সম্পাদনা: আরাফাত হোসেন রবিন

ডেস্ক এডিটর

সাগরে দাপট বাড়াচ্ছে চীন, উদ্বিগ্ন ভারত

১৬ জানুয়ারি, ২০১৮ ১৩:০০:০০

সুবিধাজনক মূল্যে সাবমেরিন বিক্রি করে এই অঞ্চলকে নিজের আয়ত্তে নেয়ার চেষ্টা করছে চীন। এরইমধ্যে তাদের কাছ থেকে বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড সাবমেরিন কিনেছে।

এছাড়া দেশটির কাছ থেকে মিসর, কিউবা, পাকিস্তান ও থাইল্যান্ড এই যুদ্ধযানটি কিনতে রাজি হয়েছে। এসব সাবমেরিনের একেকটির মূল্য ১০০ মিলিয়ন ডলার, যা ইউরোপের দেশগুলোতে তৈরি সাবমেরিনের তুলনায় ১০ ভাগের একভাগ।

চীনের স্বল্পমূল্যের সাবমেরিন কেনার সুবিধা প্রথম গ্রহণ করে বাংলাদেশ। ২০১৩ সালে দেশটির কাছ থেকে ডিজেলচালিত মিং-ক্লাস সাবমেরিন কিনতে চুক্তি করে বাংলাদেশ সরকার। ২০১৭ সালের মার্চ মাসে বাংলাদেশ সাবমেরিনটি ব্যবহার শুরু করে।

২০১৭ সালের এপ্রিলে চীনের দুটি ইউয়ান-ক্লাস সাবমেরিন কেনার চুক্তি করে থাইল্যান্ড। এগুলো মিং-ক্লাসের চেয়ে উন্নত। থাইল্যান্ডের একটি সামরিক সূত্র জানায়, ইউয়ান ক্লাসের একটি সাবমেরিনের মূল্য ৪২৪ মিলিয়ন ডলার। এগুলো অন্য দেশে তৈরি একই ধরনের যুদ্ধাস্ত্রের তুলনায় অনেক কম মূল্যের বলে জানান থাই প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল প্রউইত উংসুয়ান।

এছাড়া, চীনা থেকে আটটি সাবমেরিন কিনতে রাজি হয়েছে পাকিস্তান সরকার। এই আটটি হবে ইউয়ান-ক্লাসের সাবমেরিন, যার মধ্যে চারটি নির্মিত হবে পাকিস্তানে।

এদিকে চীনের সাবমেরিন বিক্রিতে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে আছে ভারত। দেশটির সামরিক সূত্র জানিয়েছে, ২০১৩ সাল থেকে চীন ভারত মহাসাগরে সাবমেরিন পরিচালনা করছে। এতে বছরে দুইবার ভারত মহাসাগরে তাদের মহড়া হয়ে যায়।

জাপানের একটি গণমাধ্যমেও বলা হয়েছে, চীনের কাছ থেকে এসব দেশ সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় করায় উদ্বিগ্ন ভারত। ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নৌ-শক্তিতে ধীরে ধীরে চীনের অগ্রগতিকে ভারতীয় প্রশাসন নেতিবাচকভাবে দেখে।

বেইজিং নিজেও সোমালীয় জলদস্যুদের তৎপরতা ঠেকাতে ভারত মহাসাগরে মিং ও ইউয়ান-ক্লাসের দুটি সাবমেরিন মোতায়েন করেছে। সাবমেরিন বিক্রির পাশাপাশি চীন ক্রেতা দেশগুলোকে আরো কিছু সুবিধা দিচ্ছে। যেমন, এই যানটির জন্য ব্যবহার উপযোগী পোতাশ্রয় নির্মাণ করে দিচ্ছে তারা। তাছাড়া যেকোনো সমস্যায় এগুলো মেরামতের দায়িত্বও চীনের। এতে এই অঞ্চলের দেশগুলোর ওপর প্রভাব ধরে রাখা আরো সহজ হবে দেশটির জন্য। সূত্র: আশাহি শিম্বুন

বিডি২৪লাইভ/এএইচআর

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: