অনুমোদন ছাড়াই নিয়োগের অভিযোগ

১৫ নভেম্বর, ২০১৭ ১০:৩৮:০০

ফরমান শেখ এলিন, টাঙ্গাইল থেকে: নানান অনিয়ম, দুর্নীতি, হয়রানি, অকথ্য ভাষায় শিক্ষার্থীদের গালাগালি ও লাঞ্ছিত সর্বশেষ বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদ কমিটির সভাপতিকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের নিকরাইল বেগম মমতাজ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে।

আর এ নিয়ে এলাকায় তীব্র তোলাপাড়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে টাঙ্গাইল জেলা শিক্ষা অফিসার লায়লা খানম, ভূঞাপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শাহিনুল ইসলাম, নিকরাইল ইউপি চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মতিন সরকারসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ মানুষের উপস্থিতে শিক্ষক ইকবাল হোসন ও পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মো. আবু সুফিয়ান আল-মাসুদের সাথে গত ১২-১০-২০১৭ ইং তারিখে মীমাংসা করিয়ে বিদ্যালয় উন্নয়ন লক্ষ্যে মিলেমিশে কাজ করা কথা বলা হলেও প্রধান শিক্ষক ইকবাল হোসেন তা কাউকে পাত্তা দিচ্ছেন না এমন অভিযোগ ওঠে। মীমাংসার কয়েকদিন পর থেকেই তিনি আরো জোড়ালোভাবে বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে পাওয়া অভিযোগ থেকে জানা যায়, শিক্ষক ইকবাল হোসেন ২০১৫ সালে নানা অনিয়মের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের অর্থ বিনিময়ে নিয়োগ পান নিকরাইল বেগম মমতাজ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতায়। এ নিয়ে একটি মামলাও হয়েছিল যার বাদী ছিলেন অপর প্রার্থী মো. ইব্রাহীম তালুকদার। নিয়োগ পাওয়ার পরপরই তিনি জড়িয়ে পড়েন নানা রকম অনিয়মে। বিদ্যালয়ের আয়ের অংশ তোলে তার পকেটে। বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিয়ে চালু করেন কোচিং বাণিজ্য। সরকার প্রদত্ত গরিব অসহায় শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির একটি অংশ কর্তন করে ভাগ করে নেন এই শিক্ষক। পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকেও করেন নকল সরবরাহের জন্য অতিরিক্ত করতে টাকা আদায়।

এখানেই শেষ নয়। ২০১৫ সালের হিসাব বিজ্ঞান শিক্ষক শূন্য থাকা পরেও মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে সামাজিক বিজ্ঞান পদে মানবিক শাখায় মনিরুজ্জামানকে নিয়োগ দেন। জাল সার্টিফিকেট থাকা সত্ত্বেও গ্রন্থাগারিক পদে সাড়ে তিন লাখ টাকায় নিয়োগ দেন হুমায়নকে।

শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির জরিমানার টাকা বিদ্যালয় ফান্ডে জমা না দিয়ে তোলেন নিজ পকেটে। বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির অনুমতি ও রেজুলেশন ছাড়াই আরেক এক শিক্ষক ডলি আয়াকে নিয়োগ দেন। এছাড়াও আরো শতশত অভিযোগ রয়েছে এই প্রধান শিক্ষক ইকবালের নামে।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলছে, তার কাছে কোন কিছু জানতে চাইলে তার উত্তর না দিয়ে উল্টো নানা রকম বাজে নোংরা, অকথ্য ভাষায় কথাবার্তা ও হয়রানি ও গালিগালাজ করে থাকেন এই প্রধান শিক্ষক। তার ভয়ে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদেও করতে পারে না। তার এই ব্যবহারে অভিভাবকরাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

নিকরাইল বেগম মমতাজ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি বিডি২৪লাইভকে বলেন, মাস খানেক আগে বিষয়টি জেলা শিক্ষা অফিসার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মতিন সরকার সহ বিদ্যালয়ের সকলের উপস্থিতে প্রধান শিক্ষকের সাথে মীমাংসা করে একটি মেলবন্ধন করে দেন। কিন্তু এসব কিছুই তিনি মানছে না। বিভিন্ন জায়গায় তিনি নানান ধরণের মন্তব্যও করছেন।

তিনি আরো বলেন, গত ২৬-১০-২০১৭ ইং তারিখে পত্র যোগে মিটিংয়ের জন্য প্রধান শিক্ষককে অনুরোধ করা হয়। কিন্তু তিনি তাতে রাজি হননি। তারপর ০২-১১-২০১৭ ইং তারিখে আবার মিটিং করার জন্য অনুরোধ করা হয়। বিদ্যালয় মানোন্নয়নের লক্ষে এভাবে বার বার অনুরোধ করা সত্ত্বেও তিনি কিছুই মানছে না এবং আলোচনার মিটিং পত্র গ্রহণ না করে এগুলো পাত্তা দিচ্ছেন না। তিনি আরো উল্টো সুরে কথা বলছেন।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইকবাল হোসেন বিডি২৪লাইভকে বলেন, শিক্ষাবোর্ডের সকল নিয়ম মেনেই বিদ্যালয় চলছে। কিছু অসাধু চক্র আমাকে হেয় করতেই মিথ্যা বানোয়াট কথা বলে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। শিক্ষার্থীদের নানা ভাবে হয়রানির অভিযোগ বিষয়টি তিনি অস্বীকার করে জানান, এরকম কোন ঘটনা ঘটেনি। এটাও ঘড়যন্ত্র।

নিকরাইল ইউপি চেয়ারম্যান বিডি২৪লাইভকে জানান, মো. আব্দুল মতিন সরকার জানান, বিদ্যালয়ে শান্তির লক্ষে এর আগে মীমাংসা করে দেয়া হয়। কিন্তু কাউকে পাত্তা দিচ্ছে এ বিষয়ে আমি অবগত নই। তিনি জানান, মিটিং কল করার ইখতিয়ার বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের নয়। প্রধান শিক্ষকের।

ভূঞাপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শাহীনুল ইসলাম বিডি২৪লাইভকে বলেন, প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির মধ্য যে দুরত্ব সৃষ্টি হয় তা সকলে উপস্থিতির মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে মেলবন্ধন করে দেয়া হয়। পরবর্তীতে তাদের মধ্য কী হয়েছে সেটির বিষয়ে অভিযোগ পাইনি।


বিডি২৪লাইভ/এইচকে

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: