সম্পাদনা: হৃদয় খান

ডেস্ক কন্ট্রিবিউটর

মিলিটারি অ্যাডভাইজরের অভিনন্দন

শান্তিরক্ষী প্রেরণে বাংলাদেশের অবস্থান উন্নীত

১৪ নভেম্বর, ২০১৭ ১২:১৩:০০

সাখাওয়াত হোসেন সেলিম, নিউইয়র্ক থেকে: জাতিসংঘে শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে উন্নীত হওয়ায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের মিলিটারি অ্যাডভাইজর বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানিয়েছে।

জাতিসংঘ সদরদপ্তরে ১৩ নভেম্বর সকালে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের মিলিটারি অ্যাডভাইজর লেফটেন্যান্ট জেনারেল কার্লোস হামবার্টো লইটি এর সাথে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো: মোজাম্মেল হক খানের এক বৈঠকে এ অভিনন্দন জানানো হয়।

বৈঠককালে মিলিটারি অ্যাডভাইজর লইটি সম্প্রতি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ দ্বিতীয় অবস্থানে উন্নীত হওয়াসহ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অব্যাহত ও সাফল্যমন্ডিত ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। বিভিন্ন মিশনে কর্মরত বাংলাদেশী শান্তিরক্ষীদের পেশাগত দক্ষতা ও নিবেদিত দায়িত্বপালনের ভূয়সী প্রশংসা করে লইটি আশা করেন আগামী দিনগুলোতেও বাংলাদেশের এই ভূমিকা অব্যাহত থাকবে ও উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে। শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা রক্ষার বিষয়টি জাতিসংঘের প্রাধিকারভুক্ত মর্মেও তিনি উল্লেখ করেন।

সিনিয়র সচিব ড. মো: মোজাম্মেল হক খান বিশ্ব শান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতির কথা ব্যক্ত করে বলেন জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ সবসময়ই তার অগ্রণী ভূমিকা অব্যাহত রাখবে এবং নিবেদিতভাবে কাজ করে যাবে। তিনি বিভিন্ন শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্বরত বাংলাদেশী শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে মিলিটারি অ্যাডভাইজরকে অনুরোধ জানান।

সিনিয়র সচিব জানান, পরিবর্তনশীল শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশ তার শান্তিরক্ষীদের সার্বিক দক্ষতা ও দ্রুত মোতায়েনের সামর্থ্য বৃদ্ধির বিষয়টিতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং নারী শান্তিরক্ষীদের সংখ্যা বৃদ্ধির জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। হৃদ্যতাপূর্ণ এ বৈঠকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অংশগ্রহণসহ বিভিন্ন ইস্যুতে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। বৈঠককালে সিনিয়র সচিব মিলিটারি অ্যাডভাইজরকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান এবং এ সংক্রান্ত একটি আমন্ত্রণপত্র হস্তান্তর করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জালাল আহমেদ, জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি তারেক মো: আরিফুল ইসলাম ও বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর এয়ার কমোডর মোহাম্মদ বেলাল।

উল্লেখ্য, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো: মোজাম্মেল হক খানের নেতৃত্বে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সদস্যসহ পাঁচ সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল ইতোমধ্যে ‘গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গো’তে নিয়োজিত বাংলাদেশী শান্তিরক্ষী কন্টিনজেন্ট পরিচালিত বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এ সফরের অংশ হিসেবে তাঁরা জাতিসংঘ সদরদপ্তরে শান্তিরক্ষা কার্যক্রম সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে মতবিনিময় করেন।

এরপর সিনিয়র সচিব ড. মো: মোজাম্মেল হক খান জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন পরিদর্শন এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে মিশনের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন। মতবিনিময়কালে সাম্প্রতিক মিয়ানমার সঙ্কট মোকাবিলায় মিশন গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের বিষয়ে সিনিয়র সচিবকে অবহিত করা হয়।

এছাড়া শান্তিরক্ষা কার্যক্রম ও জাতিসংঘের বিভিন্ন কমিটির আওতায় মিশনের অংশগ্রহণ ও ভূমিকার বিষয়েও বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন এ সময় উপস্থিত ছিলেন।


বিডি২৪লাইভ/এইচকে

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: