আরিফুল ইসলাম

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

রোহিঙ্গা সমস্যা শুধু বাংলাদেশের একার নয়: মালয়েশিয়ার নারী এমপি

০৯ নভেম্বর, ২০১৭ ১৩:২৩:১৮

মালয়েশিয়ার এমপি ড. ডাটো নোরানি আহমেদ সিপিএ সম্মেলনে যোগ দিতে ঢাকায় এসেছিলেন। তিনি কমনওয়েলথ উইমেন পার্লামেন্টারিয়ানের চেয়ারপারসন হিসেবে নারীদের নেতৃত্ব ও ক্ষমতায়ন নিয়ে কাজ করছেন। সিপিএ সম্মেলনের শেষ দিনে বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশের প্রথম সারির অনলাইন নিউজ পোর্টাল বিডি টুয়েন্টিফোর লইভ ডটকমের সঙ্গে একান্তে কথা বলেছেন। তার সঙ্গে কথোপকথনের চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো:-

বিডি২৪লাইভ ডটকম: বর্তমান সময়ে বাংলাদেশকে কিভাবে দেখছে মালয়েশিয়া?
ড. ডাটো নোরানি আহমেদ: বাংলাদেশ আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র।এ সম্পর্ক বহু দিনের। বর্তমানে রোহিঙ্গা নিয়ে বাংলাদেশ যে সমস্যায় রয়েছে আশা করি এটি দ্রুত সবার হস্তক্ষেপে সমাধান হবে। মালয়েশিয়া সব সময় বাংলাদেশের পাশে ছিল আগামী দিনও থাকবে। রোহিঙ্গা সমস্যা শুধু বাংলাদেশের একার নয়, এটি সমগ্র বিশ্বের সমস্যা। বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বের। এ ইস্যুতে মুসলিম বিশ্বকে এক হওয়ার সময় এসেছে। রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে মুসলিম বিশ্বের অনেক কিছু করার রয়েছে।

বিডি২৪লাইভ ডটকম: বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ সিপিএর আয়োজন কে কিভাবে মূল্যায়ন করবেন?
ড. ডাটো নোরানি আহমেদ: বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আমার ভাল লেগেছে। সিপিএর মত একটি আয়োজন সুন্দর ভাবে শেষ করার জন্য আমি বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানাই। এখানে অনেকের সঙ্গে কথা বলে ভাল লেগেছে।

বিডি২৪লাইভ ডটকম: নারী ক্ষমতায়নে কি ধরনের কাজ করলে নারীরা তাদের অধিকার পাবে?
ড. ডাটো নোরানি আহমেদ: প্রচলিত ধারণা ও মানসিকতা নারী অগ্রগতির অন্যতম বাঁধা। কমনওয়েলথভুক্ত সদস্য দেশগুলোর সংসদে সর্বনিম্ন ৩০ শতাংশ নারীর অংশগ্রহণ অর্জন করার প্রত্যাশা এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কমনওয়েলথভুক্ত ৫২টি দেশের ১৮০ সংসদ রয়েছে। কিন্তু এখনো অনেক সংসদ রয়েছে যেখানে একজনও নারী প্রতিনিধি নেই। বর্তমানে ১৪৪টি সংসদে ন্যূনতম ৩০ শতাংশ নারীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

বিডি২৪লাইভ ডটকম: মালয়েশিয়া মুসলিম রাষ্ট্র, এখানে নারীর ক্ষমতায়নে কীভাবে কাজ করা হয়?
ড. ডাটো নোরানি আহমেদ: মালয়েশিয়া এখন পর্যন্ত যেসব সরকারি সিদ্ধান্ত হয়েছে তা খুবই ভালো। এমনকি সর্বশেষ বাজেটেও প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন যে ২০১৮ সাল হবে নারী ক্ষমতায়নের বছর। এমনকি নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যেসব কর্মজীবী নারী আছেন তাদের বিশেষ ইনসেনটিভ দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যদি কোনো কর্মজীবী নারী গর্ভবতী থাকেন তাহলে তাদের কাজের সময় কমানো ছাড়াও বিশেষভাবে ইনসেনটিভ দেয়া হচ্ছে। নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য মালয়েশিয়া ১২০ মিলিয়ন মালেশীয় কারেন্সি বরাদ্দ দিয়েছে। কিন্তু নারীদের ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে এখনও ৩০ শতাংশ পূরণ করতে পারিনি আমরা। মালয়েশিয়ায় মাত্র ১১ ভাগ নারী সরকারি ও বিরোধীদলীয় এমপি হিসেবে রয়েছেন।

বিডি২৪লাইভ ডটকম: ড. ডাটো নোরানি আহমেদ আপনাকে ধন্যবাদ আপনার মূল্যবান সময় দেওয়ার জন্য।
ড. ডাটো নোরানি আহমেদ: আপনাদেরও ধন্যবাদ। বাংলাদেশ এবং বিডি২৪লাইভ ডটককমের শুভকামনা করছি।

বিডি২৪লাইভ/এসআই/এমআর

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: