
ভোলার চরফ্যাশনের দক্ষিণ আইচায় কওমি মাদ্রাসার মো. মাকসুদ (১০) নামের এক ছাত্রকে অপহরণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কলেজ পড়–য়া ছাত্র সাকিবের বিরুদ্ধে। শুক্রবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগ নেতা সোহাগ আখন অপহরণের চেষ্টাকারী সাকিবকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা ও ২০ বেত্রাঘাত দিয়ে ঘটনাটি মীমাংসা করে দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
তার আগের দিন বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ আইছা থানাধীন উত্তর চর মানিকা গ্রামের ৩নং ওয়ার্ডে অপহরণ চেষ্টার ঘটনা ঘটে। আওয়ামী লীগ নেতা সোহাগ আখন অপহরণের চেষ্টাকারী সাকিবকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা ও ২০ বেত্রাঘাত দিয়ে মীমাংসা করে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে মাদ্রাসা ছাত্রের তার এক শিক্ষক ও স্থানীয়দের মাঝে চাপা খোব বিরাজ করছে।
অপহরণ চেষ্টাকারী সাকিব (২২) ওই ওয়ার্ডের মো.জাকির হাওলাদারের ছেলে। সে বরগুনা সরকারি কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র। অপহরণচেষ্টার স্বীকার হওয়া মাদ্রাসাছাত্র মো. মাকসুদ ওই ওয়ার্ডের মো. হাসান চৌকিদারের ছেলে। সে মহাসিনুল উলুম নুরানি হাফিজীয় কওমি মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মানিকা পুরান বাজারে অবস্থিত মহাসিনুল উলুম নুরানী হাফিজীয়া কওমি মাদ্রাসা। ওই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেন মো. হাসানের ছেলে মো. মাকসুদ। বৃহস্পতিবার রাত ৮ টার দিকে প্রতিদিনের মতো ওইদিনও মাদ্রাসা ছুটি হয়। এরপর মাদ্রাসা ছাত্র মাকসুদ আর বাড়ি ফিরেনি। তার পরিবারের সদস্যরা মাদ্রাসা সহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুজি করে ওইদিন রাত ১২ টার দিকে পুরান বাজার বেড়িবাঁধের ওপরে তার বাবা একটি পরিত্যক্ত দোকানের বাহির দিয়ে পাঞ্জাবি দেখতে পেয়ে দোকানে প্রবেশ করে দেখে ছেলেকে বেঁধে রেখে হাত ও মুখে কসটেপ মারা। এসময় তার বাবা তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করেন। এসময় মাদ্রাসা ছাত্র মাকসুদের ভাষ্যমতে জানা যায় তাকে একই এলাকার জাকির হাওলাদারের ছেলে সাকিব মাদ্রাসা ছুটি হওয়ার পর পরিত্যক্ত দোকানে আটকে রাখেন। বিষয়টি জানা জানি হলে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ওই মাদ্রাসা ছাত্রদের অভিভাবকরা এ বিষয়ে পুলিশের আশ্রয় নিতে চাইলে প্রভাবশালী সোহাগ আখন তাতেও বাঁধা দেন। এমনকি তিনি বিষয়টিকে ধামাচাপা দেয়ার জন্য শালিসের আয়োজন করেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় শালিসে অপহরণের চেষ্টা কারী যুবক সাকিব ক্ষমা চাইলে তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়েই তাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা ও ২০ বেত্রাঘাত দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়।
স্থানীয়রা আরো জানান, সোহাগ আখন এলাকায় ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করছে। তার ভয়ে কেউ মুখ খুলতে রাজি নন। সে এই বিষয়টি নিয়ে সালিশ না করে আইনের আশ্রয়ে সহযোগিতা করতে পারত। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অপহরণ চেষ্টার স্বীকার মাদ্রাসা ছাত্র মাকসুদ জানান, মাদ্রাসা ছুটি হওয়ার পর আমাদের এলাকার জাকির হাওলাদারের ছেলে সাকিব আমাকে তুলে নিয়ে একটি পরিত্যক্ত দোকানে নিয়ে আটকে রেখে আমার হাত-মুখে কসটেব মারেন। রাত ১২ টার দিকে আমার বাবা আমাকে দেখতে পেয়ে ওইখান থেকে উদ্ধার করেন।
মাদ্রাসা ছাত্র মাকসুদের বাবা হাসান বলেন, আর একটু দেরি হলেই আমার ছেলেকে হয়ত আমি আর ফিরে পেতাম না। স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগ নেতা সোহাগ আখন অপহরণের চেষ্টাকারী যুবক সাকিবকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা ও ২০ বেত্রাঘাত দিয়ে ঘটনাটি মীমাংসা করে দিয়েছেন।
অভিযুক্ত অপহরণ চেষ্টাকারী যুবক সাকিব বলেন, মাদ্রাসা ছাত্র মাকসুদের কাছে আমি ৫০ টাকা পাওনা ছিলাম। তাই তাকে ওই দোকানে আটকে রেখেছিলাম। আমাকে ২০ বেত্রাঘাত ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করে বিষয়টি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সোহাগ আখন মীমাংসা করে দিয়েছেন।
মহাসিনুল উলুম নুরানি হাফিজীয়া কওমি মাদ্রাসার মাওলানা আলামিন বলেন, আমাকে বিপদে ফেলার জন্য কাউকে না জানিয়ে আমার এক ছাত্রকে দোকানে আটকে রাখেন। ২০ বেত্রাঘাত ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করে বিষয়টি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সোহাগ আখন মীমাংসা করে দিয়েছেন।
চরমানিকা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সোহাগ আখন অপহরণের চেষ্টাকারী যুবক সাকিবকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা ও ২০ বেত দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, বিচারে দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়ায় যুবক সাকিবকে মাদ্রাসা ছাত্র মাকসুদ সহ তার পরিবারের সবাই ক্ষমা করে দেয়। তাই মীমাংসা করে দিয়েছি।
দক্ষিণ আইচা থানার (ওসি) সাঈদ আহমেদ জানান, মাদ্রাসা ছাত্রের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ দায়ের করেনি। এই ঘটনায় স্থানীয়ভাবে কোনো মীমাংসা আইনি বিধান নাই। তবে অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
মুনতাসির/সাএ
সর্বশেষ খবর