প্রচ্ছদ / জাতীয় / বিস্তারিত

সম্পাদনা: মনিরুল ইসলাম

ডেস্ক এডিটর

নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যায় যা বললেন সাদ!

১৩ জানুয়ারি, ২০১৮ ২০:০১:৩০

নিজের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন বিশ্ব তাবলিগ জামাতের আমির মাওলানা সাদ। শুক্রবার (১২ জানুয়ারি) তাবলিগ জামাতের মারকাজ কাকরাইল মসজিদে জুমার নামাজের আগে বয়ান ও নামাজ শেষে দোয়া পরিচালনা করেন তিনি। এ সময় মাওলানা সাদ বলেন, পূর্বে দেওয়া বক্তব্য থেকে তিনি সরে এসেছেন।

তিনি আরও বলেন, কোনও সময় যদি আমাদের ওলামায়ে কেরাম কোনও কারণে ভুল ধরেন, আমরা মনে করবো ওনারা আমাদের ওপর দয়া করেছেন। ওনারা আমাদের পথ পদর্শক। ওলামায়ে কেরাম যে কথা বলবেন তাতে আমাদের সংশোধন হবে ইনশাল্লাহ। এজন্য ওলামাদের কাছ থেকে আমরা লাভবান হবো। ওনারা কোনও ভুল ধরলে আমরা সংশোধন হবো।

সাদ বলেন, আমাদের কাজ হলো বয়ান করা। বয়ানে অনেক সময় ভুল হয়ে যায়। কোন কথায় যদি দোষ হয়, সে বক্তব্য আমি প্রত্যাহার করছি। এটি আগেও করেছি, এখনও করছি।

শুক্রবার সকাল থেকেই কাকরাইল মসজিদে আসতে থাকেন মাওলানা সাদের অনুসারীরা। তাদের মধ্যে বিদেশি মুসল্লিও ছিলেন।

গত কয়েক বছর যাবৎ মাওলানা সাদের কিছু বয়ান ইসমলাম বিরোধী বলে তার প্রতিবাদ করে আসছে তাবলিগ জামাতের একাংশ, দেওবন্দ, হেফাজত ও কওমিপন্থী আলেমরা। আর এজন্যই তাদের বিরোধিতার মুখে টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমায় এবার তিনি অংশ নিতে পারছেন না।

গত ১০ জানুয়ারি দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান মাওলানা সাদ। কিন্তু বিশ্ব ইজতেমায় তার অংশগ্রহণে বাধা দিতে আন্দোলনে নামেন তাবলিগ জামাতের একটি পক্ষ এবং কওমি মাদ্রাসার আলেম ও শিক্ষার্থীরা।

ওইদিন সকাল ১০টা থেকেই বিমানবন্দর বাসস্ট্যান্ড এলাকা ও সেখান থেকে ইজতেমা মাঠে যাওয়ার সব রাস্তায় জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। ওইদিন সকালে বেফাকের সামনে বিক্ষোভ করেন সিনিয়র কওমি আলেমরাও। এ কারণে পুলিশি পাহারায় বিমানবন্দর থেকে কাকরাইল মসজিদে নিয়ে আসা হয় তাকে।

বিকাল সাড়ে তিনটায় কাকরাইল মসজিদে পৌঁছান তিনি। এ ঘটনায় বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকায় টানা সাত ঘণ্টা দুর্ভোগ পোহাতে হয় নগরবাসীকে।

এর আগে গত ৬ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে আলেমরা সাক্ষাৎ করে মাওলানা সাদের ঢাকা সফরের ওপর নিষেধাজ্ঞার দাবি জানান।

পরে বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠক শেষে সন্ধায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তাবলিগের প্রবীণ নেতা মাওলানা সা’দ কান্ধলভি ইজতেমায় অংশ নিচ্ছেন না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সভাপতিত্বে বৈঠকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইনশৃংখলা বাহিনীর শীর্ষ ব্যক্তিরা, আলেম ওলামা এবং কাকরাইল মারকাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

উল্লেখ্য, সা’দ কান্ধলভি বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন সময় কুরআন, হাদিস, ইসলাম, নবী-রাসূল ও নবুয়ত এবং মাসআলা-মাসায়েল নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করে থাকেন। যার কারণে মুসল্লিদের কাছে তিনি একজন বিতর্কিত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত হয়েছেন।

ভোট দেয়া থেকে বিরত থাকা, কুরআন শরিফের ভুল ব্যাখ্যা, ইসলাম ও ওলামাদের বিরোধিতা, জাহেলি ফতোয়া, মোবাইলে কুরআন শরিফ পড়া এবং শোনা, তাবলিগের নতুন ধারাসহ বিভিন্ন ধরনের বিতর্কিত মন্তব্য করায় তার ওপর ক্ষিপ্ত হন তাবলিগের মুসল্লিরা।

এছাড়া ‘তাবলিগ করা ছাড়া কেউ বেহেশতে যেতে পারবে না’ বলে বক্তব্য দেয়ায় তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসা। সেখান থেকে মাওলানা সাদকে এ বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়। কিন্তু তিনি উল্টো যুক্তি দেন। এ নিয়ে মাওলানা সাদের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

একপর্যায়ে দেওবন্দ মাদ্রাসার অনুসারী বাংলাদেশের আলেমরা তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। তারা তাকে টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমায় আসতে না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

তাবলিগ জামাতের বাংলাদেশ শাখার ১১ শূরা সদস্যের মধ্যে ছয়জনই আলেমদের এ সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন।

এদিকে যাত্রাবাড়ীর জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদানিয়ায় মাওলানা সাদকে নিয়ে বৈঠকে বসেন তাবলিগ জামাতের মুরব্বি ও কওমি আলেমদের সমন্বয়ে গঠিত একটি কমিটি। এতে বাংলাদেশ তাবলিগের শূরা সদস্য ও উপদেষ্টারাও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে উপস্থিত ২১ জনের মধ্যে ১৩ জন ইজতেমায় মাওলানা সাদের উপস্থিত না থাকার পক্ষে মত দেন।

কে এই সাদ?

জানা গেছে, এখন থেকে প্রায় ১০০ বছর আগে ইসলামের দাওয়াতি কাজকে ত্বরান্বিত করতে মাওলানা ইলিয়াছ শাহ (রহ.) দিল্লির নিজামুদ্দিন মসজিদ থেকে তাবলিগের কাজ শুরু করেন। মাওলানা ইলিয়াছ (রহ.) ছেলে মাওলানা হারুন (রহ.)। তারই ছেলে হলেন মাওলানা সাদ কান্ধলভী।

বিডি২৪লাইভ/এমআই

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: