প্রচ্ছদ / অপরাধ / বিস্তারিত

নাজমুস সাকিব সোহান

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

গ্রেপ্তার শরিফুল কার্ড জালিয়াতির কৌশল শিখেছেন রাশিয়ায়

২৫ এপ্রিল, ২০১৮ ১৯:৫৩:০০

ছবিঃ সংগৃহীত

সম্প্রতি ঘটে যাওয়া পাঁচ ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতির মূল হোতা শরিফুল ইসলামকে (৩৩) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেপ্তারের পর তারা জানিয়েছে, শরিফুল রাশিয়ায় পড়াশোনা করতে গিয়ে এই কৌশল শিখেছেন।

বুধবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্লা নজরুল ইসলাম।

মঙ্গলবার (২৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে শরিফুলকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। তিনি পাঁচটি ব্যাংকের কার্ড জালিয়াতির মূল হোতা বলে জানান কর্মকর্তারা। তিনি বছর পাঁচেক আগেও একই অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর দেড় বছর কারাগারে ছিলেন।

গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে একটি ল্যাপটপ, ১৪০০ ক্লোন কার্ড, একটি ম্যাগনেটিক স্ট্রিপ কার্ড রিডার ও রাইটার, তিনটি পজ মেশিন, গ্রাহকদের তথ্য চুরিতে ব্যবহার করা ডিজিটাল হাতঘড়ি, দুইটি মিনি কার্ড রিডার ডিভাইস, ১৪টি পাসপোর্ট, আটটি মোবাইল সেট, একটি ক্রেডিট কার্ড, পরচুলা ও তিনটি জাতীয় পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়।

কার্ড জালিয়াতির অভিযোগে গ্রেপ্তার শরিফুল ইসলাম (ছবিতে ডানে)

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে ব্র্যাক, সিটি, ইবিএল, ইউসিবিএল এবং ব্যাংক এশিয়া তাদের ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতির ঘটনা সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগের নজরে আনে। এরপর তদন্তে দেখা যায় গ্রাহকেরা যখন সুপার শপ ও ডিপার্টমেন্টাল সেন্টারে যায়, তখন চক্রটি কৌশলে গ্রাহকদের তথ্য চুরি করে ক্লোন কার্ড তৈরি করে। এরপর এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলে নেয় তারা।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জানান, শরিফুল ইসলাম স্বপ্নের বনানী শাখায় কাজ করার সময়ে নিজের হাতঘড়িতে সংযুক্ত বিশেষ মিনি কার্ড রিডারের মাধ্যমে গ্রাহকের কার্ডের অভ্যন্তরীণ তথ্য নিয়ে নিতেন। তারপর গ্রাহক যখন পিন নম্বর দিতেন তখন কৌশলে পিন নম্বর দেখে নিতেন। আর গ্রাহক চলে গেলে রিপ্রিন্ট দিয়ে কপিটা সংগ্রহ করে তার পেছনে পিন নম্বরটা লিখে রাখতেন।

বাসায় ফিরে শরিফুল ল্যাপটপ এবং ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে গ্রাহকের তথ্যাবলী ‘ভার্জিন’ বা খালি কার্ডে স্থাপন করে ক্লোন এটিএম কার্ড তৈরি করতেন। এরপর এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলে নিতেন। আর বুথ থেকে টাকা তোলার সময়ে সিসি ক্যামেরায় যেন চেনা না যায় সে কারণে শরিফুল পরচুলা ও রোদ চশমা ব্যবহার করতেন।

গ্রেপ্তারের সময় উদ্ধারকৃত জিনিসপত্র

শরিফুল স্বপ্নে চাকরি করলেও তার আসল উদ্দেশ্য ছিল ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি। কারণ, গ্রাহকদের একটি বড় অংশই এখন কার্ড দিয়ে বিল পরিশোধ করেন। আর এই জালিয়াতির টাকায় বিলাসবহুল জীবনযাপন করতেন শরিফুল। তিনি চলাচলের জন্য একটি টয়োটা এলিয়েন মডেলের গাড়ি ব্যবহার করতেন। তার ব্যাংকের হিসাব পর্যালোচনা করে দেখা গেছে তিনি এই কাজ করে কয়েক কোটি টাকা রোজগার করেছেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শরিফুল জানায়, মেহেরপুর জেলার বোয়ালীয়া উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ২০০১ সালে মাধ্যমিক এবং ২০০৩ সালে গাংনী ডিগ্রি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। পরে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের জন্য রাশিয়া যায় সে। সেখানকার পিপলস ফ্রেন্ডশিপ ইউনির্ভাসিটি থেকে মাইন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে তিন বছর মেয়াদি ডিগ্রি নিয়ে ২০১০ সালে বাংলাদেশে ফেরত আসেন।

রাশিয়ায় থাকাকালে রুমমেট ইভানোভিচের কাছ থেকে ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতির কৌশল শেখেন শরিফুল। পরে চীন থেকে একটি ক্লোন মেশিন, ঘড়িসহ জালিয়াতির সরঞ্জাম সংগ্রহ করেন।

একই ধরনের জালিয়াতির ঘটনায় ২০১৩ সালে দুইটি মামলা হয় শরিফুলের বিরুদ্ধে। তখন তিনি ১৮ মাস কারাগারে ছিলেন। এরপর কিছুদিন ছাত্র পরামর্শক ফার্ম খুলেন। সেখানে তেমন সুবিধা করতে না পেরে আবারও ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতিতে জড়িয়ে পড়েন।

বিডি২৪লাইভ/ওয়াইএ

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: