
এক বুক স্বপ্ন নিয়ে লাভের আশায় চড়া সুদে ঋণ নিয়ে পরের জমি বর্গা নিয়ে পেঁয়াজ চাষ করেছেন মেহেরপুরের কৃষকেরা। হঠাৎ পেঁয়াজের দাম কমে যাওয়ায় স্বপ্ন যেন তাদের দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বীজ, সার, হালচাষ, কীটনাশক, সেচ, মজুরি ও পরিবহণ খরচ বেশি হওয়ায় একদিকে যেমন উৎপাদন খরচ বেশি হচ্ছে অপর দিকে দেশের বাইরে থেকে পেয়াঁজ আমদানি করার কারণে কৃষকেরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। এতে করে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে চাষীরা।
গত কয়েক সপ্তাহ আগেও বাজারে পেঁয়াজের মূল্য ছিল ২০০ টাকা কেজি। কিন্তু এখন তা ২০ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে করে এক বিঘা পেয়াঁজে লোকসান হচ্ছে প্রায় ৫০-৬০ হাজার টাকা।
জানা যায়, চলতি মৌসুমে মেহেরপুর জেলায় ৭ হাজার হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের পেঁয়াজের চাষ হয়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর মেহেরপুর সদর, গাংনী ও মুজিবনগর উপজেলার মাঠে পেঁয়াজের আবাদ বেশি হয়েছে । বিঘা প্রতি জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করতে খরচ হয়েছে লক্ষাধিক টাকা। বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। এতে করে খরচের টাকাই উঠবেনা বরং প্রতি বিঘা জমিতে লোকসান গুনতে হবে ৫০-৬০ হাজার টাকা।
পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ করে ন্যায্য মূল্যে নিশ্চিত করার দাবি কৃষকদের। এবার পেঁয়াজ চাষ করে আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে আগামীতে পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ হারাবেন বলে জানিয়েছেন চাষীরা।
চাষীরা আরো জানিয়েছেন,পেঁয়াজ চাষে প্রতিবিঘা জমিতে খরচ হয়েছে প্রায় ১ লক্ষ টাকা। ভাল ফলন হলেও প্রতি বিঘা জমিতে পেঁয়াজ হয় ২০ থেকে ২৫ মণ। বর্তমান বাজারে চাষিরা পেঁয়াজ বিক্রয় করেছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে। এ দামে পেঁয়াজ বিক্রয় করলে প্রতি বিঘা জমিতে লোকসান হবে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। চাষিদের অভিযোগ বাহিরের দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করার কারণে তাদের লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে।
এদিকে মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিজয় কৃষ্ণ হালদার জানিয়েছেন, পেঁয়াজের উৎপাদন বৃদ্ধি ও সব কৃষক একত্রে পেঁয়াজ বাজারে বিক্রি করায় ন্যায্য মূল্যে পাচ্ছেনা। তবে সংরক্ষণ করে বিক্রি করলে চাষীরা ন্যায্য মূল্যে পাবেন। এছাড়া পুরো সিজনে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে বলে জানান তিনি।
শাকিল/সাএ
সর্বশেষ খবর