ঠেকাতে নানা পদক্ষেপ 

প্রশ্নপত্র ফাঁস: বিব্রত সরকার, চাপে শিক্ষামন্ত্রী

০৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ১৬:৫৬:০১

দেশে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা থামছেই না। একের পর এক প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ায় শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারের ভাল অর্জনগুলোও চাপা পরে যাচ্ছে। এতেকরে বিব্রত অবস্থায় রয়েছে সরকার। এদিকে, সম্প্রতি শুরু হওয়া এসএসসি পরীক্ষার একাধিক বিষয়ের প্রশ্ন ফাঁস হয়ে গেছে। এজন্য শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সমালোচনা করেছেন অনেকে। সংসদে তার পদত্যাগের দাবিও উঠেছে।

গত ১ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে একযোগে এসএসসি পরীক্ষা শুরু হয়। এই পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস রোধে ৭ দিন আগ থেকেই সকল কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়। এছাড়া পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগেই পরীক্ষার্থীদের নিজ আসনে বসার নির্দেশনা দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কিন্তু তাতেও ঠেকানো যায়নি প্রশ্নপত্র ফাঁস। ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বাংলা প্রথম পত্র এবং ৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষার প্রশ্নও ফাঁস হয়ে যায়। এরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সব মহলেই কঠোর সমালোচনার মুখে পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ায় জাতীয় সংসদে শিক্ষামন্ত্রীর কঠোর সমালোচনা করেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম মেম্বার ও সংসদ সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু। গত সোমবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস মহামারি রূপ নিয়েছে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, অবিলম্বে শিক্ষামন্ত্রী তার ব্যর্থতা, দুর্নীতি ও অনিয়ম স্বীকার করে পদত্যাগ করুন, নতুবা প্রধানমন্ত্রী তাকে বরখাস্ত করে নতুন মন্ত্রী নিয়োগ করুন।

তার বক্তব্যের শেষে ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, নিশ্চিয়ই প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি শুনেছেন। তিনি তার বিবেক বিবেচনায় জাতির স্বার্থে যতটুক করার প্রয়োজন অবশ্যই তিনি করবেন।

জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, প্রশ্নফাঁস মহামারি আকারে বিস্তার লাভ করছে। এটা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বলা হয়েছিল, যে প্রশ্নফাঁস ধরিয়ে দিতে পারবে তাকে ৫ লাখ টাকা পুরস্কৃত করা হবে। অথচ আজ (সোমবার) তুষার শুভ্র নামে একটা সাইটে বলা হয়েছে, ইংরেজি প্রশ্ন আছে সংগ্রহ করতে হলে এত টাকা লাগবে?

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে অনেক উন্নয়ন কর্মকান্ড হয়েছে, হচ্ছে। বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। এই কয়েক বছরে আমাদের অনেক অর্জন হয়েছে। কিন্তু আগামি প্রজন্মকে যদি সত্যিকারের শিক্ষায় শিক্ষিত না করতে পারি তাহলে সব অর্জন অর্থহীন।

তিনি আরো বলেন, আগামী প্রজন্মকে যদি সত্যিকার শিক্ষায় শিক্ষিত করতে না পারি, আর শুধু সনদ বিক্রির জন্য যদি শিক্ষিত করি তাহলে তো কিছুই শিখবে না। এই শিক্ষা অর্থহীন। আমরা চাই সত্যিকার শিক্ষা।

অন্যদিকে, প্রশ্ন ফাঁস ইস্যুতে ৪ ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ে পাবলিক পরীক্ষা সংক্রান্ত জাতীয় মনিটরিং কমিটির জরুরি বৈঠক ডাকা হয়। বৈঠকে একাধিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সিদ্ধান্তগুলো হল: যে দুটি বিষয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেই দুটি বিষয়ের প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে কিনা, তা যাচাই-বাছাই করে দেখতে ১১ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রশ্নফাঁসকারী বা চক্রকে ধরিয়ে দিতে পারলে ৫ লাখ টাকা পুরস্কার দেবে মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে পরীক্ষার কেন্দ্র থেকে প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে ‘ভিজিলেন্স টিম’ আরো জোরদার করা হবে। পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিটের আগে প্রশ্নের প্যাকেট যাতে খোলা না হয়, সেটা নিশ্চিত করার জন্য সব জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

১১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলমগীরকে আহ্বায়ক এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশের দুইজন, শিক্ষা বোর্ডের তিনজন এবং বিটিআরসির একজন প্রতিনিধি থাকছেন। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের একজন কর্মকর্তা সদস্য সচিব হিসেবে কমিটিতে থাকবেন। কমিটি প্রয়োজন মনে করলে আরো সদস্য অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন।

সভা শেষে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ধরিয়ে দিতে পারলে পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কার দেয়া হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন ছড়াচ্ছে যারা, তারা ধরা পড়বেই। এটা সময়ের ব্যাপার মাত্র। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব ছড়ানো বন্ধের বিষয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) বলা হয়েছে। কেন্দ্রসচিব ছাড়া পরীক্ষার কেন্দ্রে কেউ মোবাইল ফোন নিয়ে গেলে তাকে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হবে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আর কোনো পরীক্ষার্থী হলে মোবাইল ফোন নিয়ে গেলে তার পরীক্ষা বাতিল করা হবে।

তিনি বলেন, পরীক্ষার সময় যেসব প্রশ্ন উঠেছে যে (প্রশ্ন) ফাঁস হয়েছে সেটা ঠিক বা ভুল এসব বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করে এবং তার ফলে পরীক্ষার্থীদের উপর কী প্রভাব পড়েছে, কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কী হয় নাই, এসব মিলিয়ে পরীক্ষাটাকে কীভাবে? মূল্যায়ন করা যায় সেটা মূল্যায়ন করে পরীক্ষা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য সুপারিশ করবেন, এজন্য একটি কমিটি আমরা করে দিচ্ছি। এই কমিটি এসএসসি ও সমমানের পুরো পরীক্ষা ‘মনিটর’ করবেন।

তিনি আরও বলেন, সার্বিকভাবে দেখা যাচ্ছে শুধু (প্রশ্ন) ফাঁস করে টাকা ইনকাম করার জন্য বা তার কোনো লাভ হবে এ উদ্দেশ্যে শুধু নয়, লক্ষ্য হাসিলের উদ্দেশ্য থাকে, সেই লক্ষ্যটা হচ্ছে সরকারকে মানুষের কাছে হেয় প্রতিপন্ন করা, আস্থাটাকে নষ্ট করে দেয়া। যারা (প্রশ্নফাঁস) করছেন তারা সরকারকে মানুষের কাছে হেয় প্রতিপন্ন করতে চান এবং ছোট করতে চান। এটা একটা গভীর ষড়যন্ত্রমূলক এর পেছনে উসকানি রয়েছে। আশা করি কেউ বাদ যাবেন না, প্রত্যেকে ধরা পড়বে। ফেসবুকে এখনো যারা প্রশ্নফাঁস করবেন বলে বিজ্ঞাপন দিচ্ছেন সেগুলো অবশ্যই বন্ধ করা হবে। এজন্য বিটিআরসি, পুলিশসহ বিভিন্ন জনের দায়িত্ব আছে, এটা অবশ্যই করবো আমরা।

বিডি২৪লাইভ/এমআই

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: