:21 pmViews:

আবু চৌধুরী,
উখিয়া,
কক্সবাজার প্রতিনিধি:

রামু উপজেলার জনৈক বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বি কলেজ ছাত্র উত্তম কুমার বড়–য়া ফেসবুক একাউন্ট থেকে কোরআনের উপর পা রাখা ছবি প্রদর্শন করার ঘটনায় উখিয়ায় ধর্মপ্রাণ মুসলিমেরা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। উত্তেজিত জনতা বৌদ্ধ মন্দিরে হামলা চালিয়ে বৌদ্ধ মূর্তি ভাংচুর করে। এ সময় উপসনারত বৌদ্ধ ভিক্ষুকেরা মন্দির ছেড়ে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এ ঘটনার পর র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবির টহল জোরদার সহ ৩২টি বৌদ্ধ মন্দিরে সশস্ত্র পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ অপ্পেলা রাজু নাহা সাংবদিকদের জানান। সর্বশেষ রাত ৭ টার দিকে কোটবাজার ষ্টেশনে উত্তেজিত জনতা মিছিলে পুলিশের গুলিবর্ষনের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় ১০ জন আহত হয়েছে।

জানা গেছে, রামু উপজেলার কলেজ ছাত্র উত্তম বড়–য়া কর্তৃক মুসলমানদের পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ আল কোরআনের প্রতি অবমাননা করে কোরআনের উপর পা রাখা ছবি প্রদর্শন করেছে। এই ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ধর্মপ্রাণ মুসলিমেরা উত্তেজিত হয়ে পড়ে। গতকাল রবিবার সকাল ১০টায় রামু উপজেলার খুনিয়া পালং ইউনিয়নের একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল উখিয়া আসার চেষ্টা করলে উপজেলা প্রশাসন পুলিশের সহায়তায় উক্ত মিছিল থামিয়ে দেয়। দুপুর ২টায় কোটবাজার এলাকায় উত্তেজিত জনতা একটি মিছিল বের করলে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে সংক্ষিপ্ত পথ সভায় উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী সর্বসাধারণকে ধর্য্য ধারণ করে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান। এসময় একটি বিক্ষোভ মিছিল রাজাপালং ইউনিয়নের জাদিমোরা বৌদ্ধ মন্দিরে হামলা চালিয়ে ৩/৪টি বৌদ্ধ মূর্তি ভাংচুর করে।

এসময় বৌদ্ধ মন্দিরে উপসনার কাজে দায়িত্বরত ভিক্ষুরা পালিয়ে যায়। বৌদ্ধ মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি অরুন বড়–য়া জানান, স্থানীয় উত্তেজিত জনতা মন্দিরে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে ৩/৪টি বৌদ্ধ ও অন্যান্য মূর্তি ভাংচুর করে। খবর পেয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান এড. শাহজালাল চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জহিরুল ইসলাম পুলিশ বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে উত্তেজিত জনতা মন্দির ছেড়ে চলে যায়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জহিরুল ইসলাম বলেন, সাম্প্রদায়িক চেতনার এদেশকে অস্থিতিশীল করে তোলার জন্য পরিকল্পিত ভাবে ফেসবুকের মাধ্যমে এ নেক্কার জনক ঘটনাটি করেছে। তিনি বলেন, পরিস্থিতি শান্ত রাখার জন্য সর্বরকমের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এদিকে এ উপজেলার ৩২টি বৌদ্ধ মন্দিরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সার্বক্ষনিক পুলিশ প্রহরা রাখা হলেও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসন উদ্বিগ্ন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (সন্ধ্যা ৭ টা) কোটবাজারে উত্তেজিত জনতার মিছিলে পুলিশৈর গুলিবর্ষনের ঘটনা ঘটেছে। এতে ১০জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। কোটবাজার ষ্টেশনে এখনো থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পুলিশের সাথে জনতার ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটছে।

Rank