• ঢাকা
  • ঢাকা, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল, ২০২৫
  • শেষ আপডেট ৪ মিনিট পূর্বে
আরিফ হোসেন
চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৫ জানুয়ারী, ২০২৫, ১০:০০ দুপুর
bd24live style=

তেতুলিয়ায় থেমে নেই অবৈধভাবে বালু উত্তোলন

ছবি: প্রতিনিধি, বিডি২৪লাইভ

প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ নিলেও দ্বীপ জেলা ভোলা'র তেতুলিয়া নদীতে থেমে নেই অবৈধভাবে বালু উত্তোলন। তেতুলিয়ায় কোনো বালু মহাল না থাকলেও অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করার কারণে বছরের পর বছর ধরে বর্ষা মৌসুমে বেড়েছে নদী ভাঙন। 

বিলীন হয়ে যাচ্ছে ঘর-বাড়ি ও ফসলি জমি এবং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নদীর জীব-বৈচিত্র্য। নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য। আগে দিনে রাতে সমান তালে বালু উত্তোলন করা হলেও কোস্টগার্ডের নিয়মিত অভিযান ও উপজেলা প্রশাসন কৃতক জেল-জরিমানা, বলগেট-ড্রেজার জব্দ করার কারণে দিনের বেলা বন্ধ থাকলেও এখন শুধু গভীর রাতে চলছে অসাধু বালু ব্যবসায়ীদের বালু উত্তোলন কার্যক্রম। 

শনিবার ৪ জানুয়ারি দিনব্যাপী জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার তেতুলিয়া নদীর হাসের চর, চরলতিফ, লালমোহন উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের গজারিয়া খালগোড়া চরসহ কয়েকটি ছোটো বড় চর এলাকার বাসিন্দা ও নদীতে নিয়মিত মাছধরা জেলেদের সাথে কথা বললে তারা জানায় প্রতিরাতে ১০–১২টি ড্রেজার দিয়ে লাখ লাখ ঘন ফুট অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। 

মান্নান সিপাই হাসের চরের বাসিন্দা তিনি জানান, বোরহানউদ্দিন উপজেলার গঙ্গাপুর ইউনিয়ন সংলগ্ন তেতুলিয়া নদির হাসের চর,চর লতিফ সহ কয়েকটি চরের কাফ (চরের তীরবর্তী অঞ্চল) থেকে দীর্ঘদিন যাবত অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে প্রভাবশালীরা। কোস্টগার্ডের এসে আটক করে। আবার অনেক সময় কোস্টগার্ডে এবং এসিল্যান্ড স্যার আসার খবর পেয়ে তারা আগেই পেয়ে পালিয়ে যায়। তিনি আরো বলেন, এখন দিনের বেলা বালু কাটে (উত্তোলন) না, রাতে বালু কাটে।

তেতুলিয়া নদীতে নিয়মিত মাছ শিকার করেন মো. রাসেল নামে এক জেলে জানান, রাতে যখন মাছ ধরতে নদীতে যাই প্রায় রাতেই রাত ২ টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত ৪-৬ টি ড্রেজার এক যোগে বালু উত্তোলন করে বিকট শব্দের নদীতে থাকা দায়, ঝালে ঠিকমতো মাছও পাইনা।

লালমোহন উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের গজারিয়া খালগোড়া চর এলাকার বাসিন্দা ও চরে তরমুজ চাষি মো.হান্নান জানান, তেঁতুলিয়া নদীর চর ব্যারেট, খালগোড়া চরসহ বদরপুর ইউনিয়ন সংলগ্ন কয়েকটি চরে আগে দিনের বেলা ড্রেজার মেশিন দিয়ে নিয়মিত বালু উত্তোলন করত বালু ব্যবসায়ীরা কয়েক দিন আগে লালমোহননের ইউএনও স্যার দুইজনরে চার লাখটাকা জরিমানা করছে। কোস্টগার্ড কেও নদীতে টহল দিতে দেখেছি,অহন আর আগের মত দিনে বালু উঠায় না, রাতে ৫-৬ টা ড্রেজার দিয়ে বালু উঠাইতে দেখছি। তবে একেক দিন একেক রকম কোনো দিন ২ টা আমার কোন দিন ৩ টা বালু উঠায়। অবৈধ ভাবে বালু উঠানোয় আমাগো নানা রকম অসুবিধা হয়।

এদিকে আরো একটি সূত্রে জানা যায়, তেঁতুলিয়া নদীর তীরবর্তী চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন, নাজিরপুর ইউনিয়নের ধানদী, নিমদী, কচুয়া ও ধুলিয়া ইউনিয়ন দীর্ঘদিন ধরে নদী ভাঙনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে,যার ফলে এসব এলাকায় বালু মহল ইজারা বন্ধ রয়েছে। শুধু মাত্র বাউফল-দশমিনা সীমানায় বুড়াগৌরঙ্গ নদীর ডুবা চরে ৪ একর এলাকায় জুড়ে বালুমহল ইজারা দেয়া হয়েছে। এর বাহিরে তেঁতুলিয়া নদীর কোনো পয়েন্টে বালুমহল নেই। তবে তেতুলিয়া নদীর ভোলা জেলার অংশে বালু মহল না থাকলেও আইনকানুনের তোয়াক্কা না করে পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলা এবং দশমিনা এলাকা থেকেও বেশ কয়েকটি ড্রেজার মেশিন লালমোহন ও বোরহানউদ্দিন উপজেলার তেতুলিয়া নদীর সীমানায় এসে বাণিজ্যিক কাজে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করছে প্রভাবশালীরা। 

জেলার সিনিয়র সাংবাদিক ও ভোলা প্রেস ক্লাব সভাপতি অ্যাডভোকেট নজরুল হক অনু বলেন, তেতুলিয়া নদীতে কোনো বালু মহাল নেই, সেখানে দীর্ঘদিন যাবত অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে একটি প্রভাবশালী মহল। কোনোভাবেই থামছে না তারা। আইনে আছে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন দণ্ডনীয় অপরাধ।জেল-জরিমানা উভয়ের বিধান থাকলেও অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করার কারণে বছরের পর বছর ধরে ভাঙছে তেঁতুলিয়া নদীর দুইপাড়, বিলীন হয়ে যাচ্ছে ঘর-বাড়ি ও ফসলি জমি এবং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নদীর জীব-বৈচিত্র্য। নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য। 

তিনি আরো বলেন, কোস্টগার্ড ও উপজেলা প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার মধ্যেও দিনের বেলা না করে মধ্য রাতে তেতুলিয়া নদীতে তারা লাখ লাখ ঘন ফুট বালু অবৈধভাবে উত্তোলন করছে,নৌ পুলিশ,কোস্টগার্ড স্থানীয় প্রশাসনকে আরো কঠোর হওয়ার অনুরোধ জানান তিনি। বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোন অধীনস্থ বিসিজি ভোলা'র দায়িত্বশীল সূত্র এ প্রতিবেদককে জানায় তেতুলিয়া নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে গত ১ মাসে কোস্টগার্ড সফল ২টি অভিযান পরিচালনা করেছে এ বিষয় কঠোর অবস্থানে রয়েছে কোস্টগার্ডে। 

ভোলা'র জেলা প্রশাসক মো.আজাদ জাহান জানান, তেতুলিয়া নদীতে কোনো বালু মহাল নেই, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন কারীদেরকে কোনো ছাড় দেয়া হবে না। তাদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থান রয়েছে। ইতিমধ্যে আমাদের লালমোহনও বোরহানউদ্দিন উপজেলায় বেশ কয়েকটি সফল অভিযান পরিচালনা করে জেল-জরিমানা এবং বলগেট জব্দ করা হয়েছে। শীঘ্রই অবৈধ বালু উত্তোলন কারীদের বিরুদ্ধে আরো কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মুনতাসির/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ info@bd24live.com
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬৭৮৬৭৭১৯১
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬৭৮৬৭৭১৯০
ইমেইলঃ office.bd24live@gmail.com