রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রনক্ষেত্র: গুলি, ৫ জন গুলিবিদ্ধ
কামাল শাহারিয়ার,
বিশেষ প্রতিনিধি:
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ ও শিবিরের সংঘর্ষে ৫ জন গুলিবিদ্ধসহ উভয় দলের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে ৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল ও ব্যাপক ভাঙচুর করে। এ ছাড়াও পরিস্থিতি শান্ত করতে গিয়ে লাঞ্ছিত হয়েছেন প্রক্টোরিয়াল বডির ছয় সদস্য।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায় গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় শহীদুল্লাহ কলা ভবনের সামনে ছাত্রশিবিরের ৫০-৬০ নেতাকর্মী অবস্থান নেয়। একই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাও ক্যাম্পাসের টুকিটাকি চত্বরে পাল্টা অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে উভয় দল থেকে নেতা কর্মীরা স্লোগান দিলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় গুলির শব্দে ক্যাম্পাসজুড়ে আরও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ছাত্রলীগকে লক্ষ্য করে ছাত্রশিবিরের কর্মীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। পরে পুলিশ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ধাওয়া করলে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা গেট ও প্রধান ফটক দিয়ে বের হয়ে যায়। এ সময় ৫ নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ ও উভয় দলের ১৫ জন আহত হন। এ সময় একজন সাধারণ শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। গুলিবিদ্ধরা হলেন সাইফুদ্দিন ইয়াহিয়া, শরিফ (ইসালামিক স্টাডিজ), মোবারক হোসেন (ইসলামিক স্টাডিজ), জাহাঙ্গির (ফোকলোর), আরিফ (ব্যবস্থাপনা)।
ছাত্রলীগের আহতরা হলেনÑ তুহিন, কৌশিক, আলামিন, তাকিম, রবিউল, সেতু। এ সময় ভাষা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রবিউল ইসলামকে শিবির সন্দেহে মারধর করে। মারধরের একপর্যায়ে তাকে চাকু দিয়ে জখম করে। পরে আহতদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ছাত্রলীগের ওপর শিবিরের হামলার প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে দফায় দফায় সশস্ত্র মিছিল করে। ছাত্রশিবিরকে ক্যাম্পাস থেকে তাড়িয়ে দেয়ার পর টুকিটাকি চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে তারা।
এদিকে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ার প্রতিবাদে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর চৌধুরী মো. জাকারিয়ার সঙ্গে বাকবিত-ায় জড়িয়ে পরে। এ বিষয়ে প্রক্টর চৌধুরী মো. জাকারিয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করি। এ সময় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়েছে।’ এছাড়াও পরিস্থিতি শান্ত করতে গিয়ে লাঞ্ছিত হয়েছেন প্রক্টোরিয়াল বডির ছয় সদস্য।
মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এসএম মনিরুজ্জামান জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত আছে। তবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাতে সহিংসতা না ছড়াতে পারে সেজন্য র্যাব-৫ এর সদস্যরা পুলিশের সঙ্গে কাজ করছে। ক্যাম্পাসে বর্তমানে ৬ প্লাটুন পুলিশ অবস্থান করছে। তিনি বলে, ‘সামনে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা। এ পরীক্ষার সময় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরই এ ধরনের সংঘর্ষ হয়। গত কয়েকদিন ধরে শিবির ও ছাত্রলীগ শো-ডাউন করছে। তবে এবার তাদের মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেয়া হবে না।’
এ ঘটনায় মতিহার থানায় পুলিশ ক্যাম্পাস সংলগ্ন বিনোদপুর, কাজলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে শিবিরের ১০ নেতাকর্মীকে আটক করেছে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন স্টেশনের কাছে গুলির শব্দের ঘটনায় রাতে ছাত্রলীগ মতিহার থানায় শিবিরের অজ্ঞাতনামা অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীকে দায়ী করে একটি মামলা করে। এ ঘটনারই জের ধরে শিবিরের কর্মীরা গতকাল সকালে ক্যাম্পাসে অবস্থান নেয়।




