
কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে আলোচিত গণধর্ষণের ঘটনায় খোকন (৪২) কে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১ এর সিপিসি-২ এর দল।
বুধবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে দেবিদ্বার উপজেলার ধামতী এলাকা থেকে আটক করেছে। আটককৃত খোকন নাঙ্গলকোট উপজেলার করের ভোমরা গ্রামের আলী মিয়ার পুত্র। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-১১ এর সিপিসি-২ কোম্পানি অধিনায়ক লে. কমান্ডার মাহমুদুল হাসান।
র্যাব জানায়, গত ৯ জানুয়ারি কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোট থানাধীন নুরপুর সাকিনস্থ সেবাখোলা বাজারের জনৈক খোকন স’মিলের টিনের ঘরের ভিতর দুই নারীকে গণধর্ষণ এর ঘটনা ঘটে। উক্ত ঘটনায় লাকি বেগম (৪০) বাদী হয়ে নাঙ্গলকোট থানায় ৭ জনের নাম উল্লেখপূর্বক অজ্ঞাতনামা আরো ৩/৪ জনের বিরুদ্ধে একটি গণধর্ষণ মামলা দায়ের করে।
উক্ত ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করলে র্যাব-১১, সিপিসি-২, কুমিল্লা গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অদ্য বুধবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে র্যাব-১১, সিপিসি-২ একটি বিশেষ অভিযানিক দল কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার থানাধীন ধামতী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে উক্ত ধর্ষণ মামলার এজাহারনামীয় ৪ নং আসামি মো. খোকন (৪২), পিতা-আলী মিয়া, সাং-করের ভোমরা, থানা-নাঙ্গলকোট, জেলা-কুমিল্লা’কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
অধিনায়ক লে. কমান্ডার মাহমুদুল হাসান জানান- আটককৃত আসামি খোকন জিজ্ঞাসাবাদে করলে তিনি জানান- মায়া খাতুন (২০) এর সহিত ০১ নং আসামি সহিদ (২৬) এর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ঘটনার দিন সকালে আসামি সহিদ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ভিকটিমকে দেখা করার জন্য আসতে বলে। তখন ভিকটিম মায়া খাতুন তার সাথে অন্য ভিকটিম লাকি বেগম (৪০)’কে নিয়ে বাঙ্গড্ডা বাজারে গেলে আসামি সহিদ ভিকটিমকে নিয়ে অটোরিকশাযোগে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরাফেরা করে এবং এক পর্যায়ে মায়া খাতুন’কে অনৈতিক কাজের প্রস্তাব দেয়।
মায়া খাতুন উক্ত প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাদের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়। পরবর্তীতে আসামি সহিদ সুযোগ বুঝে ভিকটিমকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যায় এবং তার পরিকল্পনা মোতাবেক সেখানে পূর্ব থেকে ৭-৮ জন অবস্থান করছিল। ভিকটিমকে সেখানে নেয়ার পর আসামি সহিদসহ অন্যান্য ৭-৮ জন আসামি মিলে ভিকটিমকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক একাধিকবার ধর্ষণ করে এবং কাউকে কিছু না বলার ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।
পরবর্তীতে ধৃত আসামিসহ অন্যান্য আসামীরা গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যায়। গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মুনতাসির/সাএ
সর্বশেষ খবর