শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ভোর পৌনে পাঁচটায় কন্যা শিশুটির জন্ম হয়েছিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরপরই চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত ঘোষণার সেই নবজাতক দাফনের সময় কেঁদে উঠে। কেঁদে ওঠার পর গতকাল সকালেই রাজধানীর বসিলা কবরস্থান থেকে শিশুটিকে ফের ঢামেকে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
ফিরিয়ে আনা সেই শিশুটিকে পরে নবজাতকদের জন্য বিশেষায়িত এনআইসিইউতে ভর্তি করা হয়। আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর) এই নবজাতকের নাম রাখা হয় 'মরিয়ম'। কেন একটি জীবিত নবজাতককে মৃত ঘোষণা করা হলো তা জানাতে নাম না প্রকাশ করার শর্তে হাসপাতালে কর্মরত একজন জানান, গাইনি ও লেবার রুমের ইসিজি মেশিন ঠিকমতো রিডিং দেয় না। এমনকি এসব ডিভাইস নবজাতকদের উপযোগী নয়ও বলেও জানিয়েছেন দায়িত্বরতরা।
এসব অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন বলেন, এমনটি হওয়ার কথা নয়। এমন ঘটনা সারা পৃথিবীতেই ঘটে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই মুহূর্তে নবজাতকটিকে সুস্থ করার দিকে সব থেকে বেশি মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।
হাসপাতালটির গাইনি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. নিলুফা সুলতানা বলেন, 'আমি দুদিনের ছুটিতে আছি। নবজাতকটির বিষয়ে হাসপাতাল পরিচালক আমাকে জানিয়েছেন। আমি আমার বিভাগের ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জকে নবজাতকটি বিষয়ে জানিয়েছি। তারা সবকিছু দেখছেন।'
নবজাতকটির বাবা বাসচালক ইয়াসিন জানান, দুদিন আগে বুধবার ৬ মাস ১৬ দিনের অন্তঃসত্ত্বা অসুস্থ স্ত্রীকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতাল নিয়ে এলে গাইনি বিভাগের ২১২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানান, তার প্রেশার অনেক হাই। বাচ্চাটি ডেলিভারি না করালে তার প্রেশার কমবে না। চিকিৎসকদের কথায় সম্মতি দেওয়ার পর বুধবার রাতেই তাকে লেবার রুমে নিয়ে নরমাল ডেলিভারির চেষ্টা করা হয়। ডেলিভারি না হওয়ায় তাকে ১১০ নম্বর ওয়ার্ডে রাখা হয়। সেখানে ডাক্তাররা দুদিন চেষ্টার পরও শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ভোরে তার আবার ব্যথা শুরু হয়। এরপর পৌনে ৫টার দিকে শাহিনুর বেগমের এক মেয়ে বাচ্চা হয়। তবে চিকিৎসকরা জানান বাচ্চাটি মৃত অবস্থায় হয়েছে। এরপর হাসপাতালের আয়া মৃত বাচ্চাটিকে প্যাকেট করে বেডের নিচে রেখে দেয় এবং কোথাও নিয়ে দাফন করার জন্য বলে।
পাঠকের মন্তব্য: