
জাতীয় পরিচয়পত্রে(এনআইডি) তথ্য অসম্পূর্ণ থাকলে স্মার্ট কার্ড প্রিন্টে সৃষ্টি হয় জটিলতা। এ জটিলতা কাটাতে কোনো প্রকার আবেদন ফী ছাড়া এ সংক্রান্ত তথ্য সংশোধন করে নাগরিকদের স্মার্ট কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন(ইসি)।
সম্প্রতি ভোটার স্থানান্তর ও জাতীয় পরিচয়পত্র সেবা সহজিকরণ কমিটির প্রধান ও ইসির উপ-সচিব এম মাজহারুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত কার্যবিবরণী থেকে এসব তথ্য জানা যায়।
ইসি কর্মকর্তারা জানান,স্মার্ট কার্ড প্রিন্টের জন্য কিছু তথ্য এমন আছে যা আপনাকে বাধ্যতামূলক দিতেই হবে। ডেটাবেইজ এমন তথ্য যে-সকল নাগরিকদের থাকে না তাদের স্মার্ট কার্ড প্রিন্ট হয় না। এ সকল নাগরিকদের স্মার্ট কার্ড দেওয়ার লক্ষ আমরা পরিকল্পনা করেছি যে কোনো প্রকার আবেদন ফী ছাড়া এসব তথ্য সংশোধন বা যুক্ত করে দেওয়ার। এতে করে নাগরিকরা অতিদ্রুত তাদের স্মার্ট কার্ড হাতে পাবে।
ইসি সূত্র জানায়,স্মার্ট কার্ড প্রিন্ট হয়নি তা আগে থেকে জানতে পারে না অনেক নাগরিকরা।অনেক সময় দেখা যায় স্মার্ট কার্ড নিতে এসে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করে কার্ড না পেয়ে ফেরত যেতে বাধ্য হয়। ফলে না না রকম অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে মাঠ পর্যায়ের কার্যালয়গুলোতে। এজন্য এ সেবাগ্রহীতাদের বিভিন্ন সমস্যা পর্যালোচনা করে ওই কমিটি একটি সুপারিশ করেছে, যা বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। কমিটি প্রধান ও ইসির উপ-সচিব এম মাজহারুল ইসলামের সই করা সুপারিশ ইতোমধ্যে সচিবের দপ্তরে রয়েছে।কমিশনের অনুমোদন পেলেই তা বাস্তবায়ন করা হবে।
সমস্যা সমাধানে যে সুপারিশ করা হয়েছে:-
ক) সংশ্লিষ্ট উপজেলায় কি পরিমাণ ভোটারের স্মার্ট এনআইডি কার্ড মুদ্রণ হয়নি, তা ড্যাশবোর্ডে প্রদর্শন করা যেতে পারে অথবা সার্চ অপশনে গিয়ে সার্চ করার ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে।
খ) ডাটা ইনকমপ্লিট থাকার কারণে যে সকল নাগরিকের স্মার্ট কার্ড মুদ্রণ হবে না, কি কারণে প্রিন্ট হবে না তা উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসার দেখতে পারে না। তারা যেন দেখতে পায় তার ব্যবস্থা করা এবং কারণ সহ ডাটাবেজ হতে তাদের তালিকা উপজেলা ভিত্তিক সংগ্রহ করে উক্ত উপজেলার কার্ড মুদ্রণ শুরুর পূর্বেই মাঠ পর্যায়ে প্রেরণ করা যেতে পারে। উক্ত তালিকা সকল ওয়ার্ডের দর্শনীয় স্থানে প্রকাশ করতে হবে এবং প্রচার করতে হবে। যাদের কার্ড প্রিন্ট হবে না তাদেরকে নির্দিষ্ট সময় দিয়ে ডাটা সংশোধনের সুযোগ দেয়া হবে। তারপর উক্ত উপজেলার স্মার্ট কার্ড মুদ্রণ করা যেতে পারে।
গ) প্রেরিত তালিকায় উল্লিখিত নাগরিকদের ডাটা কোন ফি ছাড়াই সংশোধনের ব্যবস্থা করতে হবে। এজন্য সিএমএস এ ফি ছাড়া আবেদন গ্রহণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এ ধরনের আবেদন সরাসরি অফিসে জমা গ্রহণ করা হবে। এক্ষেত্রে বিশেষ ধরনের ফরম ব্যবহার করা যেতে পারে, যাতে সহজেই বোঝা যায় যে, স্মার্ট কার্ড মুদ্রণ জনিত কারণে উক্ত সংশোধনের আবেদন দাখিল করা হয়েছে। ধরনের আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষমতা উপজেলা/ থানা নির্বাচন কর্মকর্তাকে প্রদান করতে হবে কিংবা ডাটাবেজে যে তথ্য বিদ্যমান রয়েছে অর্থাৎ ডাটা ইনকমপ্লিট থাকা অবস্থায় সকল নাগরিকের স্মার্ট কার্ড মুদ্রণ করে বিতরণ করা যেতে পারে। পরবর্তীতে নাগরিকগণ প্রয়োজনবোধে ডাটা সংশোধন করে নিতে পারেন।
২০১১ সালে এটিএম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন উন্নতমানের জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানের জন্য বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় একটি প্রকল্প হাতে নেয়। যার নাম দেওয়া হয় আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর অ্যানহেন্সিং এক্সেস টু সার্ভিস বা আইডিইএ। যার অধীনেই নাগরিকদের এই কার্ড দেওয়া শুরু হয় ২০১৫ সালে।
সে সময় ফরাসি প্রযুক্তিপণ্য প্রস্তুতকারি প্রতিষ্ঠান অবার্থার টেকনোলজিজের সঙ্গে নয় কোটি কার্ড সরবারের চুক্তি করে ইসি। কিন্তু প্রকল্পের মেয়াদ কয়েক দফা বাড়ালেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্ড সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয় প্রতিষ্ঠানটি। ফলে ঝুলে যায় নাগরিকদের স্মার্টকার্ড প্রাপ্তি।
এরপর ২০১৮ সালে এসে দেশীয় প্রতিষ্ঠান বিএমটিএফ-এর কাছ থেকেই উন্নতমানের এই কার্ড সংগ্রহ করার সিদ্ধান্ত হয়। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠান থেকেই সহায়তা নিচ্ছে ইসি।
সবশেষ ভোটার তালিকা হালনাগাদ অনুযায়ী দেশে মোটা ভোটার ছিল১২ কোটি ১৮ লাখ ৫০ হাজার ১৬০ জন। যা প্রায় ১৭ কোটি মোট জনসংখ্যার ৭১.৭৪%
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর
জাতীয় এর সর্বশেষ খবর