
চরফ্যাশন পাবলিক লাইব্রেরী প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর প্রায় ৪৭ বছর পার হয়েছে। এখন পর্যন্ত উন্নয়নের ছোয়া লাগেনি লাইব্রেরীটিতে। লাইব্রেরীতে যে জৌলুস থাকার কথা তার ছিটেফোঁটাও নেই। হামাগুড়ি দিয়ে চলছে লাইব্রেরীর কার্যক্রম।
অবকাঠামোগত নাজুক অবস্থাসহ লাইব্রেরীতে নেই পর্যাপ্ত বই। ফলে পাঠক শূন্যের কোটায় চলে এসেছে। ১৯৭৭ সালে চরফ্যাশনের কয়েক জন বিদ্যোৎসাহী, শিক্ষাবিদ ও শিক্ষাণুরাগীদের সার্বিক সহযোগিতা ও প্রচেষ্ঠায় প্রতিষ্ঠিত হয় চরফ্যাশন পাবলিক লাইব্রেরী। কিন্তু এর পর দীর্ঘ ৪৭ বছর কেটে গেলেও কেউ এর উন্নয়নের জন্য কোন নজর দেয়নি।
ভোলা জেলার মধ্যে ২১টি ইউনিয়ন ১টি পৌরসভা ও ৪টি থানা নিয়ে গঠিত চরফ্যাশন উপজেলা। এই উপজেলায় প্রায় ৬ লক্ষাধিক লোকের বসবাস। ১০টি কলেজ, তিনটি কামিল মাদরাসাসহ ছয়টি ফাজিল মাদরাসা, ৮১টি মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ৭১টি দাখিল ও আলিম মাদরাসা রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে সরকারি হাসপাতালসহ বেশ কিছু প্রাইভেট হাসপাতাল, ব্যাংক, বীমা, অফিস, আদালত, সরকারিসহ অসংখ্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু দুঃখজনক হচ্ছে এখানে নেই আধুনিকমানের সুযোগ সুবিধা সম্মিলিত সরকারি পাবলিক লাইব্রেরী।
লাইব্রেরীয়ান ফরহাদ হোসেন বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে অনেক চেষ্টা করেছি, অনেকের কাছে গিয়েছি কিন্তু কোন সহযোগিতা পাইনি। যতদিন বাঁচি এখানে দায়িত্ব পালন করে যাব। নিজের জীবদ্দশায় লাইব্রেরীটির উন্নতি দেখে যেতে পারলে ভাল লাগত। আশা করি আগামী দিনে লাইব্রেরী উন্নতি হবে।
চরফ্যাশন পাবলিক লাইব্রেরীর পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন বলেন, আমি বিভিন্নজনের কাছে গিয়েছি পাবলিক লাইব্রেরীর উন্নয়নের জন্য। কিন্তু কেউ কোন সাড়া দেয়নি, ফলে খুড়িয়ে চলছে লাইব্রেরীর কার্যক্রম। পর্যাপ্ত বিভাগ ওয়ারী বই নেই। সাহিত্য, উপন্যাস, নাটক, রম্যরচনা, গল্প, ভ্রমণকাহিনী, সায়েন্স ফিকশন, শিশুতোস বইসহ রেফারেন্স গ্রন্থ ও ধর্মীয় গ্রন্থের সংখ্যা খুবই অপ্রতুল। আর্থিক দুরাবস্থার কারণে নিয়মিত দৈনিক পত্রিকা রাখা হয় না। মাত্র একটি পত্রিকা রাখা হয়। ফলে পাঠক রেফারেন্সের জন্য দু'চারদিন আগের কোন পত্রিকা খোঁজ করলে দেয়া যায়না। কিছু বই আছে অনেক পুরনো, যা জোরাতালি দিয়ে রাখা। এসব বই নেড়েচেড়ে পড়া সম্ভব নয়।
প্রভাষক ও গবেষক সিরাজ মাহমুদ বলেন, জনগণের বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত গ্রন্থাগার হলো সমাজ উন্নয়নের বাহন। শিক্ষা উন্নয়নের মূল ভিত্তি। শিক্ষার আলোয়ে আলোকিত মানুষ উন্নয়ন মনস্ক হয়। এজন্য যে কোন উপজেলায় ঐ অঞ্চলের মানুষের জন্য পর্যাপ্ত বইসহ আধুনিক সুযোগ সুবিধা সংবলিত একটি সরকারি গ্রন্থাগার থাকা একান্ত প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের চরফ্যাশন উপজেলায় এরকম কোন গ্রন্থাগার নেই। আশা করছি সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল এ ব্যাপারে নজর দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে।
চরফ্যাশন পাবলিক লাইব্রেরীর পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা রাসনা শারমিন মিথি জানান, উপজেলা প্রশাসন পাবলিক লাইব্রেরীর বইসহ যাবতীয় বিষয়ে সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছে। আশা করছি অচিরেই সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।
মুনতাসির/সাএ
সর্বশেষ খবর