সন্মান হারানোর ভয়ে, বড় বাপের বড় পোলা খায়

৩১ মে, ২০১৭ ১৬:৩০:০০

নাজমুস সাকিব সোহান,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট:

খানদানি ইফতার মানেই ‘বড় বাপের বড় পোলা খায় ঠোঙ্গা ভইরা নিয়া যায়’ পুরান ঢাকার ঐতিহ্য বাহী এই ইফতার চলে আসছে যুগ যুগ ধরে। কালক্রমে এখন এই ইফতার অনেক জাগায় ছড়িয়ে গেলেও পুরান ঢাকার এই ইফতারের স্বাদটাই মনে হয় একটু আলাদা।

প্রতি বছরের মত এই বছরেও জমজমাট চকবাজারের ইফতারির দোকান গুল সহ, নাজিমউদ্দিন রোড,চক সার্কুলার রোড,নর্থ সাউথ রোড,শাহী মসজিদ রোডসহ বিভিন্ন এলাকা। সকাল থেকেই শত শত দোকান তৈরি হচ্ছে রকমারি ইফতারি।

দুপর ২ টা থেকে বন্ধ হয়ে যায় এলাকার রাস্তা গুল, ঢল নেমে আসে মানুষের ইফতারির দোকান গুলোর সামনে।

একেক দোকানে একেক ধরনের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ইফতারি পণ্যের সমাহারে পুরান ঢাকা সাজবে বৈচিত্র্যময়। সেখানে এই রকমারি ইফতার বাজারের একটি জনপ্রিয় আইটেম 'বড় বাপের পোলায় খায়।

১৫ পদের খাবার আইটেমের সঙ্গে ১৬ ধরনের মসলা মিশিয়ে ৩১ পদের যে মিশ্রণ তৈরি হয় তার নামই 'বড় বাপের পোলায় খায়’।

পুরান ঢাকার মানুষ কেউই কোন অংশে কারো থেকে কম নয়। যখন বড় বাপের বড় পোলা খায় বলে ডাক শুনে, তখন এক ঢাকাইয়া এই খাবার কিনতে দাঁড়ালে, অন্য ঢাকাইয়াও নিজের সন্মান ধরে রাখার জন্য কিনতে বাধ্য হয়, আর এই ফাঁকে লাবভান হয় ব্যবসায়ীরা।

যার হাত দিয়ে এই আইটেমটির উৎপত্তি তিনি হলেন পুরান ঢাকার বাসিন্দা দাতা মোহাম্মদ কামাল মাহমুদ,যিনি কামেল মিয়া নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি বরাবরই ছিলেন একজন ভোজনরসিক মানুষ। নানা ধরনের মজাদার খাবার তৈরি করতে জানতেন তিনি। এই খাবারটিও তারই সৃষ্টি।

প্রায় ৭০ বছর আগে তিনিই প্রথম এই মুখরোচক খাবারটি তৈরি করে এখানে বিক্রি শুরু করেন। বটপাতার ডালায় করে তিনি বিক্রি করতেন 'বড় বাপের পোলায় খায়’।
তিন পুরুষ পার করে এখনও ধরে রেখেছেন কামাল মিয়ার বংশধর এই ঐতিহ্যবাহী খাবার।

কেবল এই আইটেমটির জন্য রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতারা ছুটে যান চকবাজারে। এখনো পুরান ঢাকার এমন অনেক পরিবার আছে, যাদের এটি ছাড়া ইফতার পূর্ণতা পায় না। নতুন ঢাকার বাসিন্দারাও দিন দিন এই খাবারটির প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছেন। বর্তমানে মূল্য প্রতি কেজি ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত।
শুধু মাত্র বড় বাপের বড় পোলা নয়, আছে নানা ধরনের মজাদার ইফতারি।

খাসির রোস্ট ১৮০ থেকে ২২০, কোয়েলের রোস্ট ৬০, খাসির কাবাব ৫০ টাকা এবং দই বড়া ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ডিম চপ ১৫, মুরগি ভাজা ১৮০, মুরগির ফ্রাই ৫০, মাঠা ৫০ টাকা লিটার, লাবাং ৮০ টাকা, চিকেন ছাসনি ২০ থেকে ৩০ টাকা বিক্রি হতে দেখা যায়।

চকবাজারে ব্যাপক বিক্রি হচ্ছে মালপোয়া ও গজা। একটি মালপোয়ার দাম ২০ টাকা ও গজা দুটি ২০ টাকা। এ ছাড়া পাওয়া যাচ্ছে সাধারণ ইফতার সামগ্রীও। তবে উপাদান ও তৈরিতে কিছু ভিন্নতা রয়েছে এখানেও।

পাওয়া যাচ্ছে বুটের ডাল ও মাংসের কিমা দিয়ে তৈরি টিক্কা কাবাব, ডিম চপ ১৫ টাকা, দুই টাকার ফুলুরি, আলুর চপ, পিঁয়াজু ও ১২ টাকার সবজি বড়া।

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: