
কুমিল্লার সদর দক্ষিণে সম্পত্তির জন্য ফিরোজ আহাম্মাদ কালু মিয়া (৬০)কে ঘুমের ঔষধ খাইয়ে হত্যা করেছে স্ত্রী ও তার পুত্রবধূ। (১৪ জানুয়ারি) মঙ্গলবার রাতে সদর দক্ষিণ উপজেলার গলিয়ারা উত্তর ইউনিয়নের সাহাপুর (সোনাইছড়ি দক্ষিণ পাড়া) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ফিরোজ আহাম্মদ কালু ওই এলাকার মৃত সরাফত আলীর পুত্র।
এ ঘটনায় বুধবার নিহতের ভাই মফিজ মিয়া সদর দক্ষিণ মডেল থানায় ৩ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামীরা হলো- সদর দক্ষিণ উপজেলার গলিয়ারা উত্তর ইউনিয়নের সাহাপুর এলাকার নিহত ফিরোজ আহাম্মাদ কালু মিয়ার পুত্র মো: রাসেল মিয়া (৩৩), স্ত্রী রৌশন আরা বেগম (৪৫), পুত্রবধূ ইভা (২৬)। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর দক্ষিণ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: রফিকুল ইসলাম।
জানা যায়- ফিরোজ আহাম্মদ কালু মিয়া পারিবারিক জীবনে দুইটি বিবাহ করেন। দ্বিতীয় স্ত্রী জোহরা বেগম (৩৯) এর সাথে বসবাস করতেন। প্রথম স্ত্রী রৌশন আরা বেগম সাথে দীর্ঘদিন ধরে মনোমালিন্য চলে আসছিল। মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) রাতে প্রথম স্ত্রী, তার পুত্র ও পুত্রবধূর সাথে ঝগড়াঝাঁটি লাগে। এক পর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাতেই তার মৃত্যু হয়। পরে তার লাশ বাড়িয়ে নিয়ে আসে।
এ বিষয়ে নিহতের ছোট স্ত্রী জোহরা বেগম জানান- আমার স্বামীর সম্পত্তির জন্য দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন চালিয়ে আসছিল প্রথম স্ত্রী রৌশন আরা বেগমসহ তার পুত্র ও পুত্রবধূ। মঙ্গলবার রাতে ঝগড়ার এক পর্যায়ে তাকে নির্যাতন ও ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ও ইনজেকশন পুশ করে হত্যা করে। পরে বিষয়টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য হাসপাতালে নেয়ার চেষ্টা করলে পথিমধ্যে তার মৃত্যু হয়। তিনি আরও বলেন আমি আমার স্বামীর ময়নাতদন্তের দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে বাদী নিহতের ভাই মফিজ মিয়া জানান- সম্পত্তির জন্য আমার ভাই ফিরোজ আহাম্মাদ কালু মিয়া ঘুমের ওষুধ ও ইনজেকশন পুশ করে হত্যা করেছে। আমি হত্যাকারীদের বিচার ও নিহতের ময়নাতদন্ত করার দাবি জানাচ্ছি।
সদর দক্ষিণ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: রফিকুল ইসলাম জানান- একটি অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
শাকিল/সাএ
সর্বশেষ খবর