সম্পাদনা: আরাফাত হোসেন রবিন

ডেস্ক এডিটর

সমাবেশের পর যেসব অর্জন দেখছে বিএনপি

১৪ নভেম্বর, ২০১৭ ১৩:৩২:৪৮

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কেন্দ্র করে তিনটি গণজমায়েত হয়েছে পরপর। চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার পর বিমানবন্দর সড়ক, রোহিঙ্গাদের দেখতে যাওয়ার পথে ঢাকা থেকে কক্সবাজার মহাসড়ক ও সর্বশেষ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশ। নানামুখী প্রতিকূলতার পরেও ঢল নামে নেতা-কর্মীদের। এমন লোক সমাগম হওয়ায় উজ্জ্বীবিত দলটির কেন্দ্র থেকে তৃণমূল। ২৩ শর্ত ও পদে পদে বাধা উপেক্ষা করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিপুল এ গণসমাবেশের মাধ্যমে বেশকিছু অর্জন হয়েছে বলে মনে করেন বিএনপি নেতারা। এর মধ্যে অন্যতম আত্মবিশ্বাস।

জনসমর্থনের আত্মবিশ্বাসে বিএনপি এখন দারুণভাবে চাঙ্গা। বিএনপির নীতিনির্ধারক ফোরাম থেকে তৃণমূল পর্যন্ত বেশিরভাগ নেতার দৃষ্টিতে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়াটাই সবচেয়ে বড় অর্জন। নেতারা বলছেন, বিএনপি ক্ষমতার বাইরে রয়েছে এক যুগ। ক্ষমতা ছাড়ার পর যে প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তার উত্তরণ ঘটেনি দীর্ঘ এ সময়ে। ওয়ান ইলেভেনের জরুরি সরকারের ধারাবাহিকতায় বিএনপি নেতাকর্মীদের মামলার বেড়াজালে বন্দি করে রেখেছে আওয়ামী লীগ সরকার। হামলা-মামলার পাশাপাশি খুন-গুমের শিকার হয়েছে অসংখ্য নেতাকর্মী। মামলার সেঞ্চুরি-ডাবল সেঞ্চুরি হয়েছে বহু নেতার। এতকিছুর পরও বিএনপি নেতাকর্মীদের টলানো যায়নি।

বিএনপি নেতারা বলছেন, রাজনৈতিক দলের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে জনগণ। জনগণের বিপুল সমর্থন অর্জন যে কোনো রাজনৈতিক দলের জন্য অনুপ্রেরণার। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি এখন ব্যাপক জনসমর্থনে উজ্জীবিত-অনুপ্রাণিত। আগামী দিনের আন্দোলন বা নির্বাচনে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। পরপর তিনটি গণজমায়েত সরকারকে যেমন বার্তা দেবে তেমনি বিএনপির জনপ্রিয়তা সম্পর্কে বার্তা পাবে আন্তর্জাতিক মহল। জনতার স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন দেখে কঠোর কর্মসূচিতে না গিয়ে জনগণকে সঙ্গে নিয়েই নির্বাচনকেন্দ্রিক দাবি আদায় করতে চায় বিএনপি। এ কারণে খুব শিগগিরই ঢাকার বাইরে খালেদা জিয়ার আরো কয়েকটি সমাবেশ কর্মসূচি গ্রহণের চিন্তা-ভাবনা শুরু হয়েছে। জানা গেছে, জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন আমলে নিয়ে আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রচারণায় নামতে পারেন খালেদা জিয়া। রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল ও গাজীপুর সিটি নির্বাচনে সড়কপথে সফর করে সারা দেশের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করাই এর মূল লক্ষ্য।

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে তিনটি গণজমায়েত বিএনপি নেতাকর্মীদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে। চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার পর বিমানবন্দর সড়কে যে বিপুল অংশগ্রহণের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে এ দেশের মানুষ অভ্যর্থনা জানিয়েছে তা খুব সাধারণ ঘটনা নয়। এটা ছিল সরকারের প্রতি সাধারণ মানুষের বার্তা। রোহিঙ্গাদের দেখতে কক্সবাজার যাওয়ার পথে ঢাকা থেকে উখিয়া পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশে দাঁড়িয়ে মানুষ বিএনপি চেয়ারপারসনকে যেভাবে স্বাগত জানিয়েছে তা ছিল অনেকটাই অভূতপূর্ব। সারা দেশের বিএনপি নেতাকর্মীদের সে চাঙ্গা হওয়া আত্মবিশ্বাসে নতুন মাত্রা যোগ করেছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশ।

ড. মোশাররফ বলেন, সরকার মামলা-মোকদ্দমা দিয়ে, নির্যাতন-নিপীড়ন চালিয়েও মানুষের মনোভাবের পরিবর্তন ঘটাতে পারেনি। সমাবেশের আগে পুলিশ যেভাবে ঘরে ঘরে অভিযান চালিয়েছে, সারা দেশ থেকে ঢাকামুখী বাস বন্ধ রেখেছে, পথে পথে যানবাহনে তল্লাশি চালিয়েছে তার তোয়াক্কা না করেও নেতাকর্মীরা সমাবেশে যোগ দিয়ে প্রমাণ করেছে চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তারা উৎসাহ হারায়নি। মানুষের সমর্থনই হচ্ছে রাজনৈতিক দলের অক্সিজেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশে সে অক্সিজেনের নতুন মাত্রা দিয়েছে।

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, জনসমর্থন ধরে রাখার বিষয়টি প্রমাণ করতে পারাই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশের মাধ্যমে বিএনপির সবচেয়ে বড় অর্জন। এখানে দলের নেতাদের চেয়ে বেশি কৃতিত্ব সাধারণ মানুষের। সরকারের নির্যাতন-নিপীড়নে অতিষ্ঠ জনগণ যেভাবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সমাবেশে অংশ নিয়েছে তা আমাদের যেমন অনুপ্রাণিত করেছে একইভাবে একটি বার্তা পেয়েছে সরকার। সাধারণ মানুষ প্রমাণ করেছে তাদের সমর্থন এখনো বিএনপির প্রতি অব্যাহত আছে।

মামলা-হামলার মাধ্যমে সরকার সে সমর্থন সরাতে পারেনি। স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, মৌলিক ও নাগরিক অধিকার হারানোর পাশাপাশি সরকারের নানা কর্মকাণ্ডে দেশের মানুষ দারুণভাবে হতাশাগ্রস্ত। তাই নানারকম বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে বারবার গণমানুষের নেত্রী খালেদা জিয়াকে কেন্দ্র করে সমবেত হওয়ার মাধ্যমে তারা সরকারের বিরুদ্ধে তাদের সে হতাশা ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছে। খালেদা জিয়া ও তার আন্দোলনের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করছে।

তিনি বলেন, জনগণ যখন এগিয়ে আসে তখন যেকোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাই উজ্জীবিত-অনুপ্রাণিত হয়। স্বাভাবিকভাবে সারা দেশের বিএনপি নেতাকর্মীরাও সোহরাওয়ার্দীর সমাবেশের মাধ্যমে আত্মবিশ্বাস পাবে, অনুপ্রাণিত-উজ্জীবিত হবে। দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় নির্বাচনের দাবি আদায়ে বিএনপি ঘোষিত যে কোনো কর্মসূচিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। ওদিকে এক টুইট বার্তায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশ সফল করায় নেতা-কর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। সূত্র: মানবজমিন


বিডি২৪লাইভ/এএইচআর

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: