শাহিনুর রহমান শাহিন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

যশোর রোডের গাছ বাঁচাতে জাবিতে মানববন্ধন

১৭ জানুয়ারি, ২০১৮ ০২:০০:০০

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে যশোর রোডের ২৩১২ টি শতবর্ষী গাছ কেটে ফেলার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সকাল সাড়ে এগারোটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বিজ্ঞান আন্দোলন মঞ্চের সংগঠক শোভন রহমান বলেন, ‘এলেন্স গিন্সবার্গের বিখ্যাত কবিতা ‘সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড’র ইতিহাসের স্বাক্ষী বৃক্ষগুলোকে কেটে ফেলে রাস্তা সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়েছে যশোর জেলা প্রশাসন। এভাবে ইতিহাসকে মুছে ফেলা কোনভাবেই মেনে নেয়ার মতো নয়।’

সংগঠক মোহাম্মদ দিদার বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এই বৃক্ষগুলো শত বছর ধরে দাড়িয়ে আছে। রক্ষা করে চলেছে পারিপার্শিক অবস্থাও। সেখানে এ ধরনের সিদ্ধান্ত জেলা প্রশাসন কিভাবে নেয় সেটি অনেক বড় প্রশ্ন। আমরা চাই রাস্তা সম্প্রসারণ হোক কিন্তু পরিবেশের ভারসাম্যকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়ে নয়। কোন পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হলো তা জনগণের সামনে উপস্থাপন করা হোক।’

বাংলাদেশ ছাত্র ফ্রন্ট- জাবি সংসদের সাধারণ সম্পাদক সুস্মিতা মরিয়ম বলেন, ‘দেশের মোট আয়তনের ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকা প্রয়োজন। সেখানে বাংলাদেশের বনভূমি ১৭ শতাংশ উল্লেখ করা হলেও বাস্তবে রয়েছে আরো কম। দীর্ঘদিন ধরে যশোর রোডের বৃক্ষগুলো পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে আসছে। এই অবস্থায় বৃক্ষ নিধনের মহোৎসবের আয়োজন করেছে যশোর জেলা প্রশাসন। পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয় গরিব জনগোষ্ঠী।’

তিনি আরো বলেন, ‘৭ ফুট রাস্তা সম্প্রসারণ করে ৪ লেনের রাস্তা নির্মাণের সিদ্ধান্তে আমরা সাধুবাদ জানাই। কিন্তু সেটি অবশ্যই বৃক্ষ নিধন করে নয়। ওই রাস্তার দুই ধারে প্রচুর খাস জমি আছে যা এলাকার হর্তাকর্তারা ভোগ দখল করছে। এসব জমি ব্যবহার করে রাস্তা নির্মাণ করা হোক। এসব যৌক্তিক ও বাস্তব সম্মত উপায় বাদ দিয়ে রাস্তা নির্মাণের সিদ্ধান্ত কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

এ সময় বিজ্ঞান আন্দোলন মঞ্চের আরেক সংগঠক নিশাত তাসমিন ঐতিহাসিক শতবর্ষী বৃক্ষ নিধনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসলে এ আন্দোলন চালিয়ে যাবার ঘোষণা দেন।

মানববন্ধনে ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সাধারণ সম্পাদক নজির আমিন চৌধুরী জয় সহ অন্যান্য কর্মীরা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।

বিডি২৪লাইভ/টিএএফ

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: