‘সন্ত্রাস বন্ধ করতে না পারলে, হিন্দুদের ভারতে পাঠিয়ে দিন’

১৫ নভেম্বর, ২০১৭ ১১:২১:০০

নিউ ইয়র্ক সংবাদদাতা: বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর অব্যাহত সন্ত্রাসী হামলা বন্ধ করতে না পারলে তাদেরকে ভারতে চলে যাবার সঠিক ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন নিউ ইয়র্কের ইউনাইটেড বেঙ্গলি ফোরাম। গত রবিবার (১২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের একটি রেস্তোরাঁয় সম্প্রতি রংপুরে সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে ‘বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস রুখে দাঁড়াও’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা এ দাবি করেন। একই সঙ্গে একটি বিচার বিভাগীয় ট্রাইব্যুনাল গঠনের মাধ্যমে সকল সন্ত্রাসী কর্মকান্ডেরও বিচার দাবি করা হয়।

লেখক-কলামিস্ট শিতাংশু গুহ’র সভাপতিত্বে এবং সাংবাদিক তোফাজ্জল হোসেন লিটনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত উক্ত প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার ফলে বিশ্ব মিডিয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘মানবতার মা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। কিন্তু হিন্দুরাও তো মানুষ, তাদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর মানবতা কাজ করছে না কেন?

নিউ ইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক জন্মভূমি’র সম্পাদক রতন তালুকদার বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর অব্যাহত সন্ত্রাসী হামলা বন্ধ করতে না পারলে ২ কোটি হিন্দুদেরকে ভারতে চলে যাবার সঠিক ব্যবস্থা করলেই সব ল্যাটা চুকে যায়। আর এটাই হবে হবে উত্তম কাজ। কারণ দেশে হিন্দুদের ভবিষ্যৎ বলতে আর কিছু নেই।

ভবিষ্যতে পাকিস্তানের মত বাংলাদেশেও হিন্দুরা জনসংখ্যা ১ বা ২ শতাংশে পরিণত হবে। তিনি আরো বলেন, আমি নিজেকে সংখ্যালঘু মনে করি না। একাত্তরে ভারতে গিয়ে আশ্রয় নিয়ে সহায়তা নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করার পর কেন আমরা সংখ্যালঘু হিসাবে চিহ্নিত হবো?

প্রবীণ সাংবাদিক সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ বলেন, সরকার ভোটের রাজনীতির জন্য এ সকল হামলার বিচার করে না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ধর্মান্ধরা যথেচ্ছা ব্যবহার করছে। আমাদেরকেও অনলাইনে এ সকল সাম্প্রদায়িক হামলার নিন্দা করে প্লাবন বইয়ে দিতে হবে।

বাংলাদেশের কুষ্টিয়া সদরের দেব কুমার পাল তার নিজের জীবনের নির্যাতনের অভিজ্ঞতার আলোকে বলেন, আমার সম্পত্তির দখল নিয়েছে প্রশাসনের মানুষকে দাঁড় করিয়ে। তারপরও আমি মামলা করেছি ৫৫ জনের নামে। কোনো সুরাহা পাইনি। জানি না আমার মতো অন্যান্য সংখ্যালঘুরও কপালে কী আছে?

দোষটা কারো উপর না চাপিয়ে কী করে এই সমস্যার সমাধান করা যায় এই প্রশ্ন উত্থাপন করে প্রিয়তোষ দে বলেন, শুধু বক্তব্য না দিয়ে নিজেদের গ্রামে সম্প্রিতি বাড়ানোর চেষ্ঠা করুন। আমি এখনো বাংলাদেশকে অসাম্প্রদায়িক দেশ হিসেবে জানি এবং মানি। নিজেদের গ্রামে প্রত্যেকে সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তাকে সক্রিয় রাখুন। সাংস্কৃতিক আন্দোলনই পারে ধর্মান্ধতাকে দূর করতে।

সভাপতির বক্তব্যে শিতাংশু গুহ বলেন, বাংলাদেশ আমার দেশ-এই মাটিতে দাড়িঁয়েই আমার অধিকার আদায় করে নিবো। তিনি সংখ্যা লঘু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সরকারকে সোচ্চার হবার পাশাপাশি একটি বিচার বিভাগীয় ট্রাইব্যুনাল গঠন করে ২০০১ সাল থেকে এপর্যন্তি সংগঠিত সকল নির্যতিনের বিচার দাবি করেন।

কলামিস্ট শুভ্রত বিশ্বাস ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, আমি কার কাছে বিচার চাইবো। কেউ তো এসব কিছুই দেখে না। নির্বিকার। জনগন? বাংলাদেশে তো অসংখ্য সংগঠন কই কাউকে তো তেমন এগিয়ে আসতে দেখলাম না যেমন তারা এগিয়েছে রোহিঙ্গাদের জন্য?

হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি নবেন্দু বিকাশ দত্ত বলেন, প্রধানমন্ত্রী হাসিনা বলেন ‘আমার নবী (স:)-র বিরুদ্ধে কিছু বললে কাইকে ছেড়ে দেয়া হবে না। কিন্তু তিনি দেশে হিন্দু নির্যাতনের বিরুদ্ধেতো তেমন কোন কঠোর কথা বলেন নি।

সভায় আরো বক্তব্য দেন সাপ্তাহিক বর্ণমালার সম্পাদক মাহফুজুর রহমান, সাংবাদিক মুজাহিদ আনসারি, আবু তাহের, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি নিউ ইয়র্ক চ্যাপ্টারের সাধারণ সম্পাদক স্বীকৃতি বড়ুয়া, অধ্যাপক নবেন্দু বিকাশ দত্ত, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি নিউ ইয়র্ক চ্যাপ্টারের সভাপতি ফাহিম রেজা নূর, একটিভিস্ট গোপাল সান্যাল, গোবিন্দ সরকার, ডা. প্রভাষ দাশ, সেক্টর কমান্ডার ফোরামের সভাপতি রাশেদ আহমেদ, মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল বারী, সুশীল সাহা, শুভ রায়, নূরে আলম জিকো, সুব্রত বিশ্বাস, প্রিয়তোষ দে, গোপন সাহা, কৃষাণ রায়, পল্লব সরকার, ভবতোষ সাহা, দেব কুমার পাল ও শিবলী সাদেক প্রমূখ।

বিডি২৪লাইভ/এইচকে

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: