ফরিদুল ইসলাম রঞ্জু

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

আইন অমান্য করে ইটভাটায় জ্বলছে জ্বালানি কাঠ

১৮ মে, ২০১৮ ১৫:৩২:০০

ছবি: প্রতিনিধি

আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ে চলছে ইটভাটা মালিকদের অবৈধ পন্থায় ভাটা পরিচালনা। বছরের পর বছর নির্বিচারে জ্বালানি কাঠ পোড়ানোর পরও স্বাভাবিক ভাবেই চলছে ভাটাগুলো। রাস্তা দিয়ে যাবার পথেই চোখে পড়বে ভাটার চিমনি দিয়ে বের হচ্ছে কালো ধোঁয়া যা পরিবেশের জন্য ব্যাপক ক্ষতিকর।

প্রশাসনের নজরদারী না থাকায় রাতারাতি গজিয়ে উঠছে নতুন নতুন ভাটা। আর এই কারণে হাজার হাজার বিঘা জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বছরের পর বছর। সেসব জমিতে ফসল ফলেনা ঠিকমত। ইটভাটার নির্দিষ্ট আইন রয়েছে নিষিদ্ধ এলাকায় ভাটা রাখা যাবেনা। অথচ নিষিদ্ধ এলাকায় ভাটা চালালেও ক্ষতিগ্রস্তরা ক্ষতিপূরণ চাইতে গিয়ে অনেককে লাঞ্চিত হতে হয়েছে ইতিপূর্বে।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে বরুনাগাঁও মোশারুলের ভাটায় গিয়ে দেখা যায়,সারিসারি করে রাখা জ্বালানি কাঠ। ভাটার চুলাতেও পুড়ছে কাঠ। ম্যানেজার রফিকুলকে ভাটায় কিকি জ্বালানো হয়? জিজ্ঞাসা করা হলে কাঠ, কয়লাসহ সব পোড়ে বলে সে। বদেশ্বরীতেও একই মালিকের আরও একটি ভাটা আছে বলে সে জানায়। সেখানেও একইভাবে ভাটা চলে।

তার কথায়ও ছিলনা কোন জড়তা, এসময় বুক ফুলিয়ে কথা বলে সে। খড়ি পোড়ালে কোন সমস্যা হয়না? জিজ্ঞাসা করলে সে জানায় সবাইকে ম্যানেজ করেই খড়ি জ্বলে। কাদের ম্যানেজ করা হয়? জিজ্ঞাসা করলে কোন উত্তর দিতে পারেনি। এই অভিযোগ শুধু মোজারুলের ভাটার নয়, প্রায় অধিকাংশ ইটপ্রস্তুত ভাটার।

ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩'র ধারা ৬ তে উল্লেখ আছে,"আপাতত বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন ব্যক্তি ইটভাটায় ইট পোড়ানোর কাজে জ্বালানি হিসাবে কোন জ্বালানি কাঠ ব্যবহার করিতে পারিবেন না"।

"যদি কোন ব্যক্তি ধারা ৬ বিধান লঙ্ঘন করিয়া ইটভাটায় ইট পোড়ানোর কাজে জ্বালানি কাঠ ব্যবহার করেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক ৩ (তিন) বৎসরের কারাদণ্ড বা অনধিক ৩ (তিন) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন"।

আরও উল্লেখ আছে,ভ্রা ম্যমাণ আদালত পরিচালনাকালে বিচারে অপরাধ প্রমাণিত হইলে, আদালত উক্ত অপরাধের সহিত সম্পৃক্ত দ্রব্যাদি যেমন: ইট, মাটি, জ্বালানি কাঠ, কয়লা, যন্ত্রপাতি, সরঞ্জাম, মালামাল ইত্যাদি বাজেয়াপ্ত করিয়া আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।

পার্শ্ববর্তী জেলায় ইটভাটায় প্রশাসনের নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আয় হচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব। অথচ ঠাকুরগাঁওয়ে প্রায় প্রতিদিন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা হলেও কোন ভাটাতেই আজ পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার খবর পাওয়া যায়নি।

ঠাকুরগাঁওয়ের সচেতন মহল মনে করেন ইটের ভাটাগুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করলে বাড়বে সরকারের রাজস্ব, কমবে অনিয়ম, জমির মালিকরাও বাঁচবে ব্যাপক ক্ষতির হাত থেকে।

ইটভাটায় কাঠ পোড়ানোর ব্যাপারে জানতে ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি রাম বাবুর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করতে তাঁর ব্যস্ততার কারণে বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

বিডি২৪লাইভ/এমআরএম

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: