
কাজে দক্ষ, আচরণে মানবিক, বহুগুণের অধিকারী এসএফডিএফের এমডি জাকির চেহারায় মানবিকতার ছাপ ।দুচোখে সামনে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন। তারা দক্ষ, আচরণে মানবিক। চরিত্রে দৃঢ়তা ও সততার প্রতিচ্ছবি।
পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের এমন বহুগুণের অধিকারী হলেন এসএফডিএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকির হোসেন আকন্দ। জনাব জাকির হোসেন আকন্দ, ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের (এসএফডিএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে ১১/০৮/২০২১ ইং তারিখে যোগদান করেন। যোগদান করেই শুরু করেন তার সৃজনশীলতা।
তার যোগদানের পর ই বদলে গেছে এসএফডিএফের সার্বিক কাঠামো। দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই এসএফডিএফকে নিজের মতো করে ঢেলে সাজাতে শুরু করেন নতুন নতুন আইডিয়া দিয়ে । তার সততা ও কর্মদক্ষতায় প্রতিষ্ঠানটিতে প্রতিটি কর্মকাণ্ডে ফিরে এসেছে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা । প্রতিষ্ঠানের যেকোনো অন্যায় কাজের বিরুদ্ধে তিনি সবসময় সোচ্চার। অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথেই তিনি তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নিতে শুরু করেন। দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্নীতির বেড়াজাল ছিন্ন করে এসএফডিএফকে একটি সেরা আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃজাকির হোসেন আকন্দ।
তথ্যানুসন্ধানে দেখা গেছে, ১৯৯৪ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকার কোম্পানি আইনে নিবন্ধন দিয়ে ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করলে পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে প্রতিষ্ঠানটি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন।
ফান্ডের অভাবে প্রতিষ্ঠানটি কর্মকর্তা কর্মচারীদের সংগ্রাম ,বিভিন্ন সরকারি সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে কোন প্রতিবাদ না জানিয়ে বুকে চাপা কষ্ট নিয়ে এত দিন নিভু নিভু প্রদীপের মত চলছিল এই প্রতিষ্ঠানটি । খাদের কিনারায় থাকা ধ্বংসস্তূপ থেকে নিভু নিভু আলো দেওয়া প্রতিষ্ঠানটাকে একাই টেনে তোলার চেষ্টা করছেন বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকির হোসেন আকন্দ।
তিনি যোগদানের পূর্বে কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে সময়মতো বেতনভাতা না পাওয়ার ক্ষোভ ,খেলাপির দায়ে বেতন কর্তন করে রেখে দেওয়ার মত জঘন্য অমানবিক আচরণ ,প্রতিবাদ করলে ভুঁইফোঁড় অডিট দেখিয়ে বিভাগীয় মামলা দিয়ে হয়রানি, ইনক্রিমেন্ট না দেওয়া ,নামে মাত্র মাঠ ভাতা, যানবাহনের সমস্যা এরকম নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত ছিল প্রতিষ্ঠানটি । কিন্তু তিনি যোগদানের পরের দিন থেকেই ঘোষণা আসলো ১ তারিখেই সবাই বেতন পাবে এবং বেতন কর্তন হবে না । পরের মাস থেকেই হলো ও তাই । অনেক যুগ পর কর্তনবিহীন বেতনের স্বাদ পেয়ে কর্মকর্তা কর্মচারীরা যেন প্রাণ ফিরে পেল । কাজের গতি বেড়ে গেল ,প্রতিষ্ঠান লাভের মুখ দেখা শুরু করলো। রাতারাতি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করলো প্রতিষ্ঠান ।
যোগদানের ১ মাসের মধ্যে যে সমস্ত ইউএমদের মোটরসাইকেল ছিল না দ্রুত তাদের এবং এফ ও দের সাইকেলের পরিবর্তে মোটরসাইকেল দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন । মাঠ ভাতা ২০০ টাকার পরিবর্তে ১৬০০ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হলো। ইনক্রিমেন্ট ৩% এর পরিবর্তে ৫% দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন যেটা পূর্বে প্রতিবছর দেওয়া হত না। মোবাইল এর বিল আগে দেওয়া হত না । তিনি যোগদানের পরেই বিল দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় । এমন ভগ্নুর প্রতিষ্ঠানেও ছিল কিছু মানুষরূপী হায়েনার সিন্ডিকেট যারা বদলি বাণিজ্য ,পদোন্নতি বাণিজ্য , হয়রানিমূলক বিভাগীয় মামলা দিয়ে পুরো প্রতিষ্ঠানটিকে জিম্মি করে রেখেছিল । তিনি যোগদানের পরেই সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দেন এবং দুর্নীতিবাজ অফিসারদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে শুরু করেন ।
বাড়ির কাছাকাছি বদলি ,জ্যৈষ্ঠতার ভিত্তিতে সৎ যোগ্য অফিসারদের পদোন্নতি এবং হয়রানিমূলক মামলা থেকে রেহাই দেন । এছাড়া ,প্রধান কার্যালয়ের সকল সুযোগ সুবিধা যেমন বেতন ভাতা ,পদোন্নতি,নিয়োগ সকল ক্ষেত্রে ছিল এক নিয়ম আর মাঠ প্রশাসনে ছিল আরেক নিয়ম । এসকল বৈষম্যমুলক আচরণে মাঠ প্রশাসনের লোকবলের মধ্যে ছিল চরম অসন্তোষ ।তিনি এসে সবার জন্য একই নিয়ম চালু করলেন । যেহেতু আয় থেকে ব্যয় করতে হবে আর তাই ফান্ড বাড়ানোর জন্য রূপকল্প ২০৪১ নামে ১৫০ কোটি টাকার একটি নতুন প্রকল্প নিয়ে আসেন । যেখানে নতুন করে ২৭ টি উপজেলা প্রতিষ্ঠানের বৃদ্ধি পেয়েছে।
এছাড়া আরো ৩-৪ টি প্রকল্প আনার জন্য উদ্বেগ গ্রহন করেন। তিনি যোগদানের পর করোনাকালীন সময়ের ধকল সামলানোর জন্য মাঠ পর্যায়ের সকল কর্মকর্তা কর্মচারী নিয়ে উপজেলা জেলা পর্যায়ে মিটিং করে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা সহ কর্মকর্তা কর্মচারীদের সমস্যা ,অভিযোগ , সুফলভোগীদের সুযোগ সুবিধার কথা মন দিয়ে শুনেন এবং সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করেন । কোনো অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক যাচাই বাছাই করে ব্যবস্থা নেব।
মাঠ পর্যায় কাজ করতে গিয়ে যে সকল সমস্যা সমূহ যেমন সিলিং সমস্যা, মনিটরিং হয়রানি, হেড অফিসের কর্মকর্তাদের সাথে মাঠ পর্যায়ের কর্মচারীদের বৈষম্য এবং দুর্ব্যবহার , অফিসিয়াল কাগজপত্রাদির জটিলতা নিমিষেই তিনি সহজীকরনভাবে সমাধান করেছেন ।
প্রকৃত কৃষকদের মাঝে ঋণ বিতরণ ও সকল ইউনিয়নে কার্যক্রম অব্যাহত রাখা তারই চেষ্টার ফসল । প্রবিধানমালা সংশোধন করে প্রতিটি কর্মকর্তা কর্মচারীদের কার্যনির্দেশিকা হাতে হাতে পৌঁছে দিয়েছেন তিনি। দুর্নিতিবাজ অফিসারগণ যেন কোন ভুয়া লোন না নিতে পারে তার জন্য সুপার মনিটরিংসহ চেকের মাধ্যমে সব লেনদেনের ব্যবস্থা করেছেন । ২০২৩ -২৪ সালে এপি চুক্তিবাস্তবায়নে এলজি আর ডি মন্ত্রণালয়ের সকল প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করাই প্রমাণ করে তিনি কত টা সফল এমডি।
তার প্রতিটি কর্মপরিকল্পনায় কমেছে জনভোগান্তি বেড়েছে ,উপকারভোগীদের সেবার মান । সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল সেবা প্রদানের কার্যক্রম চালু করেছেন প্রতিটি কার্যালয়ে।
এ প্রসঙ্গে ভাঙ্গা উপজেলা ব্যবস্থাপক মোঃ শাহ আলম বলেন , স্যার একজন সৎ ও মানবিক অফিসার । টাকা পয়সার লোভ তার কখনো কাজ করেন । বিসিএস প্রশাসনের মত এসএফডিএফে জয়েন করার পর থেকেই তার নিরপেক্ষতা সততা ও দক্ষতা সবার মন কেড়ে নেয়। স্যার কোন দলের হয়ে কাজ করেন না কিন্তু সকল দল সকল মানুষ উনাকে পছন্দ করেন ভালোবাসেন।
শাহ আলম বলেন, এসএফডিএফের বর্তমান সফলতার মূলনায়ক আমাদের এমডি স্যার । তিনি এই তেল মারা অকর্মা অদক্ষ লোকদের পছন্দ করেন না ।একজন কাজ পাগল মানুষ । তিনি কোন স্বজন প্রাতি বুঝেন না ।তার নিকট অযৌক্তিক তদবির করে কেউ সুবিধা নিতে পারে না । তিনি আসার পূর্বে কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে ছিল শুধু হা হুতাশ ,প্রতিষ্ঠানের নামে বদনাম কিন্তু স্যার আসার পর রাতারাতি বদলে গিয়েছে হা হুতাস মার্কা গল্প কাহিনি ।
শাহ আলম আরো বলেন, তবে এসএডিএফের কিছু দুষ্ট লোক যারা প্রতিষ্ঠানটিকে লুটেপুটে খেয়েছে স্যার আসার পর এরা বেকায়দায় পড়ে গেছে । এমডির এসব সাফল্যের বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে দেশবরেণ্য অর্থনীতিবিদ মিফতাহিল বারি বলেন,‘ সরকারের একজন উচ্চপদস্থ দায়িত্বশীল প্রশাসনিক কর্মকর্তা যিনি এসএফডিএফের সাফল্য বয়ে নিয়ে আসার সাথে দেশের অর্থনীতিতে বিশাল অবদান রেখেছেন । ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকির হোসেন আকন্দ বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তারা জনগণের সেবক। নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সব সময় চেষ্টা করি মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘবের।’
তিনি আরও বলেন, যতদিন এসএফডিএফে আছি প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের পাশাপাশি মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে কাজ করে যাব। সর্বোপরি দায়িত্ব পালনে এসএফডিএফের সকল কর্মকর্তা, কর্মচারী , উপকারভোগী সাংবাদিকসহ সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা চান তিনি।
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর