কপোতা পাড়ের মানুষদের মহাবিপদের অশনি সংকেত তাড়া করে ফিরছে প্রতিদিন

June 25, 2012 12:25 pmViews:

তৃপ্তি রঞ্জন সেন পাইকগাছা প্রতিনিধিঃ স্রোতস্বিনী নদ কপোতারে অকাল মৃত্যু আর সড়ক নামের মরন ফাঁদে পড়ে চলতি বর্ষা মৌসুমে বিচ্ছিন দ্বীপে পরিনত হতে পারে দনিাঞ্চল এমনটি ভাবছেন কপোতা পাড়ের খুলনা ও সাতীরা জেলার কয়রা, পাইকগাছা ও তালা অঞ্চলের ভুক্তভোগী মানুষ। দীর্ঘ প্রতিা শেষে দনিাঞ্চলে দেখা মিলেছে বৃষ্টি। আর গত কয়েক দিনের বৃষ্টি যেন ভরা মৌসুমে দনিাঞ্চলের মানুষের কাছে দেখা দিয়েছে মহাবিপদের অশনি সংকেত হিসেবে।
জানাগেছে, মরা কপোতারে বন্যায় বিগত একযুগ ধরে প্রতিবছর ঘর ছাড়ে হাজার হাজার মানুষ। অপরিকল্পিত ড্রেজিং ব্যবস্থা আর পাউবো কর্মকর্তাদের সীমাহীন দূর্নীতির ফলে প্রতিবছর মরা কপোতারে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় বন্যা। গত বছরের জলাবদ্ধতায় কপোতা পাড়ের মানুষ গুলো হয়েছিল স্মরনকালের সেরা ভয়াবহ বিপর্যয়ের শিকার। গত কয়েকদিনে বৃষ্টির ফলে আঠারো মাইল-পাইকগাছা (কবি সিকান্দার আবু জাফর সড়ক) সড়কটি পরিনত হয়েছে মৃত্যুকুপে। ইতোমধ্যে হালকা যানবাহন চলাচল মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ন হয়ে উঠেছে। বড় বড় গর্তে জমে থাকা পানিতে জন জীবনে দেখা দিয়েছে বিড়ম্বনা। ঘটছে প্রতিনিয়ত ছোট খাটো দূর্ঘটনা। এমনকি গত বছরের জলাবদ্ধতায় দনিাঞ্চলের মানুষকে পানিবন্দি জীবন থেকে কিছুটা স্বস্তি দেয়া একমাত্র বাইপাস সড়কটিতে (কাশিমনগর টু জাতপুর সড়ক) কালভার্ট নির্মান কাজ শুরু হয়েছে। নির্মান কাজের গতি এতটাই মন্থর যে ভরাবর্ষা মৌসুমের পূর্বে শেষ না হওয়ার আশংকা করছে এলাকার মানুষ। আর যদি বর্ষা মৌসুমের পূর্বে শেষ না হয় তবে দনিাঞ্চল সম্পূর্নরূপে বিচ্ছন্নদ্বীপে পরিনত হবে এমনটি জানালেন খলিলনগর ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক রেজওয়ান উল্ল্যা, মাছিয়াড়ার উজ্জ্বল রায় এবং কাশিমনগরের কৃষক মোজাম আলী। এদিকে অপরিকল্পিত কপোতা খনন এবং নদের বুকে অবৈধ ভেড়িবাঁধ নির্মান করায় এই এলাকার সাধারন মানুষের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বর্ষা মৌসুমে দনিাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকার পানি এই মরা কপোতা দিয়ে নিষ্কাশন সম্ভব কি না ? ইতোমধ্যে বৃষ্টিতে তালার রাস্তায় পানি জমেছে। খুলনার ঐতিহ্যবাহী বৃহৎ কপিলমুনি বাজার হুমকির সম্মুখীন। বর্ষা শুরু না হতেই পানি জমতে শুরু করেছে বাজারের বিভিন্ন জায়গায়। কপোতারে তলদেশ থেকে ঐতিহ্যবাহী এই বাজার নিচু হওয়ায় ব্যবসায়ীরা বেশ চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। অজানা আতংকে নির্ঘুম রাত কাটাছে কপোতা পাড়ের হাজার হাজার পরিবার। কপিলমুনি বনিক সমিতির সাধারন সম্পাদক সরদার গোলাম মোস্তফা বলেন কপিলমুনি বাজারের উপর নির্ভর করে গড়ে উঠেছে এ অঞ্চলের সভ্যতা। লাখো মানুষের রুটি রোজগারের একমাত্র মাধ্যম কপিলমুনি বাজার। বিগত বছরে বাজারের এক তৃতীয়াংশ পানিতে ডুবে ছিল। দ্রুত বাজার সংস্কার (উঁচু) না করা হলে বর্ষা মৌসুমে ব্যবসা পরিচালনা করা সম্ভব হবে না।
পাইকগাছা থানা বিএনপি নেতা ও বিশিষ্ট সমাজ সেবক এম, বুলবুল আহমেদ জানান, দনিাঞ্চলের মানুষ প্রতিবছর জলাবদ্ধতার শিকার হচ্ছে, ভেঙ্গে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। এ অঞ্চল পরিনত হতে যাচ্ছে বিচ্ছিন্ন একটি দ্বীপে। দিনে দিনে এ অঞ্চলের মানুষ অর্থনৈতিক ভাবে পঙ্গু হয়ে পড়ছে। কপোতা পাড়ের মানুষের নীরব দূর্ভি ঠেকাতে দলমত নির্বিশেষে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পরিকল্পিতভাবে কপোতা খননসহ অর্থনৈতিক অবস্থা সচল রাখতে সংশ্লিষ্ঠ ব্যক্তিদের দ্রুত এগিয়ে আসতে হবে।
পাইকগাছা-কয়রা সংসদ সদস্য এ্যাডঃ সোহরাব আলী সানা বলেন, প্রাকৃতিক দূযোর্গ থেকে রা পেতে হলে উপকূলীয় অঞ্চলে স্থায়ী উচু বাঁধ নির্মাণ ও টেকসই রাস্তা দরকার। কপোতা খননের ব্যাপারে ােভ প্রকাশ করে বলেন, কপোতা খননে আমার আপত্তি আছে। খনন যে ভাবে হচ্ছে তাতে আমি নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসাবে,’আই এ্যাম নট সাটিসফাইড’। এনিয়ে আমি প্রশ্ন তুলেছি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় ওরা আমাদের কনফিডেন্টলি নেয় না। কপোতারে ওপারে সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মুজিবর রহমান সাহেব সহ আমাদের কাউকে কপোতা পরিকল্পনায় ওকিবহাল করা হয়নি। কপোতা খননে অনিয়ম প্রসঙ্গে বলেন, আমি অনিয়মের অভিযোগ আপনার মাধ্যমে তুলছি। আমি এটা সংসদেও বলেছি। তিনি আরও বলেন, আমি মাননীয় পানি সম্পদ মন্ত্রীকেও অনুরোধ করেছি, আপনি (মন্ত্রী) কপোতা পাড়ের এমপিদের নিয়ে সরকারী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের ডাকুন। আমরা মতবিনিময় করি। পরিকল্পনার সাথে আমাদের মতামত দেয়ার সুযোগ দিন। উনি (মন্ত্রী) বলেছিলেন তিনি ডাকবেন। কিন্তু সে ডাকাটাও ‘ষ্টিলনাও’ হয়ে উঠেনি। এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরকে সম্পৃক্ত না করে অপরিকল্পিত কপোতা খনন, অত্র এলাকার পানি নিষ্কাশনে ব্যবহৃত খালগুলি দখলমুক্ত না করলে এবারে বর্ষা মৌসুমে কতটা রা করতে পারবে এ অঞ্চলের মানুষকে জনমনে এমন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি এ নিয়ে দনিাঞ্চলের কপোতা পাড়ের মানুষকে মহা বিপদের অশনি সংকেত তাড়া করে ফিরছে প্রতিদিন। #

Rank