আসিফ আলম

বিনোদন প্রতিবেদক

আমি যেসব সিন করেছি তা কি অন্য নায়িকারা করেনি?

২২ জানুয়ারি, ২০১৮ ১৫:২২:৩৯

‘মুনমুন’ ঢাকাই চলচ্চিত্রের এক সময়ের বেশ আলোচিত একটি নাম। ১৯৯৭ সালে মৌমাছি ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে চলচ্চিত্র অঙ্গনে যাত্রা শুরু তার। ১৯৯৭-২০০৩ সাল পর্যন্ত বেশ দাপটের সাথেই অভিনয় করেছেন এই নায়িকা। আলোচোনায় থাকার পাশাপাশি হয়েছেন বেশ সমালোচিতও। আর তাই ২০০৩ সালের পরে চলচ্চিত্র থেকে নিজেকে অনেকটা গুটিয়ে নেন মুনমুন।

চলচ্চিত্র পাড়ার অনেকেই বলে থাকে সে সময় মুনমুনকে কেন্দ্র করেই অশ্লীলতা নির্ভর অ্যাকশন চলচ্চিত্র নির্মিত হতে শুরু হয়। তবে এ বিষয়টি মানতে নারাজ অ্যাকশন লেডি মুনমুন। চলচ্চিত্র থেকে বেশ কিছু দিন দূরে থাকলেও আবারো চলচ্চিত্র নিয়ে ব্যস্ত হয়েছেন এই নায়িকা। বিডি২৪লাইভের সাথে বেশ খোলামেলা কথা হলো। জানলেন তার নানা অজানা কথা।

বিডি২৪লাইভঃ কেমন আছেন ?
মুনমুনঃ এইতো সবার দোয়া আর আল্লাহ্‌র রহমতে বেশ ভালোই আছি।

বিডি২৪লাইভঃ নায়িকা হওয়ার স্বপ্ন কখন থেকে?
মুনমুনঃ আমার কখনো নায়িকা হওয়ার ইচ্ছে ছিলো না। আমাকে এহতেসাম দাদু ফিল্মে এনেছে। দাদু যে সব নায়িকাকে ফিল্মে এনেছেন তাদের চেয়ে প্রায় পাঁচ ছয় কেজি ওজন বেশি ছিলো আমার। আমি দাদুর সহকারী হতে গেলাম দাদু আমাকে দেখে বললেন তুমি আমার ছবির নায়িকা। আমি বললাম এ স্বাস্থ্য নিয়ে কিভাবে। তিনি বলেন, এটা কোনো সমস্যা না, কমিয়ে ফেলো। তুমি পারবা। ওনার একটা নিয়ম ছিলো উনি যাকে দেখে একবার বলছে তুমিও নায়িকা হবা সে কিন্তু শেষ পর্যন্ত নায়িকা হইছে। প্রথম দেখায় উনি আমাকে ওই কথা বলায় আমার ভিতর একটা সাহস চলে আসে। সে কারণে হয়তো নায়িকা হওয়ার স্বপ্ন তখন থেকে।

বিডি২৪লাইভঃ বেশ লম্বা সময় পর চলচ্চিত্রে ফিরেছেন। আর ফিরেই নেগেটিভ চরিত্রে কেন?
মুনমুনঃ আপনারা লক্ষ করলে হয়তো দেখবেন চলচ্চিত্রে অভিনয়ের শুরু থেকেই আমি অ্যাকশন ধর্মী ছবি করেছি। তাছাড়া সময়ের সাথে সাথে বয়সের ব্যাপার বলে তো একটা বিষয় আছেই। শুধু তাই নয় আমার বেশ আগে থেকেই ইচ্ছে ছিলো কিছু ছবিতে খল চরিত্রে অভিনয় করার। আর সে জন্য যখন এই চরিত্রটি করার অফার পেয়েছি সাথেসাথেই রাজি হয়ে গেলাম।

বিডি২৪লাইভঃ দর্শক আপনাকে অশ্লীল ছবির নায়িকা হিসেবেই জানেন, এটা কিভাবে দেখছেন?
মুনমুন: আপনারা সাংবাদিকরা অনেকে জানেন আবার অনেকে না জানার ভান ধরেন। ২০০৩ সালে আমি ফিল্ম ছেড়ে চলে গেলাম। এর পরের চারটা বছর অশ্লীলতায় ঘিরে ছিলো বাংলাদেশের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি। এটার জন্য আপনি কয়জন শিল্পীকে দায়ী করবেন। যখন অশ্লীল সিনেমা শুরু হয় আমি তখন কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছিলাম। আমাকে কেউই কখনো বলেনি আমি অশ্লীল চলচ্চিত্রের নায়িকা।

আমার ছবি আপনারা দেখেন আমি যে ড্রেসগুলো পড়েছি আমি যেসব সিন করেছি তা কি অন্য নায়িকারা করেনি? শাবনুর দেখায়নাই? পপি দেখায়নি? সবাই এমন পোশাক পড়ছে। দোষ কেন মুনমুনের একার হবে?

আমি এটার জন্য অপমানিত হচ্ছি। পরে পরিচালক সমিতি, শিল্পী সমিতি, প্রযোজক সমিতি সবাই আমার পক্ষে কথা বলছে। আজ ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সবাই আমাকে ওয়েলকাম করছে। কারণ আমি অনেক লক্ষ্মী নায়িকা ছিলাম। কারণ আমি কোনো দাম দেখাইনি। সবাই আমাকে অনেক পছন্দ করেন। তাছাড়া আমাকে অশ্লীল হিসেবে পরিচিত করার পেছনে অনেক সাংবাদিক দায়ি। আমি নিজে বলবো না, ইউটিউবে অনেক ছবি আছে আমার আপনারই দেখেন কোনটা অশ্লীল।

বিডি২৪লাইভঃ বিষয়টা কি এমন, আপনার উপর দোষ চাপিয়ে অন্যরা আড়াল হচ্ছেন?
মুনমুনঃ হিরোদের সঙ্গে রোম্যান্টিক সিন করতেও ভয় পেতাম, কারণ করবো একটা, স্ক্রিনে না আবার অন্য কিছু দেখায়! কাউকে বিশ্বাস করতে পারছি না। যার কারণেই ওই সময়ে ফিল্ম ছেড়ে চলে যাওয়া। ব্যাপারটা এমন না, আমি জোর করে চলে গেছি। আমি ভাবলাম, এ মুহূর্তে ফিল্ম থেকে দূরে থাকি। পরে ভালো হলে আবার ফিরে আসবো।

আমি যখন ফিরে আসলাম তখন দেখলাম আমার এতো শত্রু, যা আমি কল্পনাও করিনি। আমি খুব সহজ সরল ছিলাম, অনেক কিছুই বুঝতাম না। যে যেভাবে কাজ করতে বলেছে ওই ভাবে করছি। আপনারা হয়তো বলবেন, আপনি অনেক রাগী ছিলেন শো-আপ করছেন। আমাকে পরিচালক শো-আপ করতে বলছে, শাবনুর যে ধরনের চরিত্রে কাজ করতো আমাকে তো ওই ধরনের চরিত্র দেয়নি। আমাকে পরিচালক হাতে অস্ত্র নিয়ে মানুষ মারতে দিয়েছে। আমাকে যে ধরনের চরিত্রে কাজ করতে দিছে পরিচালক, আমি করছি। আমি তো শুধু অভিনয় করেছি কিন্তু এর জন্য আমার ব্যক্তি জীবনে বদনাম করে ক্ষতি করার কী মানে?

বিডি২৪লাইভঃ আপনার মতে, আপনি এক ধরনের দৃশ্যে অভিনয় করতেন অথচ পর্দায় হতো অশ্লীল কিছু। এমনটা হতো কিভাবে?
মুনমুনঃ ফিল্মে সহশিল্পী চরিত্রে যারা কাজ করে যেমন ফাইটিংয়ের জন্য যাদের আনা হয়েছে, এদের দিয়ে রেপ সিন গুলোতে কাপড় খুলে দৃশ্যগুলো নিতো। আমি প্রায় দেখতাম শুটিং চলাকালে আশেপাশে কিছু মেয়ে ঘোরাঘুরি করছে, আমি জানতাম না এদের দিয়ে কি করানো হয়। একদিন আমাকে মেকাপের একটা ছেলে বলেন, আপু জানেন এদের দিয়ে কি কাজ করানো হয়?

আমি বললাম, না আমি তো জানিনা। কি আর করানো হবে ফাইটের দৃশ্য করানো হয়? ওই ছেলে বলে, না আপা ওদের দিয়ে খোলানো হয়। আপনার রেপ সিন হইতেছে আপনি তো এই শর্ট দিবেন না। আপনার কাপড়টা ওদের পড়িয়ে পুরা খোলানো হয়। এগুলো পরে হলে প্রদর্শন করে। যখন এসব একের পর এক শুনতে থাকলাম বিভিন্ন জনের কাছে, আমি তো আর গ্রামে ছবি দেখতে জেতাম না। যদি দেখতাম তাহলে বুঝতাম ছবিতে কি কি যোগ করা হচ্ছে। এরপর সিদ্ধান্ত নিলাম ফিল্ম ছেড়ে চলে যাবো।

বিডি২৪লাইভঃ আপনি সিন করলেন একটা হলে চললো অন্যটা। সেন্সর বোর্ডের চোখে পড়েনি?
মুনমুনঃ আসলে যারা এ ছবি বানিয়েছে তাদেরযদি জিজ্ঞাসা করতে পারেন সব চেয়ে ভালো হতো। তারাই জানে সেন্সরকে টেক্কা দিয়ে কিভাবে হল পর্যন্ত নিয়ে গেছে। আর তারাই বলতে পারবে এ ছবিগুলো দিয়ে কেমন ব্যবসা করছে। আমি ওই সময়ছিলাম না।

বিডি২৪লাইভঃ শোনা যায় মিডিয়াতে অনেকের কাছি নাকি আপনি বেশ মোটা অঙ্কের টাকা পান। বিষয়টা কতটুকু সত্য?
মুনমুনঃ হুম যা শুনেছেন তা সত্য। আমি মিডিয়ার বিভিন্ন মানুষ আর প্রোডাকশন হাউজের কাছে আশি লক্ষ টাকা পাই।

বিডি২৪লাইভঃ পাওনা টাকা উদ্ধারের জন্য কি কোন ব্যবস্থা নেননি?
মুনমুনঃ কি করবো বলেন, যাদের কাছে টাকা পেতাম তাদের অনেকে প্রোডাকশন হাউজ গুটিয়ে নিয়েছে আবার অনেকে মারা গিয়েছে। প্রথমদিকে আমি এইসব বিষয়ে শিল্পী সমিতিকে জানিয়েছি কিন্তু তারা কোন ব্যবস্থা নেন নি। এখন আর এইসব নিয়ে ভাবি না।

বিডি২৪লাইভঃ দীর্ঘ দিনের ক্যরিয়ারে তো অনেক নায়কের সাথে অভিনয় করেছেন তা কার সাথে অভিনয় করতে সবচেয়ে বেশি ভালো লাগতো বা সাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন।
মুনমুনঃ আমি ইলিয়াস কাঞ্চন, মান্না, শাকিব খান সহ অনেক নায়কের সাথেই কাজ করেছি। তবে নির্দিষ্ট করে কখনো কারো সাথে জুটি বেধে কাজ করিনি আমি। আমি সবার সাথে কাজ করে সাচ্ছন্দ্য বোধ করেছি। ইলিয়াস স্যারের সাথে কাজ করে অনেক ভিন্ন জিনিস শিখেছি। আবার মান্না ভাই ছিলো মজার মানুষ। তার সাথে কাজ করে বেশ ভালো লাগতো।

বিডি২৪লাইভঃ ঢালিউড সুপার স্টার শাকিব খানের সাথেও আপনি বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। শাকিব খানকে নিয়ে আপনার মতামত কি?
মুনমুনঃ শাকিব খান নিঃসন্দেহে একজন ভালো অভিনয় শিল্পী। যার কারনেই আজকে সে দেশ সহ দেশের বাইরেও প্রশংসিত। হুম এটা সত্য যে ওকে নিয়ে ইদানিং নানা প্রবলেম বা সমালোচনা হচ্ছে। চলচ্চিত্রে এখন নায়ক নেই বললেই চলে। সে জায়গায় সাকিব নিজে একাই ধরে রেখেছে। তার জনপ্রিয়তাও বেশি। সে কারনে ওকে নিয়ে বিভিন্ন সমালোচনা হওয়াটাই স্বাভাবিক।

বিডি২৪লাইভঃ পরিচালনা বা প্রযোজনা করার ইচ্ছে আছে?
মুনমুনঃ ইচ্ছে আছে। তবে ব্যবসায়ীক ছবি না। আর্ট ফিল্ম বানানোর ইচ্ছা আছে।

প্রায় ৯৩ টি ছবির নায়িকা মুনমুনের জন্ম ইরাকে হলেও তার পৈতৃকবাড়ি চট্টগ্রামে।

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: