প্রচ্ছদ / জাতীয় / বিস্তারিত

আরমান হোসেন

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

বাটার ১১টি আউটলেটের বিরুদ্ধে মামলা

১৭ মে, ২০১৮ ২২:৪৫:০০

ছবি: সংগৃহীত

আইন না মানায় রাজধানী ও চট্টগ্রামের ১১টি বাটা আউটলেটের বিরুদ্ধে শ্রম আদালতে মামলা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরতদের কর্মঘণ্টা না মেনে কাজ করতে বাধ্য করা, উৎসব ছুটি না দেয়াসহ নানা কারণে এই মামলা করা হয়েছে বিদেশি বহুজাতিক কোম্পানিটির বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার (১৭ মে) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয স্থায়ী কমিটির ১৮তম বৈঠকে তথ্য জানানো হয়।

কমিটির সভাপতি মন্নুজান সুফিয়ানের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- কমিটি সদস্য শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মোঃ মুজিবুল হক চুন্নু, মোঃ ইসরাফিল আলম, ছবি বিশ্বাস, শিরীন আখতার, মোঃ রুহুল আমিন, মোঃ রেজাউল হক চৌধুরী এবং রোকসানা ইয়াসমিন ছুটি।

জানা যায়, এর আগে বাটা সু কোম্পানিতে চাকরিচ্যুতদের বিষয়ে তদন্ত করতে একটি সংসদীয় সাব কমিটি গঠন করা হয়। মো. ইসরাফিল আলমকে আহ্ববায়ক করে এই সাব কমিটি একটি প্রতিবেদনও দেয়া হয়। ওই প্রতিবেদনে বাটা সু কোম্পানির এইসব অনিয়ম তুলে ধরা হয়। আজকের বৈঠকে সাব কমিটির প্রতিবেদন গৃহীত হয়। সাব কমিটির দেয়া সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের সুপারিশ করে কমিটি।

বৈঠকের কার্যপত্র থেকে জানা যায়, বৈঠকে ইসরাফিল আলম বলেন, ২০১৩ সালের শ্রম আইন লঙ্ঘন করে স্থায়ী প্রকৃতির পদে অস্থায়ী ভিত্তিতে আউটসোসিং এর মাধ্যমে লোক নিয়োগ দিয়েছে বাটা সু কোম্পানি। বাটা সু কোম্পানিকে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) সুবিদা নেয়া সত্ত্বেও তারা কোনো শ্রম আইন মানে না। রাজধানীর গুলশান এলাকায় রোববার সিডিউল অনুযায়ী বাটা সু কোম্পানির সব শো রুম বন্ধ সিদ্ধান্ত রয়েছে। কিন্তু সেখানেও খোলা রাখা হয়। মালিকপক্ষ ৮ ঘন্টার পরিবর্তে ১২ ঘন্টা ডিউটি করাচ্ছে এবং সাপ্তাহিক ছুটিও দিচ্ছে না।

সাব কমিটির অন্য সদস্য বেগম রোকসানা ইয়াসমিন ছুটি বলেন, বাটা সু কোম্পানি যদি বাংলাদেশ থেকে তাদের ব্যবসা তুলে দেন তাহলে এদেশের মানুষের পায়ের জুতার কোনো অভাব হবে না। এদেশের শ্রমিক তার শ্রম দেয়ার পরও যদি ন্যায্য মূল্য না পায় তাহলে মালিকপক্ষকে শাস্তি দেয়া উচিত।

আনোয়ারুল আবেদীন খান বলেন, এই কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে আরো যে বহুজাতিক কোম্পানি আছে তারাও বাটা সু কোম্পানির পদ্ধতি অনুসরণ করবে।

বৈঠকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানায়, রাজধানীর গুলশান এলাকাসহ ২৩টি উপমহাপরিদর্শকের কার্যালয়ের অধীন মোট ২১৫ টি আউটলেট রয়েছে। আইন ভঙ্গ করায় গুলশানের দুটি, এলিফেন্ট রোডের ২টি, উত্তরায় ২টি, কমলাপুরে ১টি, কারওয়ান বাজারে ১টি, মিরপুর ১টি, ওয়ারী ১টি এবং চট্টগ্রামের ১ টিসহ মোট ১১টির বিরুদ্ধে শ্রম আদালতে মামলা করা হয়েছে।

বৈঠক শেষে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মোঃ মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, বিদেশি একটি প্রতিষ্ঠান আমাদের দেশের সব সুবিধা নিয়েও আমাদের শ্রমিকদের শোষণ করবেন, চাকরিচ্যুত করবেন তা মেনে নেয়া যায় না। তাই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে।


বিডি২৪লাইভ/এএইচআর

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: