নাইমুর রহমান

নাটোর প্রতিনিধি

কৃষিজমি রক্ষায় মাঠে নামলেন এমপি কুদ্দুস!

২৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ০৫:০০:০০

ফসলি জমিতে অবৈধ পুকুর খননের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর নাটোরের গুরুদাসপুরে সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে ফসলি জমিতে পুকুর খনন রোধে স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি আস্থা হারিয়ে নিজেই মাঠে নেমেছে স্বয়ং সাংসদ অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস।

পসামবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার খুবজীপুর ইউনিয়নের পিপলা চরপাড়ার হাজী আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে মালয়েশিয়া প্রবাসী শাহীন ওরফে শের আলীর ১২ বিঘা এবং পৌর সদরের আনন্দনগরের লায়েবুল্লা শেখের ছেলে আসাদুল্লা শেখের ৬ বিঘা কৃষি জমিতে খননরত পুকুরে গিয়ে মাটি কাটা মেশিন এক্সেমিটার ও মাটি বহনকারী গাড়ী তুলে দেন সাংসদ। আনন্দনগরে পুকুর খননে সংশ্লিষ্টরা পুকুর খননের অনুমতি স্বরুপ ইউএনও’র টোকেন দেওয়ার কথা বললে ওই সময় সাংসদ সেখানে ওসি দিলিপ কুমার দাস ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহকারী কমিশনার (ভূমি) গনপতি রায়কে ডেকে পাঠান।

ওই সময় সাংসদ অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, সেখানে পুকুর খনন হলে অন্ততঃ ৫শ’ বিঘা জমি জলাবদ্ধতার পাশাপাশি সরকারের কোটি কোটি টাকার রাস্তার অবস্থা দেখে কান্না পাচ্ছে। এভাবে পুকুর খনন চলতে থাকলে হাজার হাজার হেক্টর কৃষি জমি জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে। দেশে খাদ্য ঘাটতি প্রকোট আকারে দেখা দিবে। দেশ হয়ে উঠবে পরনির্ভর। কোন ভাবেই পুকুর খনন করতে দেওয়া হবেনা। প্রয়োজনে পুকুর খননের সরঞ্জামাদি এলাকাবাসী পুড়িয়ে দেওয়ার কথা বলেন তিনি। ওই সময় তার সাথে ছিলেন ক’জন দলীয় নেতা-কর্মীসহ সাংবাদিকরা।

ওই সময় স্থানীয়রা জানান, এক শ্রেণির দালার চক্র মাটি বিক্রি করে লাভবান হওয়ার আশায় জমি মালিকদের ভূলভাল বুঝিয়ে চুক্তিতে পুকুর খনন করে দিচ্ছেন।

চাঁচকৈড়ের ইয়ারুদ্দিন চেয়ারম্যানের ছেলে মশিউর রহমান, বামনকোলার আসাদ সরদারের ছেলে আঃ লতিফ, মিরাজ মোল্লার ছেলে বাচ্চু, মশিন্দার কৈইরুদ্দিন প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ওই পুকুর খনন করছেন বলে তারা জানান।

বাচ্চু নামের দালালচক্রের সদস্য জানান, প্রশাসনকে প্রতিবিঘায় ১০হাজার টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে পুকুর খনন করা হচ্ছে।

আনন্দনগরের কর্তনকৃত পুকুরের পাশে সেচ মটরের মালিক খাদেম আলী জানান, আসাদুল্লা শেখের পুকুর খননকরা হলে আমার সেচমটর বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে পরিবার নিয়ে না খেয়ে মরতে হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল করিম জানান, মাছ চাষ লাভজনক হওয়ায় পুকুর খননের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে পুকুর খননে ঝুঁকেছে এলাকার কৃষক। গত তিন বছরে প্রায় সাড়ে ৮শ’ হেক্টোর জমিতে পুকুর খনন করা হয়েছে। শুধু ২০১৭ সালেই প্রায় ৪শ’ হেক্টোর জমিতে পুকুর খনন করা হয়েছে।পুকুর খননের ফলে বেশ কিছু পানাসি ও বরেন্দ্র চালিত সেচ পাম্প বন্ধ হওয়ার উপক্রম প্রায়। এভাবে পুকুর খনন চলতে থাকলে দেশ খাদ্য ঘাটতিতে পড়বে।

ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গনপতি রায় জানান, আর্থিক লেনদেনের বিষয় তার জানা নেই। তবে কোনভাবেই ফসলি জমিতে পুকুর খনন করতে দেওয়া হবেনা। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিডি২৪লাইভ/এইচকে

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: