
জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের ক্ষেত্রে বিদেশে বসবাসরত প্রবাসী নাগরিকদের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের ক্ষেত্রে পৃথক গাইডলাইন চায় নির্বাচন কমিশনের(ইসি) মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচন কমিশনের (ইসির) সঙ্গে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় কর্মকর্তারা এমন দাবি তুলেন।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে সাতটি দেশের প্রবাসীদের সংশ্লিষ্ট দেশেই এনআইডি সেবা দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশি নাগরিকদের আধিক্য রয়েছে এমন মোট ৪০টি দেশে কার্যক্রমটির বিস্তার করার পরিকল্পনা করছে।তবে প্রবাসীদের এনআইডি নিবন্ধনের চেয়ে সংশোধন করা প্রয়োজন পরে বেশি।এক্ষেত্রে কোনো গাইডলাইন না থাকায় প্রবাসে এনআইডি সেবা কার্যক্রমের পুরো সুবিধা পাচ্ছেন না নাগরিকরা।
মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা প্রবাসীদের জাতীয় পরিচয়পত্র(এনআইডি)সংশোধনে পৃথক গাইডলাইন চেয়েছে আপনারা কি প্রবাসীদের এনআইডি সংশোধনে পৃথক কোনো গাইডলাইন তৈরির কথা ভাবছেন কি-না?এমন প্রশ্নের জবাবে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক কে এম আলী নেওয়াজ বলেন,আমরা কাছে এমন কোনো বিষয়ে এখনো আসেনি।আসলে অবশ্যই আমরা পর্যালোচনা করবো।কারণ প্রবাসীদের ব্যাপারটা একটা আলাদা বিষয়।এজন্য আমার মনে হয় এটা বিবেচনা করার দাবি রাখে।কি হবে সেটা নির্ভর করবে যে ওনাদের চাহিদাটা কি রকম এবং সমস্যাগুলো কোথায় সেগুলো অ্যাড্রেস করতে হবে।অ্যাড্রেস করে কমিশনের সিদ্ধান্তসহ সব কিছু মিলিয়ে এটা করা হবে।তবে আমি এখনি চূড়ান্ত কিছু বলবো না।তবে আমি মনে করি এটা বিবেচনা করা উচিত।
জানা গেছে, বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য, ইতালি, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ও মালয়েশিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার হিসেবে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইতালি, কুয়েত, কাতার, যুক্তরাজ্য ও মালয়েশিয়ায় স্মার্টকার্ড বিতরণ উদ্বোধনও হয়েছে। পরবর্তীতে ওমান, বাহরাইন, জর্দান, সিংগাপুর, লেবানন, লিবিয়া, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, মালদ্বীপে এনআইডি কার্যক্রম হাতে নেওয়ার কথা রয়েছে। এরপর অন্যান্য দেশেও হাতে নেওয়া হবে এই কার্যক্রম।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা পেয়ে কেএম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশন ২০১৯ সালে প্রবাসে এনআইডি সরবরাহের উদ্যোগটি হাতে নেয়। এরপর ২০২০ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাজ্য প্রবাসীদের অনলাইনের ভোটার করে নেওয়ার কার্যক্রম উদ্বোধন করে ইসি। এর আগে ২০১৯ সালের ১৮ নভেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রবাসীদের মাঝে এ কার্যক্রম শুরু করা হয়। তার আগে একই বছর ৫ নভেম্বর মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশিদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি এবং স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার অংশ হিসেবে অনলাইনে আবেদন নেওয়ার কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। এরপর সৌদি আবর, সিঙ্গাপুর ও মালদ্বীপে থাকা বাংলাদেশিদের জন্যও এ সুযোগ চালু করা হয়।
সে সময় অনলাইনে আবেদন নিয়ে সেই আবেদন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির উপজেলা থেকে যাচাই করে সত্যতা পেলে সংশ্লিষ্ট দেশে দূতাবাস থেকে এনআইডি সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল। এরপর করোনা মহামারির কারণে থমকে যায় দূতাবাসের মাধ্যমে এ কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা।
পরবর্তীতে কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই কার্যক্রমকে ফের উজ্জীবিত করেন। এক্ষেত্রে আগের আবেদনগুলো পাশ কাটিয়ে নতুন করে কার্যক্রম শুরু করেন তারা। বর্তমানে সেভাবেই কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
শাকিল/সাএ
সর্বশেষ খবর