আব্দুল্লাহ আল মামুন

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

যেসব কারণে আন্দোলনে ব্যর্থ বিএনপি

১৯ অক্টোবর, ২০১৭ ১৬:৩৭:০৪

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে কয়েক দফা আন্দোলন করেছে বিএনপি। টানা তিন মাস আন্দোলন করেও সুনির্দিষ্ট সফলতা পায়নি দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা খালেদা জিয়ার দল। আন্দোলন সফল না হওয়ার কারণে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনার মুখে পড়েছে বিএনপি। এমন কি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও বিএনপির মূল্যহীন আন্দোলন নিয়ে সমালোচনা করেছে।

এ নিয়ে আওয়ামী লীগের একাধিক সিনিয়র নেতা বলেন, বিএনপি জনগণের মন না বুঝে জনবিরোধী কর্মসূচি দিয়েছে। যার ফলে তাদের আন্দোলন বার বার ব্যর্থ হয়। বিএনপি আন্দোলন ও নির্বাচন দুটোতেই ব্যর্থ। নির্বাচনের মাঠে নেমে মাঝপথে তারা যেভাবে পালিয়ে যায় আবার আন্দোলনে নামার পরও মাঝপথ থেকে তারা পালিয়ে যায়। অবশ্য পালিয়ে যাওয়া বিএনপির স্বভাব।

বিএনপি বিভিন্ন ইস্যুতে বার বার আন্দোলন করলেও সফলতার মুখ দেখেনি কেন? এ বিষয়ে দলের একাধিক সিনিয়র নেতা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বিডি২৪লাইভকে জানান, রাজনৈতিক দলের পুনর্গঠন একটি গুরুত্বপূর্ণ চলমান প্রক্রিয়া। নতুন নেতৃত্ব তৈরীর জন্য রাজনৈতিক দলের পুনর্গঠনের কোনো বিকল্প নেই। তার কারণ শরীরে যেমন নতুন রক্ত না হলে মানুষ বাঁচে না, তেমনি রাজনৈতিক দলে নতুন নেতৃত্ব তৈরি না হলে তার বিকাশ ঘটে না। বিএনপি অতীতে দল পুনর্গঠনে হাত দিয়েছে, বর্তমানেও পুনর্গঠন প্রক্রিয়া চলছে কিন্তু অতীতে পুনর্গঠনের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী বিএনপিরর আত্মপ্রকাশ কার্যে পরিলক্ষিত হয়নি। যার ফলে এশিয়ার অন্যতম একটি বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হওয়া স্বত্ত্বেও রাজপথ থেকে ফিরে আসতে হয়েছে দলটিকে।

নেতারা বলেন, আবার দল পূনর্গঠনের সুযোগে জনবিচ্ছিন্ন, রাজনীতি বিমুখ, ব্যবসায়ী ও কিছু সুবিধাবাদী লোকেরা দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ-পদবিতে অধিষ্ঠ। দল যখন অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে রাজপথে নেমে পড়েছে ঠিক তখনই এই সব লোকেরা নিজেদের ব্যবসা ও নিরাপদে থাকার জন্য সরকারের সাথে আঁতাত করেছে বা গাঁ ডাকা দিয়েছে। ফলে অভিভাবকহীন কর্মীরা মাঝ পথে গিয়ে দিক শূণ্য হয়ে পড়েছে। যার ফলে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের অদম্য সাহস, নিষ্ঠা ও একাগ্রতা থাকা স্বত্ত্বেও আন্দোলনে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি।

তারা আরও জানায়, আওয়ামী লীগ বাধাহীনভাবে বেগম খালেদা জিয়াকে মঈনুল রোডের বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি একতরফা নির্বাচন করেছে। এসব কারণে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাহস বেড়ে গেছে। তাই তারা এখন যা খুশি তাই করছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী বিডি২৪লাইভকে বলেন, গত ৮ বছরে বিএনপির উপর যে নির্যাতন করা হয়েছে। পাকিস্তান থেকে শুরু করে এ যাবত কালের ইতিহাসে এটা নাই।

তিনি বলেন, বিএনপির মহাসচিবের নামে ১৬৩টি মামলা। দেশের ৩ বারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন খালেদা জিয়া বিচার বিভাগকে সম্মান দেখিয়ে মামালার সাত দিন পরে পরে কোর্টে হাজির হন। আজকে বিএনপি কোথায় আছে? আমরা একটা মিছিল করতে পারিনা। দলের ১৬৩ জন কর্মীকে গুম করা হয়েছে। এমন কোনো নেতা নেই যার নামে দশটি মামলা নেই। এই যে স্টিম রোলার, এই যে স্বৈরশাসন বাংলাদেশে আমরা আইয়ুব খান, ইয়াহিয়া খান তার বাপের শাসনও দেখছি কিন্তু এই রকম শাসন কখনো দেখিনি। সেই জন্য বিএনপি এত হামলা মামলার পরেও তার সাধ্য মত আপনারা দেখছেন সকল বিষয় নিয়ে সিরিজ ভাবে জনগণকে সচেতন করার জন্য আন্দোলন করেছে এবং আগামী দিনে আমরা অবশ্যই আন্দোলনে যাব। এই আন্দোলনের ভিত্তি আমরা এখন থেকে প্রস্তুত করছি।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, সব আন্দোলনে আমাদের অবস্থান ভালো ছিল। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে আমরা আন্দোলন করার কারণেই ১৫৩টি আসনে প্রার্থী দিতে পারেনি। এটা আমাদের আন্দোলনেরই ফসল। তাছাড়া যেসব স্থানে ভোট হয়েছে। সেইসব ভোট কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। সুতারং বিএনপির আন্দোলন ব্যর্থ হয়নি।

বিডি২৪লাইভ/এএএম/এমআর

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: