
ভোলার চরফ্যাশনে দুর্নীতি, অনিয়ম ও শিক্ষকদের হেনস্তার দায়ে অভিভাবকদের জনরোষে পড়েছে গোলদার হাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাকসুদুর রহমান। তার বিরুদ্ধে নানা সময় বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাৎ, শিক্ষকদের হেনস্তা ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ করে কোন প্রতিকার না পেয়ে মঙ্গলবার ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিভাবকরা প্রতিবাদ করলে তিনি স্থানীয়দের ধাওয়া খেয়ে বিদ্যালয় থেকে পালিয়ে যান।
জানা যায়, গোলদার হাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাকসুদুর রহমান আওয়ামীলীগের ক্ষমতার বলয়ে থেকে স্কুলের লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। বিগত সরকারের আমলে তিনি শিক্ষকদের জিম্মি করে হেনস্তা ও নানা ভাবে হয়রানি করেছেন। ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যুক্ত থাকার অভিযোগে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় থেকে টিসি দেওয়ার হুমকি দেন শিক্ষক মাকসুদুর রহমান। তার এমন কর্মকাণ্ডে বিব্রত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা তার পদত্যাগ চেয়ে প্রতিবাদ জানালে তার হেনস্তার শিকার হন শিক্ষার্থীরা। ওই সময় প্রধান শিক্ষক একটি অপশক্তির প্রভাবে বীরদর্পে চালিয়েছেন ওই বিদ্যালয়ে নানা অপকর্ম। তার পদত্যাগের দাবী করে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
ওই বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক জামাল উদ্দিন জানান, ‘তিনিসহ অন্যান্য শিক্ষকরা প্রধান শিক্ষক মাকসুদুর রহমানের বিরুদ্ধে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, জেলা প্রশাসন, দুর্নীতি দমন কমিশনে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ জমা দিয়েছেন। এতে ক্ষিপ্ত প্রধান শিক্ষক। গত ৩১ ডিসেম্বর স্কুলের লাইব্রেরিতে প্রধান শিক্ষক অন্যান্য সহকারী শিক্ষকদের হেনস্তা করেন। এমনকি তাকেও আমাকে হুমকি দিয়েছেন স্কুলে না যেতে। তার ভয়ে শিক্ষকরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারেন না।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরও সহকারী শিক্ষক জানান, প্রধান শিক্ষক মাকসুদুর রহমান অন্য একটি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। হঠাৎ একদিন শুনি তিনি আমাদের স্কুলের প্রধান শিক্ষক। প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিতে গোপনে যাদের পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে তারা সবাই তার লোক। এভাবে হঠাৎ করেই তাকে প্রধান শিক্ষক করা হয়। ইচ্ছামতো ম্যানেজিং কমিটি তৈরি করে শিক্ষা বোর্ডকে দিয়ে অনুমোদন নিয়ে বিভিন্ন দুর্নীতি করেছেন মাকসুদুর রহমান। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন অনিয়ম করলেও তার ভয়ে শিক্ষকরা কিছুই বলতে পারেন না।
বিদ্যালয়ের জমিদাতা সদস্য মো. রুহুল আমিন গোলদার জানান, বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের অনিয়মের কারণে ব্যাস্তে যাচ্ছে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থা। এছাড়াও আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতার বলয়ে থেকে তিনি ওই বিদ্যালয় লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করেছেন। ২০২০ সনের তিনি কাউকে না জানিয়ে বিদ্যালয়ের ৭০ হাজার টাকার মূল্যের ১০টি মূল্যবান গাছ কেটে বিক্রি করে দেন।
এছাড়াও তিনি ২০২২ সনে বিদ্যালয়ের একটি টিন সেট পুরাতন ঘর ৪৩ হাজার টাকা বিক্রি করে ওই টাকা তিনি আত্মসাৎ করেছেন। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর,বাংলাদেশ থেকে প্রাপ্ত ৫ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেন। ২০২৩ শিক্ষকদের জন্য বরাদ্দ পাঁচ লাখ টাকার চার লাখ টাকা একাই আত্মসাৎ করেন প্রধান শিক্ষক। টেন্ডার ছাড়াই স্কুলের পুরাতন বিল্ডিং বিক্রি করে ৫০০০০ টাকা আত্মসাৎ করেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাকসুদুর রহমানের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।
উপজেলা অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার মো. খলিলুর রহমান জানান, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশ মতে ওই স্কুলটি পরিদর্শন করেছি। তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ গুলো খতিয়ে দেখে প্রতিবেদন দেয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাসনা শারমিন মিথি জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য উপজেলা অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার মো. খলিলুর রহমানকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
শাকিল/সাএ
সর্বশেষ খবর