
কোটা সংস্কারের দাবিতে নরসিংদীতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেছে শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৪টায় বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জেলখানা মোড়ে অবস্থান নিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে তারা। এতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হাজারো শিক্ষার্থী মহাসড়কে আগুন ধরিয়ে বিক্ষোভ ও স্লোগান দেয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত টানা দুই ঘণ্টা এ অবরোধ চলে।
এসময় তুমি কে, আমি কে, রাজাকার-রাজাকারসহ ছাত্রলীগ ও পুলিশ বিরোধী স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয় আশপাশের এলাকা। হাজারো শিক্ষার্থীর কণ্ঠে দাবি কোটা সংস্কার চাই, স্লোগান দেয়া হয়। কিছু শিক্ষার্থী মহাসড়কে জামাতের সাথে আসর নামাজ আদায় করেন।
এর আগে কোটা বিরোধীদের মহাসড়ক অবরোধ ঠেকাতে দুপুর হতে নরসিংদী জেলা, শহর ও কলেজ শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জেলখানা মোড়ে অবস্থান নেয়। এসময় কোটাবিরোধী সন্দেহে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা মারধর করলে ছবি তুলতে গিয়ে মারধরের শিকার হয় ডে' ইলি স্টারের সাংবাদিক জাহিদুল ইসলাম। এছাড়া ছাত্রলীগের হামলায় সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী সাটিরপাড়া এলাকার রিয়াদ (২৪) ও নরসিংদী শহরের বাসাইল এলাকার শিক্ষার্থী তাহসিন আহমেদ হিমু (২২) নামে দুইজন আহত হয়েছেন।
পরে হাজারো কোটাবিরোধী সাধারণ শিক্ষার্থী লাঠিসোটাসহ বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জেলখানা মোড়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দিকে আসার খবর পেয়ে তাদের প্রতিহত করতে মিছিল নিয়ে এগিয়ে যায় ছাত্রলীগ। এসময় তাদের সাথে কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদের সাথে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হয়। পরে শিক্ষার্থীরা জেলখানা মোড়ে মহাসড়ক দখলে নিয়ে আন্দোলন শুরু করে। এতে ঢাকা হতে কিশোরগঞ্জ, সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মৌলভীবাজারসহ বিভিন্ন সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
নরসিংদীর জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আন্দোলনকারীদের বুঝিয়ে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হয়। তবে কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদের মূল সমন্বায়ক কেউ না থাকায় তাৎক্ষণিক ফলপ্রসূ আলোচনা করা সম্ভব হয়নি। পরে বুঝিয়ে বলার পর তারা অবরোধ তুলে নেয়।
মুনতাসির/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর