৪০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম বৃষ্টিপাত এবারের বর্ষায়

গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহে প্রকৃতি যখন জ্বলেপুড়ে যেতে থাকে, তখন শান্তির পরশ নিয়ে আসে বর্ষা। দিনরাত অবিরাম বৃষ্টির ধারা প্রকৃতিকে করে তােলে শান্ত ও মনােরম। তবে চলতি বছর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। দেশে বিগত ৪০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম বৃষ্টিপাত হয়েছে এবারের বর্ষায়। সাধারণত জুলাই ও আগস্ট—বর্ষপঞ্জির হিসেবে এই দুমাস বাংলাদেশে বর্ষকাল। অথচ বর্ষাকালের বেশিরভাগ সময়ই ছিল বৃষ্টি জন্য হাহাকার! আষাঢ়ে দেখা ছিল না বৃষ্টির, শ্রাবণের ধারাও বইলো না! আবহাওয়া অধিদফতরের হিসেবে, চলতি বছরের বর্ষাকালে গত চার দশকের মধ্যে সবচেয়ে কম বৃষ্টিপাত হয়েছে।
এছাড়া দেশের বেশির ভাগ এলাকাই ছিলো তাপদাহের দখলে। আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাব ও প্রচণ্ড গরমে হাঁসফাঁস জনজীবন। বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে চলতি বছরের বর্ষাকালে অর্থাৎ জুলাই ও আগস্টে গত চার দশকের মধ্যে সবচেয়ে কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। একই সঙ্গে এই দুমাসের মধ্যে অন্তত পনের দিন দেশের কোনো না কোনো জায়গায় দাবদাহের মতো পরিস্থিতি দেখা গেছে, যা অনেকটাই নজিরবিহীন। জুলাই মাসে বাংলাদেশে সাধারণত গড়ে প্রায় ৫শ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। সেখানে এ বছর হয়েছে মাত্র ২১১ মিলিমিটার। আর আগস্টেও হয়েছে স্বাভাবিকের চেয়ে ৪০ শতাংশ কম।
তবে মানবসৃষ্ট বিভিন্ন কারণ ছাড়াও হঠাৎ করে আবহাওয়ার এমন আচরণের জন্য মৌসুমি বায়ুর খেয়ালি আচরণকেই দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। আবহাওয়াবিদ বজলুর রশীদ বলছেন, গত মাস ও এ মাসে অনেকগুলো লঘুচাপ হয়েছে কিন্তু এগুলো দ্রুত বাংলাদেশের ওপরে আসতে পারেনি। পরপর যে কয়েকটি নিম্নচাপ হয়েছে, সেগুলোর কারণে উত্তর প্রদেশ, বিহার হয়ে পাকিস্তানে পর্যন্ত পর্যাপ্ত বৃষ্টি হয়েছে। গত সপ্তাহের আগেও পাকিস্তানে ব্যাপক বৃষ্টি হয়েছে।
তবে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশে বৃষ্টিপাত আরো হ্রাস পাবে বলে বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা। বিগত কয়েক বছরে বাংলাদেশে বৃষ্টিপাতের মৌসুম এবং ধরন পরিবর্তিত হয়েছে। বৃষ্টিপাত কমে যাওয়া এবং অসময়ে বৃষ্টিপাত কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের শস্য এবং ফসল উৎপাদনে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ার ফলে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নেমে গিয়ে খরায় আক্রান্ত হবে বিপুলসংখ্যক মানুষ, এর মধ্যে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের লোকই বেশি। এরকম খরায় কত মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তার ব্যাপারে বিভিন্ন উৎস থেকে আলাদা আলাদা উপাত্ত পাওয়া যায়। কারো মতে, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে ২০৫০ সালে নাগাদ খরায় উদ্বাস্তু হবে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ।
বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬৭৮৬৭৭১৯১
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬৭৮৬৭৭১৯০
মার্কেটিং ও সেলসঃ ০৯৬১১১২০৬১২
ইমেইলঃ [email protected]

পাঠকের মন্তব্য: