
নারী শিক্ষার্থীদের শতভাগ আবাসিকীকরণ নিশ্চিতকরণের দাবিতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে প্রতীকী অনশনে বসেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) একদল নারী শিক্ষার্থী। সোমবার (৬ জানুয়ারি) বেলা ১১টা থেকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে এ কর্মসূচি শুরু করেন তারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপাচার্যের বাসভবনের গেটের পাশের ফুটপাতে অবস্থান নিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫ জন নারী শিক্ষার্থী। এর মধ্যেও কোনও সুরাহা না হলে আজ মঙ্গলবার থেকেও একইভাবে অব্যাহত অনশন কর্মসূচি পালন করবেন বলে জানান তারা।
প্রতীকী অনশন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান ইমু বলেন, ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলা থেকে উচ্চশিক্ষার জন্য আগত প্রথম বর্ষের নারী শিক্ষার্থীরা আবাসনের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং ক্যাম্পাসের বাইরে অনিরাপদ পরিবেশে বিভিন্নভাবে হেনস্তার শিকার হচ্ছে। এই বাস্তবতা উপেক্ষা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া রীতিমতো প্রহসনের সামিল। কাজেই নারী শিক্ষার্থীদের অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা ও অন্যান্য দাবি আদায় করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নারীবান্ধব করে তোলার আগ পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে ছাত্রীদের আবাসন সংকট নিরসনে ঢাবি প্রশাসনের বিভিন্ন জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ছাত্রীদের আবাসন সংকট নিরসনের লক্ষ্যে ২ হাজার ৮শ’ ৪১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ‘চারটি ছাত্রী হলের বর্ধিত ভবন নির্মাণ প্রকল্প’ অনুমোদনের জন্য সরকারের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদিত হলে প্রায় ৩ হাজার ছাত্রীর আবাসনের ব্যবস্থা হবে। এই প্রকল্পে শাহনেওয়াজ হোস্টেল ভেঙ্গে ১৫-তলা বিশিষ্ট একটি ছাত্রী হল নির্মাণ, ১০-তলা ও ৬-তলা বিশিষ্ট শামসুন নাহার হলের দু’টি সম্প্রসারণ ভবন নির্মাণ, লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের বিদ্যমান স্টাফ কোয়ার্টার বি এবং ডি ভবন ভেঙ্গে ১১-তলা ও ৮-তলা বিশিষ্ট দু’টি ভবনের সমন্বয়ে একটি ছাত্রী হল নির্মাণ এবং ১০-তলা বিশিষ্ট কুয়েত মৈত্রী হলের সম্প্রসারণ ভবন নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, চীন সরকারের আর্থিক সহযোগিতায় ২৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রস্তাবিত ‘বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী হল নির্মাণ প্রকল্পটি’ বর্তমানে মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত মি. ইয়াও ওয়েন গতকাল সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অনুষ্ঠানে ছাত্রী হল নির্মাণে সহযোগিতার ব্যাপারে তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
এছাড়া, বিশ্ব ব্যাংকের HEAT প্রজেক্টের ( Higher Education Acceleration and Transformation Project) আওতায় ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আবাসন বৃত্তি চালুর বিষয়টিও বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আগামী শিক্ষাবর্ষে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে যে-সব ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি হবে, তারা এই বৃত্তির আওতায় আসবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর
ক্যাম্পাস এর সর্বশেষ খবর