
নারী শিক্ষার্থীদের শতভাগ আবাসিকীকরণ নিশ্চিতের দাবিতে আগামীকাল সোমবার থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ও প্রতীকী অনশনে বসবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
রোববার (৫ জানুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি সমিতিতে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) বিভাগের শিক্ষার্থী ইসরাত ইমু।
সংবাদ সম্মেলনে ওই শিক্ষার্থী বলেন, বেশ কিছুদিন আগে শতভাগ আবাসিকীকরণের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এছাড়াও ওইদিন উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য মহোদয়ের সাথে আমাদের এই বিষযে আলোচনা হয়। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হল, স্মারকলিপিতে উল্লেখিত অধিকাংশ দাবি পূরণ করতেই প্রশাসন এক প্রকার অপারগতা প্রকাশ করে। পরবর্তীতে সোমবার মাননীয় কোষাধ্যক্ষ মহোদয়ের সাথে শিক্ষার্থীরা পুনরায় সাক্ষাৎ করে এবং এই বিষয়ে আলোচনা করে। এ সময় তিনি মেযেদের হলে সিট স্বল্পতা ও গৃহীত মাস্টার প্ল্যান নিযে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি আমাদেরকে আশ্বস্ত করেন মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় আগামী তিন বছরের মাঝে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন হল স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কিন্তু নতুন হল স্থাপনের আগ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের সিট সংকট সমাধানের কোন অস্থায়ী ব্যবস্থা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া সম্ভব নয় বলে জানান।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয় তারা সাত দফা দাবি উত্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে। তারপরেও তাদের দাবি প্রেক্ষিতে ইতিবাচক সাড়া দেওয়া হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়।
আগামীকাল সোমবার উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ও প্রতীকী অনশনে বসার কর্মক্ষেত্রে ঘোষনা করে ইসরাত ইমু বলেন, অস্থায়ী আবাসন ও পরবর্তীতে মূল ক্যাম্পাসের ভিতরে নারীদের স্থায়ী আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত হওয়ার আগ পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচি চলমান থাকবে। হলে বৈধ সিট প্রতিটি শিক্ষার্থীর ন্যায্য দাবি। ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলা থেকে উচ্চশিক্ষার জন্য আগত প্রথম বর্ষের নারী শিক্ষার্থীরা আবাসনের জন্য যারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং ক্যাম্পাসের বাইরে অনিরাপদ পরিবেশে বিভিন্নভাবে হেনস্তার শিকার হচ্ছে। এই বাস্তবতা উপেক্ষা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া রীতিমত প্রহসনের শামিল। কাজেই নারী শিক্ষার্থীদের অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা ও অন্যান্য দাবি আদায় করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নারীবান্ধব করে তোলার আগ পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দেয়া স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা দাবিগুলো হলো-
১. প্রথম বর্ষেই শতভাগ শিক্ষার্থীর জন্য আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
২. অবিলম্বে গণরুম বিলুপ্ত করা। অমানবিক ও অস্বাস্থ্যকর গণরুমপ্রথা তুলে নিয়ে পর্যাপ্ত আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
৩. নতুন ছাত্রী হল চালু না হওয়া পর্যন্ত ছাত্রীদের অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করা। প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকানাধীন ভবনে বা ক্যাম্পাসের পাশ্ববর্তী এলাকায় বিল্ডিং ভাড়া নিয়ে ছাত্রীদের অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। এ বিষয়ে দ্রুত প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তি প্রদান ও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার ঘোষণা দিতে হবে।
৪. ছাত্রীদের নতুন হল বাধ্যতামূলকভাবে মূল ক্যাম্পাসের ভেতরেই নির্মাণ করা এবং দ্রুত নির্মাণ কাজ দৃশ্যমান করতে হবে।
৫. অনতিবিলম্বে অনাবাসিক ছাত্রীদের হলে প্রবেশের সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনাবাসিক ছাত্রীদের হল কার্ড জমাদানপূর্বক নিদিষ্ট সময় পর্যন্ত যেকোনো হলে প্রবেশ এবং ডাইনিংসহ অন্যান্য সুবিধা গ্রহণের অনুমতি দিতে হবে।
৬. ক্রমান্বয়ে প্রতিটি হলে ডাবলিং ব্যবস্থা তুলে দিয়ে শিক্ষার্থীদের আবাসনের সুব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
৭. নতুন ভবনে স্থানান্তরের মাধ্যমে মৈত্রী এবং বঙ্গমাতা হলকে ধারাবাহিকভাবে মূল ক্যাম্পাসে স্থানান্তর করতে হবে।
এতে অন্যান্যদের মধ্যে ওই সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন বিভাগের নারী শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
শাকিল/সাএ
সর্বশেষ খবর
ক্যাম্পাস এর সর্বশেষ খবর