নাজমুস সাকিব সোহান

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

দাম বেড়েছে নিত্যপণ্যের

ভারতের গরু আসলে হয়তো দাম কমবে!

১৭ মে, ২০১৮ ২২:৫০:০০

মিরপুর দুই নম্বর এলাকার বাজার। ছবি: প্রতিনিধি

পবিত্র রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে কাজ করার আশ্বাস দেয়া হলেও তার কোনো প্রভাব দেখা যায়নি বাজারে। বরাবরের মতো এবারও রমজান শুরুর আগেই দাম বেড়েছে প্রায় সব ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের। এদিকে সরকারের নির্দেশ অনুসারে বাজারের প্রবেশমুখে নিত্যপণ্যের দর টানিয়ে রাখার বিধান থাকলেও তা মানছেন না কেউই।

অন্যদিকে সিটি করপোরশন গরুর মাংসের দাম ঠিক করে দিয়েছেন প্রতিকেজি ৪৫০ টাকা। যা প্রথম রোজা থেকে কার্যকর হবে। আর এই সুযোগে ৫০০ টাকা কেজি দরে গরুর মাংস বিক্রি করেছেন অনেক ব্যবসায়ী। ক্রেতারাও কিনেছেন।

গত (১৪ মে) সিটি করপোরেশন রমজান উপলক্ষে দেশী গরুর মাংস প্রতি কেজি ৪৫০ টাকা, বিদেশী গরু ও মহিষের মাংস ৪২০, খাসির মাংস প্রতি কেজি ৭২০ এবং ভেড়া বা ছাগীর মাংস ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে হবে বলে ঘোষণা দিয়েছিলো। কোনো মাংস বিক্রেতা এর চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করলে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছিল তারা।

বৃহস্পতিবার (১৭ মে) রাজধানীর মিরপুরের ১-২-১০ ও কারওয়ান বাজারে ঘুরে দেখা গেছে, রোজা শুরুর একদিন আগে বিক্রেতারা তাদের নিজস্ব দামেই মাংসের দর হাকাচ্ছেন। গরুর মাংস বিক্রি করছেন ৪৮০ টাকা, খাসি ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকা, মহিষের মাংস ৫০০ টাকা আবার কোথাও কোথাও ৫২০ টাকা।

‘সিটি করপোরেশনের নির্ধারণ করা মূল্যে মাংস বিক্রি হবে কি না’ এমন প্রশ্নে মিরপুর দুই নম্বর এলাকার একটি বাজারের ব্যবসায়ী আরমান বিডি২৪লাইভকে বলেন, ‘তাদের নির্ধারিত মূল্যে আপাতত মাংস বিক্রি সম্ভব নয়।’

‘কারণ আগের মজুদ করা পশু এখনো আমাদের থেকে গেছে। তাছাড়া রমজান উপলক্ষে ভারত থেকে গরু আসার কথা রয়েছে, সেগুলো আসলে হয়তো দাম কিছুটা কমতে পারে।’

তিনি কিছুটা আক্ষেপের সুরে বলেন, ‘আজ সকালে ১ লাখ ৭ হাজার টাকা দিয়ে একটি গরু কিনেছি। সেখানে আবার দালালকেও দিতে হয়েছে ৫০০ টাকা। জবাই দেয়ার পরে মাংস পেয়েছি মাত্র ২১০ কেজি। প্রতি কেজিতে যার দাম পরে ৪৬৬ টাকা।’

‘এর মধ্যে আবার দোকান ভাড়া, কর্মচারীর বেতনও রয়েছে। এখন হিসেব করে দেখছি উল্টো আমাকেই ১৫ হাজার টাকা গচ্ছা দিতে হচ্ছে।’

তবে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওয়াজুর রহমান বলছেন, ‘ভারতের গরু আসার সঙ্গে রোজায় মাংসের দাম নির্ধারণ করা হয়নি। কাল থেকে রোজার মধ্যে যদি কেউ মাংসের দাম বেশি রাখে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

বিডি২৪লাইভ/ওয়াইএ

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: