আব্দুল্লাহ আল মামুন

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

সমাবেশে থাকবেন খালেদা

নতুন চমক দেখাতে প্রস্তুত বিএনপি

০৯ নভেম্বর, ২০১৭ ১২:২৩:১২

দীর্ঘদিন মাঠের রাজনীতির বাইরে থাকা বিএনপি আবারও রাজপথে নামতে চায়। জানা গেছে, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন থেকেই বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নেয়া এই দলটি।

দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার লন্ডন সফর শেষে দেশে ফেরা, দেশে ফিরে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনের পর দলের নেতাকর্মীরা অনেক উজ্জীবিত হয়েছেন। এ সফরগুলোতে তারা তাদের শক্তি সম্পর্কে জানান দিয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় উজ্জীবিত নেতাকর্মীদের গতি আরও বাড়াতে আগামী ১২ই নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে দলটি। আর এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

জনসভাকে সফল করার জন্য লক্ষ্যে ইতোমধ্যে জোর প্রস্তুতি শুরু করেছে বিএনপি। দলীয় সূত্র মতে, দীর্ঘদিন আন্দোলন সংগ্রামের বাইরে থেকে দলের নেতাকর্মীরা তাদের গতি পথ হারিয়ে ফেলেছিলো প্রায়। বেগম জিয়ার লন্ডন সফর, সফর শেষে দেশে ফেরা ও কক্সবাজার রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনের পর আবারও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে দলের নেতাকর্মীরা।

এ বিষয়ে দলটি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিডি২৪লাইভকে বলেন, আগামী ১২ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে জনসভায় সরকারের সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছে বিএনপি।

জনসভায় দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া উপস্থিত থাকবেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, কিভাবে জনসভা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পূর্ণ করা যায় তা নিয়ে দলীয় নেতার্মীদের সাথে বৈঠক চলছে।

বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপি সমাবেশে কি ধরণের প্রস্তুতি হাতে নিয়েছে এবং এই সমাবেশের ফলে নেতাকর্মীদের গতি ফিরবে কিনা? জানতে চাইলে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ডালি বিডি২৪লাইভকে বলেন, আমরা আমাদের সাধ্যমত চেষ্টা করছি। ঢাকা মহানগর, গাজীপুরসহ ঢাকার আশপাশের সব নেতাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা হয়েছে। ম্যাডামকে এয়ারপোর্টে দেয়া সংবর্ধনায় মানুষের ঢল নেমেছে।

ম্যাডাম কক্সবাজার গেছেন পথে পথে মানুষ তাকে স্বতঃফূর্তভাবে স্বাগত জানিয়েছেন। আমাদের দেশের সবচেয়ে ‌ক্যারিশম্যাটিক নেতা খালেদা জিয়া। ক্যারিশম্যাটিক নেতারা যেদিকে যান সেখানে এমনিতো একলাখ লোকের উপস্থিতি থাকে।বাংলাদেশের একমাত্র জনপ্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। শুধু জনপ্রিয়ই নয়, জনগণের কাছে ব্যাপক ভাবে গৃহিত ও সমাদৃত। সেখানে তার জনসভায় মানুষের ঢল নামবে বলে আমরা আশাবাদী। তাছাড়া আমাদের প্রস্তুতি তো রয়েছেই।

একটা রাজনৈতিক দল সমাবেশ করে দুইটা কারণে। সমাবেশের মধ্যে দিয়ে প্রতিপক্ষকে একটা ম্যাসেজ দেয়া এবং পাশাপাশি নিজ দলের নেতাদের উজ্জীবিত করা। কর্মীদেরকে পরবর্তী আন্দোলনে ঝাপিয়ে পরার জন্য তাদেরকে দিক নিদের্শনা দেয়া হয়। ম্যাডামের এয়ারপোর্ট থেকে আসার যে উদ্দীপনা সেটাকে কক্সবাজার পর্যন্ত টেনে নিয়ে গিয়েছে। তো একই ঘটনা আমরা আশা করছি ঢাকায়ও ঘটবে। যদি সরকার কোনো ষড়যন্ত্র না করে। আমরা জানি, সরকার অত্যন্ত দুর্বল, জনগণের চাপের মুখেই তারা আমাদেরকে অনুমতি দিছে। সরকার জনগণের চাপে আছে। জনগণের ঢল দেখেই ভয়ে সরকার আমাদেরকে অনুমতি দিয়েছে। আগামী দিনের আন্দোলন-সংগ্রাম এবং নির্বাচন সবকিছুকে সামনে রেখেই এই সমাবেশ করছি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বিডি২৪লাইভকে বলেন, আমাদের এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আমাদের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। আমরা আমাদের সাধ্যমতই এই সমাবেশকে সফল করার জন্য যা কিছু করার দরকার তাই করব। আমরা আশাবাদী এই সমাবেশের মাধ্যমে আমাদের নেতাকর্মীরা আরও উজ্জীবিত হবে।

বিডি২৪লাইভ/এএএম/এমআর

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: