
দিনভর নানা আয়েজনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ঘুড়ি উৎসব ১৪৩১।’ এমন আয়োজনে ঢাবি ক্যাম্পাস পরিণত হয়েছিল যেন এক খণ্ডে পুরান ঢাকায়। ঘুড়ি ওড়ানো ছাড়া নাগরদোলা, ঘোড়া, শীতকালীন পিঠাপুলিসহ নানা বাঙালি চিরায়ত আয়োজনে ঠাসা ছিল উৎসব।
মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে উৎসব উপলক্ষ্যে নানা আয়োজন শুরু হয়। ডুসাড (ঢাকা ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব ঢাকা) এর আয়োজনে এনসিসি ব্যাংকের সৌজন্যে ওই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া আয়োজনের সার্বিক সহযোগিতায় ছিল ইনোভ ঢাকা ও ঢাকা ফোরাম।
উৎসবে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ; বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য ইশরাক হোসেন এবং এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।
ঘুড়ি উৎসব নিয়ে এমন আয়োজনের প্রশংসা করে প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমদ বলেন, যুগের পরিক্রমায় এইসব উৎসব আমরা হারিয়ে ফেলছি। সেরকম সময়ে শিক্ষার্থীদের এই ধরনের উদ্যোগ আমাদের আশাবাদী করে।
বিএনপির পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য ইশরাক হোসেন ঢাকার পুরোনো সংস্কৃতি পুনরুদ্ধারের এরূপ প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানিয়ে মন্তব্য যোগ করেন, 'বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষায় তরুণ প্রজন্মের এরূপ প্রচেষ্টা ফলপ্রসূ হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। এই দেশের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি পুনরুত্থানে শিক্ষার্থীদের এইসব উদ্যোগে আমরা পাশে আছি।
ঘুড়ি উৎসব আয়োজন সম্পর্কে সংগঠনটির সভাপতি রাহাতউল্লাহ তৌসিফ জানিয়েছেন, ডুসাডের পক্ষ থেকে দ্বিতীয়বার আমাদের এই আয়োজন। ঢাকার যান্ত্রিক জীবনে এই উৎসব প্রতিটি মানুষকে উৎফুল্ল করে তুলবে বলে আমরা আশাবাদী। ঢাকা শহরে যন্ত্র ও কালো ধোয়ার পরিবর্তে আভিজাত্য, রং এবং প্রাণের ছোয়াকে পুনরুজ্জীবিত করতে ডুসাড সর্বদা সচেষ্ট।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. আলিফুল ইসলাম নিষাদ সাকরাইন সম্পর্কে যুক্ত করেন, প্রতি বছর ঘুড়ি কাটাকাটি, রংবেরঙের ফানুস আর জমকালো আতশবাজি ফুটানোর মাধ্যমে জমে ওঠে সাকরাইনের আমেজ। ঘুড়ি উৎসবের আমেজের পাশাপাশি গ্রামীণ পৌষ মেলার আনন্দ শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রসার ঘটানোর উদ্দেশ্যে আমাদের এই আয়োজন। আমাদের বিশ্বাস এ ধরনের আয়োজনের মধ্য দিয়ে ঢাকা বাসী তাঁদের ঐতিহ্যকে রোমন্থন করতে পারে।
ডুসাডের শিক্ষা উপদেষ্টা, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল ইসলাম বলেন দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য রক্ষায় শিক্ষার্থীদের এই আয়োজন প্রশংসনীয়। ঢাকার তরুণদের এই আয়োজনের সাথে যুক্ত থাকতে পেরে আমি আনন্দিত।
উল্লেখ্য, ডুসাড ঢাকা শহরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সংগঠনটি প্রাক্তন ছাত্র ও বর্তমান ছাত্রদের মধ্যে সেতুবন্ধন স্থাপন করে একটি সমবায় পরিবার গড়ে তোলার পাশাপাশি সাকরাইন, ঢাকা সপ্তাহ, গ্রন্থাগার দিবসসহ বিভিন্ন শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক উৎসব উদ্যাপনের মাধ্যমে শহরের সাংস্কৃতিক মূল্যবোধকে সমৃদ্ধ করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়াও, সংগঠনটি বিভিন্ন সময়ে ঢাকা শহরের চ্যালেঞ্জ ও পরিবেশগত সমস্যা সমাধানে সেমিনার ও কর্মশালার আয়োজন করে আসছে।
শাকিল/সাএ
সর্বশেষ খবর
ক্যাম্পাস এর সর্বশেষ খবর