আরমান হোসেন

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের সংকট কাটাতে নিয়োগ দেয়া হবে

০৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ২১:৪৯:৩৯

রাষ্ট্রীয় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর আমানত ক্রমাগত কমে যাওয়ার অভিযোগ সঠিক নয় দাবি করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। একইসঙ্গে তিনি এই ব্যাংকগুলোর জনবল সংকট কাটাতে জরুরীভিত্তিতে ৪ হাজার ৮৭৩ জন কর্মকর্তা নিয়োগের খবর দিয়েছেন।

জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রী এসব নিয়ে কথা বলেন। সংসদে রাষ্ট্রীয় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর আমানত ক্রমাগত কমে যাওয়ার অভিযোগ তোলেন সরকার দলীয় সংসদ সদস্য মো. মামুনুর রশীদ কিরণ।

জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, অভিযোগটি সত্য নয়। ২০১৬ সালের নভেম্বর থেকে গত বছরের নভেম্বর পর্যন্ত রাষ্ট্রের ৬টি বণিজ্যিক ব্যাংকের (সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বাংলাদেশ ডেভলপমেন্ট ও বেসিক ব্যাংক লিমিটেড) আমানতের গড় প্রবৃদ্ধির পরিমাণ ৬ দশমিক ৯৮ শতাংশ। বর্তমানে এসব ব্যাংকের সংরক্ষিত আমানতের পরিমাণ ২ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২ কোটি টাকা, যা গত বছর এ সময়ে ছিল ২ লাখ ৪৯ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে ১৭ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা আমানত বেড়েছে।

সংরক্ষিত মহিলা আসনের সরকার দলীয় সদস্য বেগম লায়লা আরজুমান বানুর প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, ব্যাংর্কাস সিলেশন কমিটির মাধ্যমে এ পর্যন্ত ১০ম ও তদূবর্ধ গ্রেডের বিভিন্ন পদে মোট ৪ হাজার ৮৩৭ পদে জনবল নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে।

জরুরীভিত্তিতে এসব পদ পূরণের জন্য কমিটির আওতাভুক্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সমজাতীয় পদে একক পরীক্ষা নেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে একটি সাধারণ নিয়োগ নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।

এদিকে সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের বৈষম্যের কারণে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, সরকারি দলের মো আবদুল মতিনের এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এই তত্য সত্য সঠিক নয়। বরং ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতের উদ্যোক্তরা সঠিক সময়ে সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক থেকে পর্যাপ্ত ঋণ প্রাপ্তির মাধ্যমে দেশীয় জাতীয় উৎপাদনে ক্রমবর্ধমান ভূমিকা রেখে চলেছে।’

তিনি জানান, এই শিল্পে গত বছরের জানুযারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকারি ব্যাংক ৯ হাজার ৫৩২ কোটি এবং বেসরকারি ব্যাংকসমূহ কর্তৃক এক লাখ ৭ হাজার ১২৫ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেছে। এর আগে গত মাসে সংসদকে মন্ত্রী বলেছিলেন, গত ১০ বছরে ১০ কোটি টাকার বেশী ঋণ নিয়েছে ৮ হাজার ৭৯১ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান। দেশের ৯১টি তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে তাদের মোট ৬ লাখ ৬ হাজার ৫০৩ কোটি ঋণ দেয়া হয়েছে। যার মধ্যে ৬৫ হাজার ৬০২ কোটি টাকা আদায় করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে একই দলের বজলুল হক হারুণের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যাংকের পাশাপাশি অ-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের ঝুঁকিমুক্ত রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন ১৯৯৩ এর অধীনে লাইসেন্স প্রাপ্ত অ-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের ঋণ ও আমানত ঝুঁকি হ্রাসে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য দয়া-সম্পদ, ঋণ ঝুঁকি, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিপালন, মানি-লন্ডারিং প্রতিরোধ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত গাইড লাইন জারি করেছে এবং প্রতিনিয়ত নির্দেশনা মানছে কি না তা প্ররিদর্শন করা হয়।’

সরকারি দলের এম আবদুল লতিফের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ত্রৈমাসিকে সমগ্র ব্যাংকিং খাতে শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ ছিল ৮০ হাজার ৩০৭ টাকা। এই ঋণের বিপরীতে আদায়ের পরিমাণ ছিল ৩ হ্জাার ১১০ কোটি টাকা, যার হার ৩ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

এছাড়া জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) বেগম শিরীন আখতারের প্রশ্নের জবাবে আবুল মাল আবদুল মুহিত জানান, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বৈদেশিক ঋণ ও অনুদানে ৩০৭টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। যার মধ্যে কারিগরি প্রকল্প ১১১টি এবং বিনিয়োগ প্রকল্প ১৯৬টি।

বিডি২৪লাইভ/এমআই

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: