
আগামী ২০ জানুয়ারি থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।এক্ষেত্রে সামাজিক কুসংস্কার ও ধর্মীয় অজুহাতে ছবি তুলতে অনীহাসহ নারী ভোটার কম হওয়ার আটটি উল্লেখযোগ্য কারণ চিহ্নিত করেছে ভোট আয়োজনকারী সাংবিধানিক এ সংস্থাটি।
ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো.নাডির উদ্দিন চৌধুরী স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত পরিপত্র থেকে এসব তথ্য জানা যায়।
ইসি কর্মকর্তা জানান,আমাদের দেশে পুরুষের তুলনায় নারী ভোটার কম। এর মূল কারণগুলো হলো সচেতনতার অভাব,ধর্মীয় গোড়ামী,কুসংস্কার, জন্ম নিবন্ধন সংগ্রহ করতে না পারা ইত্যাদি। তবে আমার চেষ্টা করছি নারীদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির।এতে করে আমাদের মনে হয় বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এবার নারী ভোটার বেশি হবে।
জানা যায়, গত ২ জানুয়ারি চলতি বছরের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করে ইসি। এতে নতুন করে যুক্ত হয়েছে ১৮ লাখ ৩৩ হাজার ৩৫২ জন ভোটার। সবশেষ গতবছর ২ মার্চ প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ভোটার ছিলেন ১২ কোটি ১৮ লাখের বেশি। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি যারা ভোটার হওয়ার যোগ্য হয়েছেন, এ বছরের হালনাগাদে তারা তালিকায় যুক্ত হলেন।নতুন ভোটারদের নিয়ে দেশে ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৩৬ লাখ ৮৩ হাজার ৫১২ জন।এরমধ্যে পুরুষ ভোটারের ৬ কোটি ৩৩ লাখ ৩০ হাজার ১০৩ জন এবং নারী ভোটার ৬ কোটি ৩ লাখ ৫২ হাজার ৪১৫ জন।অর্থাৎ পুরুষের তুলনায় নারী ভোটার কম প্রায় ৩০ লাখ।
জানা যায়,"মুখচ্ছবি নয়, ফিঙ্গার প্রিন্টের ভিত্তিতে পর্দানশীন নারীদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দেয়ার দাবিতে”আগামী ১৫ জানুয়ারি মহিলা আনজুমান, রাজারবাগ দরবার শরীফের আয়োজনে নির্বাচন কমিশন ভবনের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হবে।
পরিপত্র বলা হয়েছে,অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের অন্যতম শর্ত হল যোগ্য নাগরিকগণকে শনাক্তকরণের মাধ্যমে নিবন্ধনপূর্বক যথাযথভাবে ভোটার তালিকা অন্তর্ভুক্ত প্রণয়ন করা। এলক্ষ্যে, ভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসূচি, ২০২৫-এ ভোটারযোগ্য ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহ ও সুপারভাইজার কর্তৃক যাচাই কার্যক্রম ২০ জানুয়ারি ২০২৫ হতে ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখ পর্যন্ত ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সম্পন্ন করা হবে। উল্লেখ, ২০০৮ সালের ০১ জানুয়ারি অথবা তার পূর্বে যাদের জন্ম তাদের এবং বিগত ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে যারা বাদ পড়েছেন তাদেরকে ভোটার তালিকাভুক্তি, মৃত ভোটারদেরকে ভোটার তালিকা হতে কর্তনের জন্য তথ্যাদি সংগ্রহ ও আবাসস্থল পরিবর্তনের কারণে ভোটার এলাকা স্থানান্তরের বিষয়েও কার্যক্রম গৃহিত হবে। ভোটার তালিকা হালনাগাদ সংক্রান্ত কার্যক্রম সুষ্ঠু, সুন্দর, নির্ভুল ও সুচারুরূপে সম্পাদনের লক্ষ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে সমন্বয় কমিটি ইতোমধ্যে গঠন করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়,বিগত ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে মহিলা ভোটার কম হওয়ার বিষয়ে যেসব কারণ লক্ষ্য করা গেছে তার মধ্যে (১) নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে জন্ম নিবন্ধন সনদ সংগ্রহে অনীহা; (২) হিন্দু অবিবাহিত মেয়েদের পিত্রালয়ে নিবন্ধন করতে অনীহা; (৩) অবিবাহিত, অনগ্রসর ও নিরক্ষর মেয়েদের ভোটার হওয়ার ক্ষেত্রে আগ্রহ কম; (৪) বাবা-মা'র জাতীয় পরিচয়পত্র দাখিল করতে ব্যর্থ হওয়া; (৫) রেজিস্ট্রেশন কেন্দ্র দূরবর্তী হওয়া; (৬) আবহাওয়া অনুকুল না থাকা; (৭) সামাজিক কুসংস্কার ও ধর্মীয় অজুহাতে ছবি তুলতে অনীহা; (৮) প্রত্যন্ত অঞ্চলের মহিলাদের অসচেতনতা অন্যতম। ভোটার তালিকায় মহিলাদের অন্তর্ভুক্তির হার যেন উল্লেখযোগ্যভাবে কম না হয় সেলক্ষ্যে হালনাগাদ কার্যক্রমের সময় সংশ্লিষ্ট এলাকার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (বিশেষ করে সংরক্ষিত আসনের সদস্যগণকে), দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও গ্রাম পুলিশ/চৌকিদার-দফাদারকে সম্পৃক্ত করতে পারেন।ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে মহিলাদের নিবন্ধনের বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের জনপ্রতিনিধি/দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, বিশেষ করে মহিলা জনপ্রতিনিধি/দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণের (ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত আসনের সদস্যসহ সাধারণ আসনের বিপরীতে নির্বাচিত মহিলা জনপ্রতিনিধির) সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন। ইতোমধ্যে বিভাগীয়, জেলা, উপজেলা/থানা, সিটিকর্পোরেশন পর্যায়ে সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। জনগুরুত্বপূর্ণ একাজে মহিলাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিতকল্পে সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্যগণের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন। বিশেষ করে তারা প্রচারের কাজে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।
বাঁধন/সিইচা/সাএ
সর্বশেষ খবর
জাতীয় এর সর্বশেষ খবর