
মাটির বিভিন্ন আকৃতির ট্যাপা পুতুল, হাত পাখা, নকশী কাঁথা, পট, গোলা, শীতলপাটি, শখের হাঁড়ি, মনিপুরী তাঁত শিল্প, শতরঞ্জি, শঙ্খ, মুখোশ, বাঁশি ও হস্তশিল্পসহ নানা হারিয়ে মৃৎ শিল্পকর্ম সঙ্গে চিরায়ত বাংলার সংস্কৃতির অন্যতম অনুষঙ্গ বায়স্কোপ— এমন হরেক রকম জিনিসের পসরা সাজিয়ে রাজধানীর বুকে তিন দিন ব্যাপী জয়নুল মেলা শেষ হলো।
রোববার (২৯ ডিসেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায় ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত হওয়া এই মেলার পর্দা নামে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। পুরো মেলাতেই ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বাহারি শিল্পকর্ম নিয়ে হাজির হয়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত শিল্পীদের সম্মেলন ঘটেছে।
জানা যায়, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের ১১০তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষ্যে প্রতিবারের ন্যায় এ বছরও শুরু হয়েছে তিনদিনব্যাপী এই জয়নুল উৎসব। এবং এই মেলারই অন্যতম আকর্ষণ এই জয়নুল মেলা। এদিকে আয়োজকরা জানান, হারিয়ে যাওয়া দেশের শিল্প ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরতেই এই জয়নুল উৎসব। এমন উৎসবের মধ্য দিয়ে বর্তমান প্রজন্ম হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতি অঙ্গগুলোকে যেমন জানতে পারবে তেমনিভাবে নিজেদের সমৃদ্ধও করতে পারবে।
মেলায় বায়োস্কোপের স্টলে কথা হয় চল্লিশোর্ধ্ব এক ব্যাংক কর্মকর্তা পিতা তৌহিদুর ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, বায়স্কোপ আমরা ছোটবেলাতে অনেক দেখেছি। কিন্তু এ প্রজন্মের অনেকেই এটার সঙ্গে পরিচিত না। অনেকে তো এটি দেখেওনি, এমনকি জানেও না। মেলাতে সন্তানকে নিয়ে এসেছি। কিছুক্ষণ আগে সে এটি দেখলো এবং এর সঙ্গে পরিচিতও হলো। তাকে এটির সঙ্গে দেখানো ও পরিচিত করা এটিই উদ্দেশ্য সে যেন বাংলা চিরায়ত লোকসংস্কৃতির শেকড়গুলোকে ভুলে না যায়। একই সঙ্গে সে যেন তার পরবর্তী প্রজন্মকে বায়স্কোপের বিষয়ে বলতে পারে।
তিনি আরও বলেন, শুধু চারুকলা কলা না। রাজধানীতে এমন মেলাগুলো বারংবার আয়োজন করা উচিত। আমাদের বাণিজ্য মেলা হয় কিন্তু এমন মেলা আয়োজন করা উচিত যেখানে হারিয়ে যাওয়া কৃষ্টি স্থান পাবে। যাতে করে বর্তমান প্রজন্ম অতীতের সেই রস আস্বাদন করতে পিছিয়ে থাকবে না, একইভাবে নিজেদেরকে তারা গ্রামীণ ইতিহাস ঐতিহ্যে সমৃদ্ধিও করতে পারবে।
উৎসবের দ্বিতীয় দিন শনিবার ২৮ ডিসেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টায় স্মারক বক্তৃতা প্রদান করেন অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সাত্তার। আগামী ২৯ ডিসেম্বর উৎসবের সমাপনী দিনে সকাল ৯টায় শিল্পাচার্যের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। সকাল সাড়ে ১০টায় অধ্যাপক শিল্পী মিজানুর রহিম এবং অধ্যাপক শিল্পী ড. রফিকুল আলমকে ‘জয়নুল সম্মাননা ২০২৪’ পদক প্রদান করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বিকেল সাড়ে ৩টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উৎসব শেষ হবে। এতে অনুষদের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা সংগীত, আবৃত্তি, নৃত্য ও ফ্যাশন শো পরিবেশন করবেন।
উল্লেখ্য, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষ্যে প্রতিবছর চারুকলা অনুষদ এই উৎসবের আয়োজন করে আসছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের হস্তশিল্পী এবং অনুষদের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন শিল্পকর্ম নিয়ে লোকশিল্প মেলা, অনুষদের শিক্ষকবৃন্দের নির্বাচিত শিল্পকর্ম নিয়ে প্রদর্শনী, স্মারক বক্তৃতা, ‘জয়নুল সম্মাননা’ পদক প্রদান, সাংস্কৃতিক পরিবেশনাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান নিয়ে এবারের উৎসব সাজানো হয়েছে।
শাকিল/সাএ
সর্বশেষ খবর
ক্যাম্পাস এর সর্বশেষ খবর